নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » এক কলমে পাল্টে গেলো ভোটের হিসাব !

এক কলমে পাল্টে গেলো ভোটের হিসাব !

dig-voteখাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলাফল বিবরণীতে এক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কেটে বাড়ানো হয়েছে এবং জালিয়াতির মাধ্যমে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে পরাজিত প্রার্থীকে। আর সংখ্যা কেটে পরিবর্তনের কারণে ভোটারের চেয়ে ভোট বেড়েছে। এ ঘটনায় বাদি হয়ে খাগড়াছড়ি যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সদস্য প্রার্থী জয়নাল আবেদীন।

জানা যায়, ঘটনাটি উপজেলার কবাখালি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ অফিস ভোটকেন্দ্রে। ২৩এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সে কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়ীত্বে ছিলেন রসিকনগর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার আনিছুর রহমান। সেখানে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ছিলেন দুইজন। একজন জয়নাল আবেদীন মোরগ প্রতীক অন্যজন আবুল কালাম আজাদ টিউব ওয়েল প্রতীক। মোরগ প্রতীকে ১ ভোট বেশি পেয়ে জয়নাল আবেদীন বিজয়ী হয়েছে বলে কেন্দ্রে ভোট গণনার পর জানানো হয়। কিন্তু উপজেলা সদরে গিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার ফলাফল বিবরণী কেটে আজাদকে বিজয়ী দেখান।

জয়নাল জানান, প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরনীতে টিউবওয়েল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৪০৮, কিন্তু সেটিকে কেটে দিয়ে পাশে লেখা হয়েছে ৪২১। আর মোরগ প্রতীকে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৪০৯। বাতিল ভোট দেখানো হয়েছে ৫৫। মোট প্রাপ্ত ভোট ৮৮৫। অনুপস্থিত ভোটার সংখ্যা লেখা হয়েছে ১৩৯। সে হিসাবে উপস্থিত আর অনুপস্থিত মিলে ভোটার সংখ্যা দাড়ায় ১হাজার ২৪। কিন্তু একই ফলাফল বিবরনীর উপরের অংশে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৯৯৪। জয়নালের অভিযোগ অবৈধভাবে আজাদকে বিজয়ী দেখানোর জন্য টিউবওয়েল প্রতীকের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কেটে বাড়ানোর কারণে মোট ভোটারের চেয়ে ভোটের পরিমাণ বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন (নং-নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল-২/১৬)। dighinala-(khagrachari)-pic

এব্যাপারে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ জানান, কেটে থাকলে প্রিজাইডিং অফিসার কেটেছে তিনি এর কিছু জানেননা।

জয়নালের আইনজীবী আক্তার উদ্দিন মামুন জানান, প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরনীতে টিউবওয়েল প্রতীকের ভোটের সংখ্যা কেটে বাড়ানো হয়েছে তা ষ্পষ্ট দেখা যায়। এবং সে ফলাফল বিবরণীতে ভোটার আর ভোটের হিসাবে মিল নেই। এতে ষ্পষ্টযে মোরগ প্রতীকের প্রার্থীকে অসদুপায়ে পরাজিত দেখানো হয়েছে।

মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার আনিছুর রহমান বলেন, ‘ভাই আমি একটি প্রশিক্ষনে চট্টগ্রাম এসেছি। ভোটের ব্যাপারটা আসলে আমার একটা ভুল। ভাই আর যা-ই করেন আমার চাকুরীর যেন ক্ষতি না হয়। ফিরে এসে বিস্তারিত বলব।’ এর পর তিনি ফোন কেটে দেন।

রিটার্নিং অফিসার জহরলার চাকমা জানান, একটানে সংখ্যাটা কেটে প্রতিস্বাক্ষর করাতে বিবরনীটি গ্রহণ করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বাহিরে আছি, কপিটা দেখে ভোটার আর ভোটের হিসাবের ব্যাপারটা বলা যাবে।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা হলেন দীপংকর তালুকদার

বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ রাঙামাটি জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা হয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী …

Leave a Reply