নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » একটি ফ্যাক্সের জন্য প্রতীক্ষা…

একটি ফ্যাক্সের জন্য প্রতীক্ষা…

fax-picযেকোনও মুহূর্তে ঘোষণা করা হতে পারে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ। পার্বত্যবাসীও অপেক্ষা করছে কখন ঘোষণা করা হবে পরবর্তী পরিষদের কর্তাব্যক্তিদের। দীর্ঘ সময় এনিয়ে জেলার নেতৃবৃন্দ কোনো মন্তব্য না করলেও কৌতুহলী মানুষের অনুসন্ধিৎসু মন ঠিকই বের করে আনছেন কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী পরিষদের কান্ডারি।

অনগ্রসর পাহাড়ি অধ্যুষিত রাঙামাটি পার্বত্য জেলার সার্বিক উন্নয়নকল্পে দেশের অন্যান্য জেলা থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের রাঙামাটি পার্বত্য পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ যাত্রা শুরু করে ১৯৮৯ সালে। পরিষদ আইন, ১৯৮৯ অনুযায়ী একই বছর ২৫ জুন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ পরিষদ গঠিত হয়। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তির পর চুক্তির আলোকে ১৯৯৮ সনের ৯নং আইন দ্বারা পরিষদ আইন সংশোধন করা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ’ এর নাম ‘রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ’ এ পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে গঠিত স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিলো চেয়ারম্যানসহ ৩১ জন। তবে ৯৮’সালের সংশোধনী অনুযায়ী সদস্যসংখ্যা চেয়ারম্যানসহ ৩৪ জনে বৃদ্ধি করা হয়। পরিষদগুলোর নির্বাচন না হওয়ার কারণে ৩৪ সদস্যের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ৫ জন সদস্য নিয়ে পরিষদ পরিচালনা করা হলেও পরবর্তী পরিষদের আকার বৃদ্ধি করে তা দাঁড়াচ্ছে ১৫ জনে। কিন্তু প্রথমবার নির্বাচনের পর দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। চুক্তির পর যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে সে সরকারই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্য নির্বাচিত করেছেন। অতীতে চেয়ারম্যান-সদস্য নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলার নেতৃবৃন্দের আজ্ঞাবহ ব্যক্তিই পছন্দের প্রথম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে অন্যান্য যোগ্যতা গৌন থাকলেও নেতার আজ্ঞাবহ কর্মীই পরিষদে নিযোগ দেওয়া হয়। সে হিসেবে এবারও ‘জ্বি-দাদা’ নিয়োগের পথে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।

রাঙামাটি জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রধান কান্ডারি দীপংকর তালুকদার। দশম নির্বাচনে তার পরাজয়ের পর বিভিন্ন মহল কেন্দ্রে তার ক্ষমতা কমেছে মন্তব্য করলেও পরবর্তীতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে ফিরোজা বেগম চিনু’র নিয়োগ ও রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের পাঠদান শুরু প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার ক্ষমতার অবস্থান জানান দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী জেলা পরিষদে কারা আসছেন তাও একমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের কান্ডারি ‘দাদা’ ছাড়া জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ একেবারেই অগোচরে। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কোন ১৫ ব্যক্তি আসছেন ইতোমধ্যে তা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেই ১৫ ব্যক্তির নাম একমাত্র দীপংকর তালুকদার ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ছাড়া সকলেরই অগোচরে রয়েছে।

দীপংকর তালুকদারও এবার জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ তার অনুসারীদের নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন বলেই নিশ্চিত করেছে আওয়ামলীগের বিভিন্ন সূত্র। যোগ্যতা কম থাকলেও শুধুমাত্র জ্বি-দাদা’র কারণে অনেকের যেমন কপাল খুলছে, তেমনি দাদা’র হাত ছাড়াও অন্য হাত শক্তিশালী করতে গিয়ে কপাল পুড়ছে কারো কারো।

গতবারের জ্বি-দাদা’র কারণে যেমন নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, তেমনি রাজনীতির বিভিন্ন প্যাঁচে ‘জ্বি-দাদা’র ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারায় তার কপাল পোড়ার সম্ভাবনা বেশি। নানান কারণে দাদার বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো নিখিল তাই সম্ভবত: বিদায়ই নিচ্ছেন ! অন্যদিকে বর্তমান পরিষদের সদস্য বৃষকেতু চাকমা গতবার জ্বি-দাদা’র কারণে পরিষদের ভাগ্যবান চার সদস্যের মধ্যে একজন নির্বাচিত হলেও এবার আরো বেশি পদোন্নতি লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তার শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অন্যান্য যোগ্যতা কম থাকলেও একমাত্র দীপংকর তালুকদারের বেশ আস্থাবান কর্মী হিসেবে পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান পরিষদের সদস্য অংসুই প্রু মারমা বেশ শক্তিশালী অবস্থান ও দাদার আস্থায় থাকলেও জাতিগত দিক বিবেচনায় চেয়ারম্যানের প্রায় নিশ্চিত দাবিদার হয়েও পদটি হারাতে পারেন। আবার এদের বাদ দিয়ে নব্য আওয়ামী লীগারদের মধ্যেও কেউ কেউ পরিষদে আসার সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রেও জ্বি-দাদা’র প্রাধান্য থাকবে সবচে বেশি।

জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখনো পর্যন্ত রাঙামাটির আওয়ামী লীগ বলতে দীপংকর তালুকদারকেই বোঝায়। তার কথার বাইরে কোনো কথা বলা সম্ভব না। তাঁর শতভাগ অনুসারীদেরই তিনি জেলা পরিষদের ক্ষমতায় বসাবেন,এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন। তিনি আরো বলেন, দাদা কথা কেনেন, বিক্রি করেন না।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

One comment

  1. যারা চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য হবেন তাদের খুব বেশী খুশী হওয়ার কারন নাই। এ পর্যন্ত যারাই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য হয়েছেন তারা পাবলিকের কাছে (এমনকি নিজের দল) গ্রহনযোগ্যতা হারিয়েছেন (২/১ জন বাদে)। তাদেরকে পাবলিক কথায় কথায় গালি দেয় এবং তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ১২ টা বাজানোর জন্য জেলা পরিষদের সদস্য হওয়ায় যথেষ্ট। আর আখের গোছানোর কথা ভেবে যারা সদস্য হবেন তারা সেই পরিমান সময় পাবে কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে……….

Leave a Reply

%d bloggers like this: