নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » একই পরিণতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সভাপতির !

একই পরিণতি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সভাপতির !

kaptai-UZ-coverকিছুটা অভিমান,ক্ষানিকটা ক্ষোভ আর ব্যাপক হতাশা নিয়েই নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ালেন কিংবা সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই সভাপতি ! দুইজনই ভিন্ন ভিন্ন দুই রাজনৈতিক দলের নেতা হলেও চেয়েছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হতে। একজন বর্তমান চেয়ারম্যান হলেও আবার ইচ্ছে ছিলো দায়িত্ব পালনের,আরেকজন হতে চাইছিলেন নতুন চেয়ারম্যান। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে প্রতিদ্বন্ধি দুই দলের দুই সভাপতির যেনো একই পরিণতি বরণ করতে হলো। কেউই পেলেন না দলীয় সমর্থন। ফল যা হওয়ার তাই,সাময়িক হাম্বিতম্বির পর ঠিকই লেজ গুটিয়ে নীরবে সরে গেলেন।
দলীয় মনোনয়ন মনোনয়ন না পাওয়ায় এবং দল অন্য আরেকজনকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করায় অনেক বাধ্য হয়েই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান অংসুচাইন চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবি। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফার উপজেলা নির্বাচনে এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল হক। ফলে কপাল পোড়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী। মূলত: উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের জন্য কিছু করতে না পারা,অনিল তঞ্চঙ্গ্যা ইস্যুতে ‘বিতর্কিত’ অবস্থান,দীপংকর তালুকদারের সাথে দুরত্বসহ নানা কারণে এবার বিবেচনা করা হয়নি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের দুই মেয়াদে সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা এই নেতাকে। অন্যদিকে আশায় আশায় ছিলেন সহসভাপতি বেবিও। কিন্তু তাদের টপকে মনোনয়ন দৌড়ে ঠিকই দলীয় সমর্থন আদায় করে নেন মফিজ।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য অংসুচাইন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন,দলীয় সমর্থন না পাওয়ায় হতাশ ও ক্ষুদ্ধ অংসুচাইন চৌধুরী। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদার পরাজিত হলেও যে দুটি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছিলেন এবং বেশি ভোট পেয়েছিলেন তার একটি এই কাপ্তাই উপজেলা,অন্যটি কাউখালি। সেই কারণে অংসুচাইন চৌধুরীর প্রত্যাশা ছিলো দল তাকেই মনোনয়ন দিবে।

এদিকে কাপ্তাই বিএনপিতেও মনোনয়ন নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিরউদ্দিন কন্টাক্টর সহ একাধিক প্রার্থী। কিন্তু এখানে দলীয় মনোনয়ন পান উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। কিন্তু তারপরও আশায় ছিলেন মহিরউদ্দিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের কঠোর অবস্থানের কারণে বাধ্য হয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তাছাড়া সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনেও কাপ্তাই না থাকায় তাকে বিবেচনা করেনি দল। ফলে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন দিলদার হোসেন,দলীয় কর্মী সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারন মানুষের কাছেও যার গ্রহণযোগ্যতা প্রবল।

দেশের অন্যতম প্রধান দুই দলের দুই উপজেলা সভাপতির একই পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে জেলার সর্বত্র। একই যাত্রায় একই পরিণতি ভোগ করা এই দুই নেতার পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়েও চলছে জল্পনা কল্পনা আর নানান সমীকরণ।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply