নীড় পাতা » পার্বত্য উন্নয়ন » একরাতেই শেষ ‘দায়সারা’র রাস্তা !

একরাতেই শেষ ‘দায়সারা’র রাস্তা !

langudu-road-01রাঙামাটি লংগদু উপজেলার বাইট্টাপাড়া গ্রামে গত ১৪ নভেম্বর একরাতেই প্রধান সড়কের সাথের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে এই কাজটি করেন পার্বত্য এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারি প্রবাশীষ কর মুন্না।

ওই এলাকার বাসিন্দা মোঃ সোহেল রানা জানিয়েছেন, ওইদিন সন্ধ্যায় সময়,সাড়ে পাঁচটার দিকে দেখলাম গাড়ি করে বালু,সিমেন্ট আর কংকর আনা হলো। আমি উৎসুক হয়ে দেখতে গেলাম এবং এলেন তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, রাস্তা নির্মাণ কাজ হবে,রাত ৮ টায় আমি আমার বাসায় চলে যাই,তখনো কাজ শুরু হয়নি। পরদিন সকাল ১০টায় এসে দেখি রাস্তা হয়ে গেছে ! যেনোতেনোভাবে একরাতেই শেষ করা হয়েছে রাস্তার কাজটি। আমরা স্থানীয় এলাকাবাসি অবাক এক রাতেই কিভাবে রাস্তাটি হলো !

ওই এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর জানিয়েছেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পারি রাস্তাটি হওয়ার কথা ছিল ৪২৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ,কিন্তু হয়েছে ৩৫০ ফুট দৈর্ঘ্য আর ৮ ফুট প্রস্থ। আমরা বিভিন্ন ভাবে ঠিকাদারর সাথে যোগাযোগের করতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।langudu-road-02

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী সড়কটিতে ঢালাই দেয়ার জন্য ঠিকই মাটি কেটে প্রস্তুত করা হলেও পরে পুরো জায়গাটিতে সড়ক না করে একরাতেই দায়সারাভাবে প্রায় ৭৫ ফুট জায়গা বাদ রেখেই ঢালাই দেয়া হয়েছে। খালি পড়ে আছে বাকী অংশটি।

বাইট্টাপাড়া বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক কল্যান চৌধুরী জানান, যখন কাজ শুরু করে তখন আমি মিস্ত্রি’র কাজের শিডিউল দেখতে চাই, তখন মিস্ত্রি তার কাছে সিডিউল নাই বলে জানায় এবং বলেন, ঠিকাদার কাজ করতে বলেছে, আমি করছি, আমি এর বেশি কিছু জানিনা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি শুনেছি কাজটি ৪২৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ প্রস্থ হওয়ার কথা থাকলেও সেটা করা হয় নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, ঠিকাদার প্রভাশীষ কর মুন্না পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, অল্প টাকার কাজ আমি কি ১ মাস ধরে করবো নাকি ? আমার লোক রাঙামাটি থেকে গেছে, কাজ শেষ করে চলে এসেছে। সড়কের দৈর্ঘ্য প্রস্থের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে অফিস থেকে যেভাবে করতে বলেছে, আমি সেভাবে করেছি। এবিষয়ে আমাকে বলে কোন লাভ নাই, যা বলার আপনারা অফিসে বলেন।

বাইট্টাপাড়া মসজিদের ইমাম মাওলানা মো: জলিল বলেন, আমার কাছেও বিষয়টা খারাপ লেগেছে এবং এটি বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিকে বলেছি। এটা উচিত হয়নি। এভাবে সরকারি বরাদ্দ নষ্ট করলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী দীলিপ কুমার চাকমা পরিচয় জানার পর মিটিংয়ে আছেন বলে মোবাইল সংযোগ কেটে দেন এবং পরে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply