নীড় পাতা » খেলার মাঠ » এক মাঠ প্রেমীর গল্প

এক মাঠ প্রেমীর গল্প

বয়স ৬০ ছুঁইছুঁই; হালকা গরনের লম্বা এক মানুষ। সব চুল পাকা, তবুও রঞ্জনি দিয়ে কালো রাখার চেষ্টা। মাঠ পাড়ার খুব পরিচিত মুখ। মাঠপাড়ায় যারা যাতায়াত করে তারা সবাই জানে মাঠেই তাকে পাওয়া যাবে। মানুষটিকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছেন না চলে আসুন মারী স্টেডিয়ামে, আসলেই দেখা মিলবে হাসিমাখা এই মানুষটির। এ এক অসাধারণ মাঠ প্রেমের গল্প, যেখানে মাঠই তাঁর প্রেমিকা যাকে আগলে রাখতে চায় প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ। কোন কাজ না থাকলেও রোজ যেতে হবে তাকে মাঠে হয়তো মাঠের কোন কাজে, না হয় মনের টানে।

করোনাকালীন সময়ে প্রতিদিন যেতে পারে না মাঠে তারপরও মানুষটি সুযোগ পেলে একবারের জন্য হলেও চলে যায় মাঠে। নিজ সংসারের চেয়ে মাঠ যে অনেক বড় তার কাছে। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়েছেন মাঠ পাড়ায়। মাঠে ঘুরে, আড্ডা, খেলার কোন কাজে বা মনের খোড়াক মেটাতে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে জড়িতরাও খুব ভালো করে জানে প্রতিদিন স্টেডিয়ামে আর কেউ আসুক বা না আসুক একজন আসবে তিনি আর কেউ নন ‘হুমায়ন’। তবলছড়ি থেকে প্রতিদিন নিজের টাকা খরচ করে স্টেডিয়ামে যাওয়াটা তার প্রধান কাজ ও নেশা।

এতক্ষণ যে মানুষটির কথা বলছি তাঁর নাম মো. হুমায়ন কবির রাঙামাটির স্বনামধন্য অভিলাষ ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি, সাবেক খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক ও রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকারী কমিটির সদস্য। প্রতিদিন আর কিছু করুক আর না করুক প্রতিদিন তার যেতে হবে স্টেডিয়ামে। মাঠে হাটবেন, মাঠ দেখবেন, খেলায় যদি কেউ অনুশীলন করেন তাদের খোঁজ নিবেন, নিয়ম করে খোঁজ নেয় স্টেডিয়ামের কর্মচারীদেরও।
সব সময় সদা হাসিমুখে কথা বলবে সবার সাথে। হুমায়নের ব্যক্তি চাহিদাহীন চেহারায় যেন ফুটে থাকে শুধু মাঠ প্রেমের গল্প। আছে মাঠ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আছে প্রশিক্ষণ তাঁর। যে কোন টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মাঠ প্রস্তুতির দায়িত্ব থাকে হুমায়নের ওপর। খেলাধুলা নিয়ে খুবই আন্তরিক তিনি সবসময় চায় যাতে মাঠে খেলা থাকে। এমনকি নিজ পাড়ায় ছেলেরা খেধুলা করছে কিনা সে খোঁজও রাখেন নিয়মিত।

কি আছে মাঠে, কেন যান? এমন প্রশ্ন করলে হাসতে হাসতে জবাব দিয়ে হুমায়ন কবির বলেন, আমি মাঠে যাই না, আমার রক্ত আমাকে টেনে নিয়ে যায় মাঠে। স্টেডিয়াম বা মাঠ আমার রক্তের সাথে মিশে আছে। মাঠেই আমি প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাই, আমার বেঁচে থাকার শক্তি জোগায় এই মাঠ। মাঠ আমার সন্তানের মত। মাঠে আসতে না পারলে খুবই অস্থির লাগে। না খেয়ে থাকার কস্টটা সহ্য করতে পারি কিন্তু মাঠে যেতে না পারার কষ্টটা সহ্য করা অনেক কঠিন। আমি চাই প্রতিটা মুহুর্ত মাঠ মুখরিত থাকবে খেলোয়াড়দের পদচারণায়।

প্রসঙ্গত, রাঙামাটির নাট্যব্যক্তিত্ব মো. আলী আহম্মদ পেশকারের ছেলে মো. হুমায়ন কবির। হুমায়ন এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর ছেলেও বয়সভিত্তিক রাঙামাটি জেলা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়। এমন মাঠ পাগল মানুষদের জন্যই মুখরিত থাকে স্টেডিয়াম। মাঠের প্রেমে পাগল এমন মানুষের জন্যই হয়তো সবুজ মাঠও গায় জীবনের গান।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

চলে গেলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পিন্টু

রাঙামাটি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু আর নেই। বুধবার বিকেল তিনটায় তিনি …

Leave a Reply