একচিলতে ভিটার জন্য ৪৪ বছরের যুদ্ধ শৈলেন দা’র

spolen-da-pic-02পাহাড়ের গণ মানুষের নিকট একটি পরিচিত ব্যক্তিত্ব হলো শৈলেন দে। তিনি সুদীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে তার লেখনীর মাধ্যমে পাহাড়ের দুঃখী মানুষের নিত্য দিনের নিখুঁত ছবি সমাজের নিকট তুলে ধরেছেন। অথচ তাঁর জীবনের হাজারো কষ্টের একটি ছবিও কোথাও তুলে ধরার সুযোগ পাননি তিনি।
সাংবাদিক শৈলেন দা সততা ও নিষ্ঠার ক্ষেত্রে ছিল অত্যন্ত কঠোর এবং নীতির ক্ষেত্রে ছিলেন আপোষহীন। চলার পথে তিনি ছিলেন অতি সাধারণ মানুষ কিন্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ছিলেন একেবারে একরোখা। তিনি জীবনে কারো কাছে মাথা নত করেনি। সততাকে তিনি সংবাদিকদের ভূষণ বলে মনে করতেন। তাই কখনো সততাকে বির্সজন দেননি। বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তাকে এক কাপ চা খেতে ডেকেছিলেন। তিনি মনে করেছেন নির্বাচনের আগে জেলা পরিষদে প্রচুর খাদ্য শস্য এসেছিলো ওখান থেকে চেয়ারম্যান কোন সাহায্য দিতে পারে মনে করে পরিষদ চেয়ারম্যানের ডাকে সাড়া দেয়নি। তার ক্ষোভ ছিল বিগত ৫বছর ধরে কেউ এই শহীদ পরিবারের খবর নেয়নি,শেষ সময়ে চা খেয়ে আর কি লাভ হবে। এই জন্য তিনি শুধু প্রশাসনের বিরাগ ভাজন হয়েছেন, তা নয়, তার জীবনে অসংখ্য কলম সৈনিকেরও ঘৃণার পাত্র হয়েছিলেন। এই কারণে তার পরোলোকের পরও তাকে এক নজর শেষ দেখার জন্য এই শহরের অনেক সহযোদ্ধা তার লাশ দেখা বা শোকার্ত পরিবারে প্রতি সমবেদনা জানাতে খোড়া যুক্তি দেখিয়ে তাকে শেষবারের মতোও দেখতে যাননি। তিনি কলমকে কখনো নিজের অবৈধ টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেনি এবং অপরকেও এই কাজে সহাযতা করেনি। যার ফলে অনেক কলম সৈনিক তাকে পছন্দ করতেন না। এই রাঙামাটি শহরের অনেক বিত্তবান লোক ও বিভিন্ন সংস্থার কর্তা ব্যক্তির সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহৃত না হওয়ায় তিনি অনেকের আস্থা হারিয়েছেন! সাংবাদিক শৈলেনের পরিবার ছিল বৃটিশ আমল থেকে একটি বনেদি পরিবার। বঙ্গগোষ্ঠী নামে এরা পুরাতন রাঙামাটি থেকেই ছিলেন সকলের পরিচিত পরিবার।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শৈলেন দার বাবা মনোরঞ্জন দে সহ যোগ্য চার নিকট আতœীয়কে হানাদার বাহিনী হত্যা করেছে। তখন শৈলেন দে ছিলেন নবম শ্রেনির ছাত্র। বাবা শহীদ হাওয়ার পর থেকে শহীদ জয়া মা, ছোট বোন ও ২ ভাইকে নিয়ে তার জীবন সংগ্রাম শুরু হয়। যা আমৃত্যু টেনে গেছেন তিনি।

শৈলেন দা জীবন সংগ্রামে পাড়ি দিতে গিয়ে প্রথমে হয়েছেন ডাক্তার, সেই সময়ে তিনি অনেক দুঃখী মানুষের সেবা করেছেন। তিনি ডাক্তারি পড়েনি। তবু তিনি ডাক্তার । তিনি একবার এক ম্যলেরিয়া রোগিকে শুধু শরীরের গন্ধ শুঁকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ দিয়ে ভাল করেন। ঘটনাটি জানা জানি হয়ে সিভিল সার্জন পর্যন্ত ঘড়িয়েছে। এক পর্য়ায়ে সিএস তাকে ডেকে নিয়ে চিকিৎসার কথা জানতে চায়। তিনি রোগীর শরীরের গন্ধ শুঁকে চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানান। এরপর সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে রোগীর চিকিৎসা করার জন্য একটি সনদ প্রদান করেছিলেন। ব্যক্তি জীবনে আমিও তার নিকট থেকে অনেক চিকিৎসা নিয়ে ঋনী হয়েছি।

খাগড়া ছড়ির গুইমারায় নিজের পৈত্রিক জমির কায়িক পরিশ্রম করে আবাদ করে চাষাবাদ করেন। পুর্ণবাসিত বাঙ্গালীরা ওই জমি জবর দখল করায় তারা কষ্টে পড়েন। এর পর শুরু করে সাংবাদিকতা । বঙ্গলক্ষী ফার্মসীতে ওষুধ বিক্রির ফাঁেক ফঁেক কয়েক বন্ধু মিলে শহরের তবল ছড়িতে ‘প্রকল্পনা সাহিত্যাঙ্গন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এর পর এরা ৭ বন্ধু মিলে সপ্তর্শি নামে আরো একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলে। শৈলেন দে ভালো নৃত্য শিল্পি ও নাট্যকার ছিলেন ।

শৈলেন দে ১৯৭৮ সালের শেষের দিকে একেএম মকছুদ আহমদের সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক বনভূমির ৩য় সংখ্যা থেকে সাংবাদিকতায় যোগ দেন। ৭৮ সালে আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফটিকছড়ি থেকে রাঙামাটিতে বড় জেঠার বাড়িতে বেড়াতে আসি । তখন মকছুদ ভাই এর রাঙামাটি প্রকাশনীতে বনভূমির পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামের অন্যান্য পত্রিকাও বিক্রি হতো। সেই সময়ে বিনা পয়সায় পত্রিকা পড়তে গিয়ে শৈলেন দা সাথে দেখা হয়। অবশ্য বিনা পয়সায় এখনো মকছুদ ভাই মানুষকে পত্রিকা পড়ান। ১৯৭৯ সাল থেকে ফটিকছড়ি থেকে আমি প্রথম দৈনিক দেশে সাংবাদিকতা শুরু করি। সেখান থেকে বনভূমিতে লেখালেখি শুরু করি । ১৯৮৩ সালে কলেজ জীবন শেষ করে আমি স্থায়ী ভাবে রাঙামাটি চলে আসি । এরপর থেকে দৈনিক গিরিদর্পনে লেখতে শুরু করি । তখন থেকেই শৈলেন দার সঙ্গে বন্ধুত্ব শুরু হয়। আমরা ২য় বন্ধু পিআইবির স্বনামধন্য প্রশিক্ষক নাসিম ভাইয়ের অধিনে সাংবাদিকতার বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। শৈলেন দা পরিবারের সব বিষয় নিয়ে রাঙামাটি প্রেসক্লাবে ও ক্লাবের বাইরে বসে আমার সাথে শেয়ার করতেন। ১৯৯৪ সালে রাঙামাটি জেলা পরিষদ থেকে রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য এক খ- জায়গা বন্দোবস্তী নেয়ার জন্য আবেদন করা হয়। সেখানে আমরা সবাই জায়গা নেয়ার জন্য আবেদন করলেও মকছুদ ভাই ও শৈলেন দা আবেদন করেনি। দাদার দাবি হলো তাকে তবলছড়ি কালি বাড়ির পশ্চিমের থলির জায়গাটি দিতে হবে । কারণ তিনি সেটা আবাদ করেছেন। এই বিষয় নিয়ে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারিজাত কুসুম চাকমা সঙ্গে তার অনেক বাড়াবাড়ি হয়েছে পরে জায়গাটি দাদাকে না দিয়ে অন্য জনকে দেন পারিজাত। যেহেতু তিনি খুবই জেদি ছিলেন সেই কারণে জেলা পরিষদ থেকে তার নামে আর কোন জমি নেননি তিনি। তাদের পরিবারেরও রাঙামাটিতে কোন জমি কেনা হয়নি । যার ফলে রাঙামাটিতে দাদার পরিবারে পৈত্রিক কোন জমি না থাকায় দাদার বোনের জন্য রাজার নিকট থেকে স্থায়ী সনদ নিতে পারেনি। অবশ্য তৎকালিন পরিষদ চেয়ারম্যান গৌতম দেওয়ান সহায়তা করায় তার বোনের চাকরি হয়েছিল। এই জন্য তিনি দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে প্রতিক্ষা করেও রাঙামাটিতে দাদার নামে কোন জমি বন্দোবস্তি নিতে পারেননি। জমি বন্দোবস্তি না নিলেও অনেক কষ্ট করে দেবাশীষ নগরে এক খন্ড জমি ক্রয় করেন তিনি । তবলছড়িতে মায়ের নামে যে সামান্য জায়গা রয়েছে তা হুকুম দখল হয়ে যায় । যা নিয়ে তার যত বিড়ম্বনা । পরে জেলা প্রশাসক তা বদল করে অন্য স্থানে দেয়, এনিয়ে তিন ব্যক্তি দাদাকে অহেতুক কষ্ট দিয়েছেন। যা দাদার জন্য অনেকটা অসহনীয় হয়ে দাড়িঁেয়ছিল।
দাদা এতই উদার ছিলেন যে দৈনিক আজাদী ,ভোরের কাগজে যখন দাদার অজান্তে ছোট ভাইরা কাজ করা শুরু করে, তখন তিনি ওই ২টি পত্রিকা ছেড়ে দেন। কিন্তু ভোরের কাগজ টাকা না দিলেও তাকে জেলা প্রতিনিধি থেকে কোন সময় বাদ দেয়নি। তার নামে ভোরের কাগজ থেকে চিঠি পত্র পাঠানো হতো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত । পাহাড়ে সাংবাদিকতায় নানা অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে দৈনিক আজাদী তাঁেক সম্মাননা ক্রেষ্ট দিয়েছে। তিনি সাপ্তাহিক নিপুণ , সাপ্তাহিক অর্থনীতি, সাপ্তাহিক পার্বতীতে ও কাজ করেছেন। তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল গিরিদর্পন ও মকছুদ ভাই এর প্রতি তার অগাধ ভক্তি ও ভালোবাসা ছিল । মারা যাওয়ার আগে গত ৭ এপ্রিল তিনি রাঙামাটি প্রেসক্লাবে এসেছিলেন। ওইদিন আমি রাঙ্গুনীয়ায় আমার এক নাতির বিবাহ খেতে গিয়েছিলাম । আমি না আসা পর্যন্ত তিনি আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন । তিনি খুব বেশী ধার্মিক ছিলেন, তাই তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় নিরামিষ খেয়েছেন। সাধারণত তিনি সন্ধ্যার পর কোন চা পান করতেন না, সেইদিন দাদাকে অনেক ক্লান্ত দেখা গিয়েছে এবং ২ জনে মিলে রাতে চা খেয়েছি। চায়ের পয়সা তিনি দিতে চেয়েছেন কিন্তু আমি দিতে দেইনি। তিনি এক রোখা হলেও মাঝে মধ্যে আমার কথা মানতেন। সেই দিনেরটাও তাই হয়েছে। সেইদিন দুই বন্ধুর মধ্যে বন্ধুবান্ধব ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে অনেক কথা হয়েছে যা এই পরিসরে বলাটা অনেকটা দুষ্কর । শৈলেন দা নতুন করে মকছুদ ভাইকে সাহায্য করতে ছেয়েছিলেন। তার বিশ্বাস ছিল সে থাকলে ইত্তেফাকে প্রতিদিন বসের (মকছুদ ভাই) নিউজ থাকবে। এই নিয়ে মকছুদ ভাইয়ের সঙ্গে কয়েকদিনের মধ্যে কথা বলার ইচ্ছা ছিল। যা আর কোনদিন পূরণ হবে না। তিনি ওইদিন আমার নিকট তার খুবিই অভাবের কথা বলেছিলেন। কারণ তার মায়ের চিকিৎসার ব্যয় অনেক বেড়ে গিয়েছে বলে জানান।

উল্লেখ্য, তার মা দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসেস এ অসুস্থ হয়ে বিছনায় শুয়ে আছেন। জন্ম থেকে তার মেয়ে স্বস্তি দে প্রতিবন্ধী অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে। এই দুঃসহ আর্থিক কষ্ট থেকে পরিত্রান পাবার জন্য দাদার অনেক কষ্টের মাথা গোজার শেষ সম্বলটা দাদার অংশ বিক্রি করার জন্য প্রথমে তার দুঃখের সাথী রানু প্রভা দে এর নিকট পরামর্শ ছেয়েছেন । তার স্ত্রী রানু তাকে বলেছিলেন যে জমিটি আপনি বিক্রি করতে ছেয়েছে,ওই জমি আবাদ করতে আপনার শরীর থেকে একফোটা ঘাম পড়েনি এমন কোন জায়গা আছে কিনা বলুন । থাকলে বিক্রি করুন। তিনি (স্ত্রী)বলেন ভিটা বিক্রি না করে আমাকে একটু সাহায্য করুণ, আমি আমাদের সড়কের এক পাশে বসে কাচাঁ তরকারির ব্যবসা করবো। তার সহধর্মীনির কথা শুনে দাদা আমার নিকট ছুটে এসেছিলেন বিষয়টি বোঝার জন্য আমিও একমত হয়ে বসত ভিটা বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ করি। তখন দাদা আমাদের কথায় একমত হয়ে চৈত্র সংক্রান্তিতে আমাকে পরিবার সহ বাসায় দাওয়াত দিয়ে শেষ কথা বলে বিদায় নিলেন । কে জানতো দাদার এই বিদায় শেষ বিদায় হবে। না হলে আমি শেষ বারের মতো দীর্ঘ ৩১ বছরের হিসাব নিকাশ শেষ করে আমিও বিদায়ের ক্ষমা চেয়ে নিতাম। ৮ এপ্রিল রাতে দাদা গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে অথচ দাদার বিশাল বন্ধুবহর কেউ জানে না । তারা শেষ সময়ে কোন কাজে আসলো না । ৯ এপ্রিল বেলা সোয়া ১১টায় দাদাকে রাঙামাটি হাসপাতালে নেয়া হয়। একেবারে শেষ সময়ে ডাক্তার নুপুর দাদার অসুখের খবর দিল সুনীল দা কে, দাদা দিল আমাকে । বিধি বাম সুনীল দার গাড়ি তখন অনেক দূরে। ২ জনই ছুটলাম হাসপাতালে টেক্সী নিয়ে । গিয়ে দেখি বেলা শেষ । সুনীল দা হাসপাতালের করিডোরে চোখের জল ছেড়ে দিল । অমি অধম অনেক কষ্ট করে শৈলেন দা’র প্রাণ প্রদীপ নিবে যাবার করুণ দৃশ্য দেখে চোখের জলে বুক ভাসালাম। এক হাতে নিজের চোখ মুছছিলাম আর এক হাত দিয়ে দাদার নিথর দু’চোখে হাত বুলিয়ে দিয়ে চিরদিনের জন্য দুটি চোখ বন্ধ করে দিলাম । এরপর হাত পা গুলো সোজা করে দিয়ে তার শার্ট দিয়ে তার নিথর শরীরটা ঢেকে দিলাম। পরে নন্দন এসে তাদের ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে দাদার দুইটা পা আসন করে দিল। যা কোন আপন জনের জন্য অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। আমার আর সুনীলদার পকেটে অনেক টাকা ছিল, যা শৈলেন দার চিকিৎসার জন্য নেয়া হযেছিল। অথচ এই আধুনিক যুগেও শৈলেন দার জন্য আমরা সব থাকার পরও কোন চিকিৎসা করাতে পারলাম না, এটায় ছেয়ে জীবনের বড় বেদনা আর কি হতে পারে। যা এখনো আমার চোখে প্রতিনিয়ত পীড়া দিযে যাচ্ছে এবং করুণ চিত্রটি ভেসে বেড়াচ্ছে।

এখন আমার বারবার মনে পড়ে দাদার মাথা গোঁজার ঠাঁই করার জন্য সেই সময়ে আমার যা যা করা দরকার ছিল আমি সবই করার সুযোগ পেয়েছিলাম কিন্তু চিকিৎসার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আমার মতো মায়াধন চাকমা ও একই বিলাপ করছেন। সেদিন মোবাইল ফোনের নেট ছিলনা বিদায় আমি আর সুনীল দা তার মুত্যুর সংবাদটি ঠিকমতো সবার নিকট পৌছাঁতে পারিনি। যার করুণ কথা মনে পড়লে আমার এখনো বিনিদ্র রজনি কাটে। একজন সৎ ব্যক্তি এভাবে এই নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিল। বড় আফসোস আমরা তার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। এটাকে বলে নিয়তির খেলা ।

লেখক : জেলা প্রতিনিধি,দৈনিক জনকন্ঠ, সাধারন সম্পাদক,রাঙামাটি প্রেসক্লাব

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply