নীড় পাতা » পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়া » ঊষাতন তালুকদারের নির্বাচনী ইশতেহার

ঊষাতন তালুকদারের নির্বাচনী ইশতেহার

JSS-Flag১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪
পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে
২৯৯ পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী
ঊষাতন তালুকদার-কে

হাতি মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন

নির্বাচনী ইসতেহার

স্বাধীনতার পর বিগত ৪২ বছরে দেশপ্রেমিক জনগণের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের অনেক ক্ষেত্রে গৌরবময় সাফল্য অর্জিত হলেও দেশের শাসকগোষ্ঠী ও নীতিনির্ধারকদের অগণতান্ত্রিক, অদূরদর্শি, সংকীর্ণ ও কায়েমী স্বার্থবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে দেশ আজ সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, কালো টাকা, সন্ত্রাস, পেশীশক্তি, দলবাজি ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপতৎপরতায় ছেয়ে গেছে। একদিকে জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ও রাষ্ট্রীয় শাসনকাঠামোতে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ ব্যাপক মাত্রায় পরিব্যাপ্তি ঘটেছে; অপরদিকে বিগত কয়েক বছরে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের নজিরবিহীন ও সীমাহীন উর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব, দেশীয় কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা ইত্যাদির ফলে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ দেশের মেহনতি ও গরীব মানুষ অধিকতর গরীব হয়েছে। দেশে ব্যাপকহারে বেকারত্ব বৃদ্ধি, শ্রমিক অসন্তোষ, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী, দারিদ্র, জ্বালানী তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে দেশীয় অর্থনীতিও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এমনিতর অবস্থায় দেশে আজ মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ও অপশাসন বনাম গণতন্ত্র, সুশাসন, দারিদ্র বিমোচন ও অসাম্প্রদায়িকতার মধ্যকার সংঘাত অত্যন্ত তীব্র হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা একটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা। ১৯৭৩ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় সংসদের ভেতরে ও বাইরে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণের বিশেষ অধিকারসহ সারাদেশের কৃষক-শ্রমিক-মজুর-নারী ও অন্যান্য পেশাজীবী মানুষের আশা-আকাঙক্ষার দাবী তুলে ধরেন। তাঁরই নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পরিচালনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধানের জন্য পার্বত্যবাসীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দুর্বার আন্দোলন শুরু হয়। পরিণতিতে দেশে গণতন্ত্র ও অধিকারকামী বিভিন্ন দল, সংস্থা ও ব্যক্তিত্বের সহায়তায় এবং বিশ্ববাসীর সমর্থনে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসীদের বেঁচে থাকার ভিত্তি স্থাপিত হতে পেরেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর আজ ১৬ বছর অতিক্রান্ত হলেও চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইসতেহারে “পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে” মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করা হলেও বিগত পাঁচ বছরে চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়টি কেবল একের পর এক প্রতিশ্রুতি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এই চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে পার্বত্যাঞ্চলে এখনো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একপ্রকার অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে বিশেষ শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে এ অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে বিরাজ করছে অব্যাহত উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা। আভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন না হওয়ার কারণে এসব পরিবারগুলো অতিবাহিত করছে মানবেতর অনিশ্চিত জীবন।
উগ্র জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলাসহ পার্বত্যাঞ্চলের সমগ্র জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মুখ থুবড়ে পড়ে আছে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন। সরকারী-বেসরকারী সকল প্রকার উন্নয়নের ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র কৃষক, শ্রমিক, ভূমিহীন, জুমচাষী, ফরেষ্ট ভিলেজার, জেলে, তাঁতি ইত্যাদি শ্রমজীবী মানুষ। কর্মসংস্থানের অভাবে শত শত শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী গ্লানিকর বেকার জীবন অতিবাহিত করছে। উৎপাদনে নারী সমাজের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকলেও নারীর ক্ষমতায়ন এখনো সুদূর পরাহত। পর্যাপ্ত সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পার্বত্যাঞ্চলের কৃষি খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এমতাবস্থায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একদিকে দেশে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া অপরিহার্য; অপরদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য উপযুক্ত প্রতিনিধি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত করা একান্ত আবশ্যক। উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি-উত্তর কালে যাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন তাঁরা তাঁদের জাতীয় রাজনৈতিক দলের অগণতান্ত্রিক ও সংকীর্ণ দলীয় নীতির কারণে, সর্বোপরি একান্ত ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার বশবর্তী হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার যথাযথভাবে সমাধানে দৃঢ় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে বরাবরই ব্যর্থ হয়েছেন। অধিকন্তু কখনো কখনো তাঁদের চুক্তি বিরোধী ভূমিকাও প্রতীয়মান হয়েছে। ফলে সরকারী মহলে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আজ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সময় এসেছে এই গণবিরোধী রাজনৈতিক ধারার আশু পরিবর্তনের। এই ধারা যাতে আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯নং পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছি। দেশের এই বিশেষ ক্রান্তিলগ্নে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রয়াত মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার উত্তরসূরী হিসেবে আমাকে হাতি মার্কায় আপনার মূল্যবান ভোট প্রদান করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়যুক্ত করুন।

usatan-01
উষাতন তালুকদার

আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হলে নিম্নোক্ত কর্মসূচী বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকবো-
১। পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান এবং এতদাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
২। এলাকায় সুষম ও পরিবেশমুখী উন্নয়নের ধারা গড়ে তোলার মাধ্যমে সুযোগ-বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে
অনুকুল পরিবেশ গড়ে তোলা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প স্থাপন এবং স্থানীয়ভিত্তিক বাণিজ্য প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে।
৩। সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদী অপতৎপরতা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলীকরণে দেশের গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল শক্তির সাথে একাত্ম হয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা হবে।
৪। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে নারীর সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। নারী উদ্যোক্তা শ্রেণী গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও স্বল্প বা বিনা সুদে ঋণদান কর্মসূচী গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হবে। নারীদের উপর সকল প্রকার সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
৫। আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। স্বকীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে।
৬। রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজে অনার্স ও ¯œাতকোত্তর কোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পার্বত্যাঞ্চলে কারিগরী শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে ভোকেশনাল ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়াও প্রাথমিকসহ শিক্ষার সকল ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি ও মানোন্নয়ন করার লক্ষ্যে ছাত্রাবাসের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
৭। কাপ্তাই হ্রদের জলসীমা নির্ধারণ, জলেভাসা কৃষি জমির চাষাবাদ নিশ্চিত করা এবং হ্রদের পানির উচ্চতা হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণসহ কৃষি ঋণের ব্যবস্থা চালু করার প্রচেষ্টা নেয়া হবে।
৮। ফলজ-বনজ বাগান সম্প্রসারণসহ উৎপাদিত ফল-মূল রক্ষণাবেক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে। সহজ শর্তে কৃষি ঋণসহ জুমচাষীদের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জুম চাষের সময় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের হয়রানি বন্ধের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে।
৯। প্রতিবন্ধীদের সমস্যাদি নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
১০। জেলে-তাঁতিসহ শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২৯৯নং পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনে স্বতন্ত্র প্রাথী উষাতন তালুকদারের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক প্রচারিত।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মহালছড়িতে পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মনাটেক গ্রামে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর আড়াইটায় মনাটেক …

Leave a Reply