নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » একুশে পদক প্রাপ্ত মংছেনচীং মংছিনের জীবনাবসান

একুশে পদক প্রাপ্ত মংছেনচীং মংছিনের জীবনাবসান

মংছেনচীং মংছিন

একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক মংছেনচীং মংছিন মারা গেছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাঙামাটিতে বড় মেয়ে প্রিয়াংকা পুতুলের বাসায় তাঁর মৃত্যু হয়। মংছেনচীং দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস ও ব্রেইনে দুরারোগ্য মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আসেন।

মংছেনচীং ২০১৬ সালে ২০ ফেব্রুয়ারি গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে পদক পান। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীদের মধ্যে তিনিই প্রথম এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ১৯৬১ সালের ১৬ জুলাই কক্সবাজার জেলায় রাখাইন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৫৮ বছর। শৈশব থেকে লেখালেখির প্রতি বিশেষ জোঁক ছিল তার। সেখান থেকেই শুরু।

১৯ বছর বয়সে ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয় মংছেনচীংয়ের প্রথম বই কক্সবাজার রাখাইন ছাত্র সমাজ। এর পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে লিখে গেছেন বহু বই। মংছেনচীংয়ের মূল বিষয় ছিল রাখাইন জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, কৃষ্টি-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য নিয়ে। কখনোবা উঠে এসেছে দেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে।

মংছেনচীং কক্সবাজার কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর বাইবেল বিষয়ে ডিপ্লোমা পাস করেন। পেশায় সাংবাদিক মংছেনচীং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাঙামাটি থেকে প্রকাশিত দৈনিক গিরিদর্পণের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তিনি পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে বসবাস করতেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যা সহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী শোভারাণী ত্রিপুরাও একাধারে শিক্ষিকা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৭ সালে বেগম রোকেয়া পুরষ্কার প্রাপ্ত হন।

রোববার মহালছড়িতে সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী দাহকার্য সম্পন্ন অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েতে পরিবারের অসম্মতি, অতপর…

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মুবিনা আক্তার নয়ন (১৬) নামের এক তরুনী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে …

Leave a Reply