নীড় পাতা » ফিচার » খোলা জানালা » একটি কৌতুক এবং পাওয়া না পাওয়ার বছর ২০১৬

একটি কৌতুক এবং পাওয়া না পাওয়ার বছর ২০১৬

ফেসবুক থেকে পাওয়া একটি মজাদার কৌতুক। এই কৌতুকটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সমাজ সেবা কর্মকর্তা শ্রদ্ধাভাজন অভিজিৎ দাদার পোস্ট থেকে পাওয়া। কৌতুকটি বিধির বিধান এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম অন্তত নতুন বছরের প্রথম দিনটি যাতে সবার মনে একটু হলেও হাসির খোরাক জুটাতে পারে সে জন্য।

এক লোক একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ঢুকে দেখলেন তিনটা দরজা।
১ম দরজায় লেখা: বাঙালি খাবার,
২য় দরজায় লেখা : ইংরেজি খাবার,
৩য় দরজায় লেখা: চায়নিজ খাবার।
লোকটি তাঁর পছন্দ অনুযায়ী চায়নিজ খাবারের দরজায় ঢুকলেন। সেখানে আরও ২টি দরজা দেখতে পেলেন।
১ম দরজায় লেখা: বাড়ি নিয়ে গিয়ে খাবেন?
২য় দরজায় লেখা: এখানেই খাবেন? লোকটি রেস্টুরেন্টেই খেতে চেয়েছিলেন তাই ‘এখানেই খাবেন?’ লেখা দরজায় ঢুকলেন। সেখানে আরও দুটি দরজা দেখতে পেলেন তিনি।
১ম দরজায় লেখা: এসি;
২য় দরজায় লেখা: নন এসি। লোকটি এসি রুমে খেতে চেয়েছিলেন তাই এসি লেখা দরজায় ঢুকলে সেখানে আরও ২টি দরজা দেখতে পেলেন।
১ম দরজায় লেখা: নগদ টাকায় খাবেন?
২য় দরজায় লেখা: বাকিতে খাবেন? । লোকটি ভাবলেন বাকি খেলেই ভালো হয়, তাই তিনি ‘বাকিতে খাবেন?’
লেখা দরজাটা খুললেন। খুলতেই নিজেকে দেখতে পেলেন তিনি রাস্তায় বেড়িয়ে পরেছেন। আর বাইরে একটা দেয়ালে লেখা ‘পাগলা হাওয়া খা’

উপরের কৌতুকটির সাথে গেল ২০১৬ সালের রাঙামাটির কিছু ঘটনার কাকতালীয় মিল খুজে পাওয়া যায়। অর্থাৎ ২০১৬ সালের শুরুতে যা ছিল ২০১৬ সালের শেষে এসেও একই চিত্র দেখা গেল। ২০১৬ সালের শুরুতে যে অবস্থা ২০১৬ সালের শেষেও একই অবস্থা এবং ২০১৭ সালের শুরুতেও একই অবস্থ তা হলে ২০১৭ সালের শেষে এসেও কি অবস্থা হবে ?

২০১৬ সাল রাঙামাটির পর্যটন শিল্পের জন্য ছিল একটি ইতিবাচক বছর। বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই সময় এখানে প্রচুর সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটেছিল। বলা যায় চাঙ্গা ছিল এখানকার পর্যটন শিল্প। পর্যটন শিল্প নিয়ে বছরব্যাপী নানান ধরনের সেমিনার, আলোচনা সভা, কর্ম পরিকল্পনা সভা, পরামর্শক নিয়োগ, বিশাল পরিকল্পনা কোন কিছুর অভাব না থাকলেও বছরের শেষ দিনে এসেও সেই বছরের শুরুর দিনের চিত্রের দেখা মিলে। অর্থাৎ সব কিছুই সেই আগের মতো। পর্যটকদের আগমন বেড়েছে কিন্তু পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা ন্যূনতম পর্যায়েও বৃদ্ধি পায়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে রাঙামাটি শহরে একাধিক পর্যটনবান্ধব উন্নয়ন কাজ করা হলেও সুফল পাওয়া যায়নি। রাঙামাটি পার্ক এলাকায় পর্যটকদের সুবিধার জন্য একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হলেও সেই টয়লেট কিন্তু চালু করা হয়নি। বছরের শেষ দিনগুলোতে প্রতিদিন এখানে পর্যটকবাহী শতশত যানবাহন আসলেও যানবাহন রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। অনেকেই ব্যর্থ মনে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে বছরের প্রথম দিনে আশার কথা শোনা গেছে আর তা হলো রাঙামাটি পার্কের উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। এই খবর নিঃসন্দেহে হতাশার মাঝে আশার আলো।

এবছরেও এখানে পরিবহন সেক্টরের আশাতীত কোনও উন্নয়ন হয়নি। রাঙামাটিবাসী সেই পাহাড়িকা কিংবা দ্রুত যানের যাঁতাকলে পিস্ট ছিল। উন্নতি হয়নি যাত্রী সেবার। মন্দের মধ্যে ভাল বলতে বলা যায় শ্যামলীর বিলাস বহুল এসি বাস এবং সেন্ট মার্টিন এর এসি বাস চালু। তাও সেন্টমার্টিন বাস সার্ভিস চালুর পরেও মালিক সমিতির বাধার মুখে কয়েকদিন বন্ধ ছিল। পরে মালিক সমিতির সাথে দফারফা করেই বাস চালানোর অনুমতি মিলে। রাঙামাটির বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ এবছরও নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমিয়ে ছিল। তাদের তথ্য মতে এখানে চলাচলরত সকল বাস ফিট। অর্থাৎ বাস ফিট তবে যাত্রীরা আনফিট। কাজেই আনফিট যাত্রীদের নিয়ে প্রায়শ দুর্ঘটনার খবর ছিল পত্রিকার পাতা জুড়ে। এটাও সেই কৌতুকের সমাপ্তি জের। ঘুরে ফিরে সেই আগের হিসাব।

রাঙামাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক চিত্রে এই সময়টা খুব বেশি শুভকর ছিল না। জেলা পর্যায়ের একমাত্র জেনারেল হাসপাতালে রোগীর আধুনিক চিকিৎসার কোনও যন্ত্রপাতি না থাকায় প্রায়শ রোগীদের রোগ নিরূপণের জন্য ছুটতে হয় বেসরকারি ল্যাবগুলোতে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয়রা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনেক আন্তরিক হলেও তাদের সীমিত সামর্থের কারণে এবছরও হাসপাতালের আলোচিত প্রেসক্রিপশন ছিল রেফার টু চিটাগাং। তবে এই প্রেসক্রাইপ পালন করতে গিয়ে বিশেষ করে রোগীর অ্যাম্বুলেন্স যোগাড় করাটা রোগীর স্বজনের জন্য কি পরিমাণ কষ্টদায়ক ছিল শুধুমাত্র সাংবাদিক হরি কিশোর চাকমার দুর্ঘটনার পরবর্তী ধাপ পর্যালোচনা করলেই বুঝা যায়। অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছর ও জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের সপ্তাহে দুই দিন কিংবা একদিন কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়টি ছিল ধারাবাহিক। সপ্তাহে ৬ দিন হাসপাতাল খোলা থাকলেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের সপ্তাহ হতো দুই দিন দিয়ে। তবে এবছর হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসা এবং গাইনী ওয়ার্ডের চিকিৎসা অনেক রোগীর সন্তুষ্টি অর্জন করেছে। মন্দের ভালো হিসাবে দেখা গেছে একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু এবং গাইনি জুনিয়র কনসালটেন্ট বছরের একটি উল্লেখযোগ্য সময় রোগীদের সেবা দিয়েছেন আন্তরিকতার সাথে। হাসপাতালের অন্যান্য মেডিকেল অফিসারগণও আন্তরিক ছিলেন। দুপুর ২টার পর হতে পরের দিন সকাল পর্যন্ত ২ জন করে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার একাই সামাল দিয়েছেন হাসপাতাল। তারাও ধন্যবাদ পেতে পারেন। এবছর হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিগত সময়ের চাইতে কিছুটা হলেও উন্নত ছিল। তবে মেডিকেল কলেজ এর সুফল রাঙামাটিবাসী এখনো পাচ্ছে না। মেডিকেল কলেজে যে সমস্ত চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন তারা হাসপাতালে কিছুটা হলেও সময় দেবেন, এমন প্রত্যাশা যারা করেছিলেন তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

গেল বছর রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনের চিত্র ছিল হতাশায় ভরা। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের জন্য পার্টিসিপেশন মানি ঘোষণা করা হলেও বছরের শেষ দিনে এসেও ক্লাবগুলোর ভাগ্যে তা জোটেনি। অবশ্য মাঝ খানে এই পার্টিসিপেশন মানি দিচ্ছি দেব বলে অনেক নাটক হলেও নাটকের পরিসমাপ্তি শুভকর ছিল না। শুধুমাত্র প্রতিশ্র“তিই নয় ক্রিকেটের খেলার মাঠেও এবছর রাঙামাটি জেলার খেলার ফলাফল হতাশা বৃদ্ধি করেছে। ফুটবলের অবস্থাও ছিল করুণ। দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল আয়োজনের জন্য তোরজোড় শুরু হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। খেলাধূলার ক্ষেত্রে সফলতার চাইতে ব্যর্থতার পাল্লা ছিল বেশি। বছর শুরু হয়েছিল অনেক আশায় আর শেষ হয় নিরাশায়।

সকল হতাশার মাঝে ২০১৬ সালের আশার আলো প্রজ্বলিত করেছিল ১৯ নভেম্বর রাঙামাটিবাসীর সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন। যেখানে মাননীয় প্রধাণমন্ত্রীর সাথে সরাসরি কথা হয়েছে রাঙামাটিবাসীর সাথে। রাঙামাটি সরকারী কলেজের একজন ছাত্রীর মুখে কলেজের শিক্ষক সংকটের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রীকে শিক্ষক সংকট নিরসনের যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎক্ষণাৎ ৪ জন শিক্ষককে এখানে পদায়ন করা হয়। রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজ এবং বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজেকে একটি করে কলেজ বাস প্রদানের ঘোষণা দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply