নীড় পাতা » ছবি » এখনো অনেক খেলা বাকি : মনিস্বপন

এখনো অনেক খেলা বাকি : মনিস্বপন

Monishapan-state-minister-of-CHt-affaiersM-01রাঙামাটির রাজনীতির অন্যতম সফল রাজনীতিবিদ তিনি। উপজেলা চেয়ারম্যান পিতার সন্তান হিসেবে নিজেও উপজেলা চেয়ারম্যান,পৌর চেয়ারম্যান,সংসদ সদস্য, পার্বত্য উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সঙ্গীত আর আড্ডাবাজ মনিস্বপন দেওয়ান জীবনের কিছু সময় কাটিয়েছেন শান্তিবাহিনীর হয়ে গেরিলাযুদ্ধেও। তবে এখন তার নতুন যুদ্ধ সবুজায়নে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জায়গাগুলোতে বনায়নে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। সারাজীবনই নানা সামাজিক কাজে ব্যস্ত এই নেতা এখন ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছেন নিজের বাগানগুলোতেই। সম্প্রতি পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডট কম’কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন নিজের বিএনপি ছাড়া,এলডিপিতে যোগদান ও ত্যাগ,রাজনীতির ভবিষ্যত পরিকল্পনা সহ নানান বিষয়। সেই সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-

দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে নীরব থাকা প্রসঙ্গে ঝানু এই রাজনীতিবিদ বলেন,নীরবতাও তো এক ধরণের রাজনীতি,রণনীতি কিংবা কৌশলও।

যেকোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকতেও চায়,যেতেও চায়। আওয়ামী লীগ চায় ছলে বলে কৌশলে ক্ষমতায় থাকতে,বিএনপি যায় একই কায়দায় যেতে। ফলে দুইদলেরই দরকার আসন জেতা। আসন পেতে গেলে কে সভাপতি আর দলের জন্য কার কি অবদান এগুলো হলো ইথিকস্ এর কথা। কিন্তু ক্ষমতায় যেতে ভাড়া করা লোক হোক কিংবা যদু বা মধু হোক তারা মনোনয়ন দিবে জেতার জন্য। আর জেতার জন্য তারা তো মাঠপর্যায়ে জরিপ বা কৌশল নিবেই। সুতরাং এখনো অনেক খেলা বাকী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, রাঙামাটিতে হাতে গোনা লোক,প্রার্থী হওয়ার মতো লোক আছে কয়টা? দীপংকর তালুকদার যদি না দাঁড়ায় বা তাকে দল যদি মনোনয়ন না দেয় তাহলে তার বিকল্প আওয়ামীলীগ নিশ্চয়ই খুঁজতেছে। বিএনপিতেও দীপেন দেওয়ান বা মনীষ দেওয়ান কেউ যদি আসন আনতে না পারে তাহলে তার বিকল্প কে হতে পারে বা তৃনমুল পর্যায়ে ঐ ঘরানার কে আছে এইসব নিয়ে নানান আলোচনা,মেরুকরন হচ্ছে । পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনীতি আর সারাদেশের রাজনীতি এক নয়। এখানকার বাস্তবতা অনেক কঠিন। এখানে বহু রকমের ফ্যাক্টর আছে এগুলো সবসময় হিসেব-নিকেশ করতে হয়। রাজনীতিতে শুধু আমি দাঁড়াবো বললাম আর দাঁড়িয়ে গেলাম, এটা হয়না। দীপেন দেওয়ান ও মনীয় দেওয়ান এগুলো হিসেব-নিকেশ করছে কিনা আমি জানিনা। এখানে আওয়ামীলীগ বিএনপির কিছু নির্ধারিত ভোট রয়েছে যেগুলো মার্কা ছাড়া কিছু বুঝে না। আবার পাহাড়ী ভোটগুলোর মালিকানা তিন পাহাড়ী সংগঠন ইউপিডিএফ ,জেএসএস, জেএসএস (এমএনলারমা)’র। এখানে জেএসএস যেটাকে সমর্থন দিবে বাকী দুটো সেটার বিরোধিতা করবে নিশ্চিত। আবার ইউপিডিএফ যেটাকে সমর্থন দিবে জেএসএস সেটার বিরোধিতা করবে। সুতরাং এই সব পক্ষকে মোকাবেলা করা একটা বড় রকমের চ্যালেঞ্জ।

01কোন দল যোগাযোগ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অট্টহাসি দিয়ে বলেন,সময়েই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপাতত বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই খোলাসা করবেন না বলেও জানান তিনি। তবে তিনি বলেন, উটের দৌড় বা ঘোরদৌড়ে জকি লাগে। জকির দক্ষতা খুব বেশি প্রয়োজন। নির্বাচনেও কোন আসনে কে জিতবে সেটাও নিশ্চয়ই তারা বিবেচনায় নিবে। অনেকে যোগাযোগ করবে,করছে কিন্তু আমারও কিছু নিজস্ব বোঝাপড়ার বিষয় আছে।
বিএনপি বা আওয়ামী লীগ দুইদলই ডাকলে কি করবেন,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,লটারি দিবো।

নিজের দায়িত্বপালনকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন,আমি পৌর মেয়র কিংবা পার্বত্য উপমন্ত্রী থাকার সময় পার্বত্য এলাকার পাহাড়ী বাঙালীকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি,এই কারণেই মানিকলাল দেওয়ানের মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বানিয়েছিলাম। আমি সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে কখনো দৌড়াইনি। রাঙামাটির মানুষের জন্য,উন্নয়নের জন্যই সবসময় কাজ করেছি। ক্রীড়া এবং সংস্কৃতির নানা কার্যক্রমের মাধ্যমেই পাহাড়ের মানুষকে আরো বেশি কাছাকাছি আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের বিএনপি ছাড়া সম্পর্কে সাবেক এই পার্বত্য উপমন্ত্রী বলেন,সে সময় এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিলো যে,আমার বিএনপিতে থাকার মতো অবস্থা ছিলোনা। ম্যাডাম রাঙামাটি এলেন,তার সাথে আমার কথা হয়েছিলো,মাত্র চারটি ঘোষনা দিবেন তিনি। পাহাড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু,হেডম্যান কার্বারিদের ভাতা বৃদ্ধি,রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের ঘোষণা এবং এসপি অফিস উদ্বোধন করার কথা ছিলো তার। কিন্তু তার বক্তব্যের আগে সালাউদ্দিন কাদের এমন কিছু কথা বললেন,নেত্রী আর মোবাইল ফোন বা অন্য কোন ঘোষণা দিলেন না। নেত্রী এসপি অফিস উদ্বোধনের কথা ছিলো,সেটি উদ্বোধন করতে গেলেই তিনি জেলা বিএনপির চমৎকার অফিসটি দেখতেন,আমার সম্পর্কে একটি ভিন্ন ধারণা পেতেন,কিন্তু ষড়যন্ত্রকারিরা তাকে এসপি অফিসও উদ্বোধন করতে দেয়নি। ফলে আমার মনটা ভেঙ্গে যায়। এছাড়া এমন কিছু ঘটনা চলছিলো,যা মেনে নেয়া কঠিন ছিলো আমার জন্য। আমি দলের দায়িত্বে অথচ দীপেন দেওয়ানকে ঘিরে তখনই একটি তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছিলো,তাই আমি বাধ্য হয়ে বিএনপি ছাড়তে হলো। কারণ নিজে অসম্মানিত হওয়ার আগে নিজ থেকেই সড়ে যাওয়াটা ভালো মনে করেছি। সেই সময়ে কি কারণে কি হয়েছিলো যদি কোনদিন বেগম জিয়া আমাকে ডাকেন তাহলে আমি তাকেই সব বলবো।02

এলডিপিতে যোগদান ও ত্যাগ সম্পর্কে তিনি বলেন,অলি সাহেব যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন তার কথা আর কাজের মধ্যে পরে কোন মিল খুঁজে পাইনি। অতিরিক্ত কথা বলে তিনি সব বিষয়ে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেন। তাকে আমি অনেকবার বিভিন্ন বিষয়ে বলার চেষ্টা করেছি,বুঝিয়েছি,কিন্তু তিনি নিজেরটাই বোঝেন,অন্যের মতামতের তোয়াক্কা করেন না। তাই যে বিশাল স্বপ্ন নিয়ে এলডিপি শুরু হয়েছিলো সেই এলডিপি এখন ‘লাল দীঘির পাড় ! ’ ( এল= লাল,ডি= দীঘির, পি= পাড়) !! শুধুমাত্র অলি আহম্মেদের একরোখা মনোভাব এবং একগুয়েমির কারণে একটি বিকল্প রাজনীতির সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে বলে জানান মনিস্বপন।04

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে ফিরতি রথযাত্রা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ফিরতি রথযাত্রা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। ফিরতি রথযাত্রা উপলক্ষে শহরের শ্রীশ্রী গীতাশ্রম মন্দির থেকে …

Leave a Reply