এক দশকে সর্বোচ্চ পানি কাপ্তাই হ্রদে

kaptai-damগত দশ বছরের মধ্যে বছরের এই সময়টায় এতো পানি ছিলোনা কাপ্তাই হ্রদে,অথচ এবার তুমুল বৃষ্টি আর টানা বর্ষনে হ্রদের পানি অতিক্রম করছে স্বাভাবিক প্রবাহের চেয়েও অনেক উপরে। সোমবার কাপ্তাই হ্রদে পানির লেভেল ছিলো ১০৬.৪১ ফুট (মীনস সি লেভেল)। অথচ গত শনিবার দুপুর বারোটা থেকে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ টি গেট খুলে দিয়ে সেকেন্ডে প্রায় ২৫ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে এবং একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মেশিনের মাধ্যমেও বের হচ্ছে সেকেন্ড আরো প্রায় ৩৫ হাজার কিউসেক পানি,অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে নিয়ন্ত্রন রাখতে হচ্ছে বাঁধের ! তারপরও হ্রদে বর্তমানে পানির লেভেল প্রায় ১০৬.৪১ ফুট। যা গত বছরও সর্বোচ্চ ছিলো মাত্র ১০১ ফুট। সাধারনত বছরের এই সময়টায় কাপ্তাই হ্রদে স্বাভাবিক পানি থাকে ৯০ এমএসএল ফুট। অবশ্য কাপ্তাই বাঁধ ১০৯ ফুট পানি ধারণা ক্ষমতা বহন করে । এবছর পানি ছেড়ে দেয়া না হলে ইতোমধ্যেই এই ধারণা অতিক্রম করে প্লাবিত হতো নিম্মাঞ্চলের চট্টগ্রামের বহু এলাকা। তবে আশার কথা হলো,কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের এই ভরাপানির মৌসুমে উৎপাদিত হচ্ছে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ। এখন প্রায় প্রতিদিনই ২৩৬/৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মো: আব্দুর রহমান জানিয়েছেন,কাপ্তাই হ্রদের এই পানি বছরের এই সময়ে অস্বাভাবিক,গত দশ বছরের রেকর্ড ঘেটেও বছরের এই সময়টায় এমন পানি দেখা যায়নি। সাধারন আরো দুয়েকমাস পরে ভরা বর্ষা শেষের দিকে পানির উচ্চতা এমন থাকে,কিন্তু এই সময় এতো পানি হয়না। যেহেতু হ্রদের ধারণা ক্ষমতার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হয়,একইসাথে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভাটিতে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শংকার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়,সেহেতু আমরা পানি ছাড়ার ক্ষেত্রে ভীষণ সতর্ক থাকি।

তিনি জানান,সাধারন আগষ্টের শেষের দিকে কিংবা সেপ্টেম্বরেই হ্রদে পানি বেশি থাকে। কিন্তু এখন যে পানির লেভেল তা এই সময়ের সাথে যায়না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে তাই আমরা প্রতি মুহুর্তেই পানি ছেড়ে দিচ্ছি ১৬ টি গেট আংশিক খুলে দিয়েই।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বছরের এই সময়েই বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় পুরো পাহাড়ের এর প্রভাব পড়েছে। উপজেলাগুলোর সাথে জেলা শহরের যোগাযোগ সুবিধা আবার শুরু হওয়ার কারণে উপজেলাবাসি খুশি হলেও হ্রদের তীরে বসবাসকারিরা পড়েছেন বিপাকে। হ্রদের তীরে বসবাস করা অসংখ্য কাঁচা বাড়ীঘরের মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদ স্থানে। সরকারের আশ্রয়কেন্দ্রেও আছেন অনেকেই। আবার যারা নিতান্ত বাধ্য হয়েই বিকল্প না থাকায় বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা আছেন ঝুঁকিতে।

হ্রদের পানির অতিরিক্ত চাপে ঝুঁকিতে পড়েছে রাঙামাটি শহরের ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পরিচিত ফিসারি সংযোগ সড়কটি। দুপাশের পানির চাপে সংযোগ সড়কটির দুপাড়ের বেশ কিছু গাছ উপড়ে পড়েছে,সড়কের দুইধারের মাটিও খসে পড়ছে। সবমিলিয়ে ঝুকিতে পুরো সড়কটি। পাশাপাশি শহরের হ্রদবর্তী এলাকাগুলোর মানুষও আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ঘটনায় হতোদ্যম হয়ে পড়েছেন।

ইতোমধ্যেই হ্রদের বাড়তি পানির কারণে ডুবে গেছে রাঙামাটিতে বেড়াতে পর্যটকদের প্রিয় স্থান ঝুলন্ত সেতুটিও। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে রবিবার থেকেই সেতুটির পাটাতন পানিতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন কর্পোরেশন এর রাঙামাটির ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা।

তিনি জানিয়েছেন,সেতুটির পাটাতন পানির নীচে যাওয়ায় বর্তমানে কমেপ্লেক্সে টিকেট বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে,তবে সেতুর অপরপারের লোকজনের চলাচলের সুবিধার্থে এখনো সেতুটি বন্ধ করে দেয়া হয়নি।
রবিবার থেকে আকাশ বৃষ্টিহীন হওয়ায় এবং রোদ উঠার কারণে সেতুটির পাটাতনের পানি দুই/একদিনের মধ্যেই কমে গিয়ে পর্যটক চলাচলের উপযোগি হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে হ্রদে গত প্রায় তিন মাস বন্ধ ধরা হ্রদে মৎস আহরণ আবার চালুর ব্যাপারে সোমবার মৎস ব্যবসায়ি,মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হলেও আকস্মিক পানি বৃদ্ধির কারণে আরো একমাস পরে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাছ আহরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply