নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » একদিন সংসদ সদস্য হবেন, ভাবেননি উষাতনও

একদিন সংসদ সদস্য হবেন, ভাবেননি উষাতনও

usa-cover-1‘জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছিলাম ১৯৭০ সালে তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মানবেন্দ্র নারায়ণ (এম এন) লারমাকে। পরে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর (এম এন লারমা) নির্বাচনী প্রচারকাজে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো দিন ভাবিনি, আমিও একদিন সংসদ সদস্য হব।’

একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী  ঊষাতন তালুকদার ।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আদিবাসীদের নেতা এম এন লারমার পর ঊষাতন তালুকদার। ৪০ বছর পর জনসংহতি সমিতি সংসদে তাদের দ্বিতীয় প্রতিনিধি পেল। এম এন লারমার আদর্শে দীক্ষিত ঊষাতনও তাঁর নেতার মতো জাতীয় সংসদে পাহাড়ি, বাঙালি, কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরতে চান। পার্বত্যচুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন গড়তে চান।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হবে পার্বত্যচুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা, পাহাড়ি বাঙালি সর্বস্তরের জনগণের সুষম উন্নয়ন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করা এবং নারীর সমমর্যাদা ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া।’

DSC00151
সদা হাস্যজ্জ্বল স্ত্রী উৎপলা তালুকদারের সাথে উষাতন তালুকদার

নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক মনোভাব পোষণের অভিযোগ তুলেছিলেন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি সে ধরনের সাম্প্রদায়িক চিন্তাভাবনা কখনো পোষণ করিনি। আর নির্বাচিত হয়েছি পাহাড়ি-বাঙালি সবার ভোটে। এলাকার সব সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করব।’

সাদাসিধে অমায়িক ঊষাতন তালুকদার ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি। পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রথম সারির এই নেতার জন্ম ১৯৫০ সালের ৫ আগস্ট। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে পড়াশোনা করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি নেন ঊষাতন। ছাত্রজীবনে স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের করাচিতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় জাম্বুরিতে অংশ নিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ইউওটিসির (ইউনিভার্সিটি অফিসার ট্রেনিং কর্পস) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ঊষাতন তালুকদার ১৯৯৯ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম কেন্দ্রীয় সহসভাপতি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সহসভাপতিও ছিলেন।

(সাংবাদিক হরিকিশোর চাকমা’র এই রিপোর্টটি দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার। তার অনুমতি সাপেক্ষে রিপোর্টটি পাহাড় টোয়েন্টিফোর ডট কম এর পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply