নীড় পাতা » ছবি » উৎসবের রঙ ছড়িয়ে শেষ হলো বর্ণিল আদিবাসী সংস্কৃতি মেলা

উৎসবের রঙ ছড়িয়ে শেষ হলো বর্ণিল আদিবাসী সংস্কৃতি মেলা

ADi-cov-01হাসি আনন্দে,নাচে-গানে আর পাহাড়ের বর্ণিল সংস্কৃতির বর্নাঢ্য উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হয়ে গেলো ১৩তম পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী সংস্কৃতি মেলা।
১৯৯৭ সাল থেকে পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে প্রায় নিয়ম করেই প্রতিবছর আয়োজন করা হয় আদিবাসী সংস্কৃতি মেলার। জুম ঈসথেটিকস্ কাউন্সিল (জাক) নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে এই মেলায় পাহাড়ে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর বর্ণাঢ্য সংস্কৃতিকেই উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারো রাঙামাটির ক্ষু নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গনে শুরু হয়েছিল তিনদিনব্যাপি আদিবাসী সংস্কৃতি মেলা। ৩ এপ্রিল,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট আদিবাসী লেখক ও কবি চিত্রমোহন চাকমা। ADi-cov-02

মেলায় এবারো পাহাড়ে বসরবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি আর জীবনচারের উপস্থাপনা করা হয়। প্রতিদিন সন্ধ্যায় মেলা মঞ্চে ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী,যা উপভোগ করতে প্রতিদিনই মেলায় এসেছে নানান বয়সী হাজারো মানুষ। মাঝে দুবছর বাদ থাকলেও নিয়মিত আয়োজক করা এই মেলাটি পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর প্রাণের মেলা হিসেবেই পরিচিত। তাই মেলায় আসা সাধারন মানুষও এটিকে দেখছেন বিশেষ আয়োজন হিসেবেই।

তবে মেলার আয়োজকরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর সাংস্কৃতিক আদান প্রদানের পাশাপাশি,নিজেদের মধ্যে আন্ত:সম্পর্ক স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই মেলা। আর মেলার উদ্বোধনীতে এসে এই মেলার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এর শুভকামনা করলেন খোদ চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়ও। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হলো শনিবার সন্ধ্যায়। এবছর পার্বত্য চট্টগ্রামের শিল্প সাহিত্যে অবদান রাখায় জাক সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়েছে তিন বিশিষ্ট আদিবাসী লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী সুরেন্দ্রলাল ত্রিপুরা(মরনত্তোর),বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ও প্রয়াত কবি সুহৃদ চাকমাকে। আয়োজকরা বলছেন,এই মেলার মাধ্যমে পাহাড়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সারাদেশের মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে বিগত দিনে,এখনো সেই চেষ্টাই চলছে। Adi-cov-03

মেলার শেষ দিনে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি এডভোকেট মিহির বরন চাকমা জানালেন, মেলার আয়োজনের মুল উদ্দেশ্যে হলো সমতল এবং তিন পার্বত্য জেলায় যে আদিবাসী আছি, উভয়ের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। একে অপরের সাথে একটি সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সৃষ্টি করা। এই মেলার দেশের বৃহত্তর যে জনগোষ্ঠী আছে তাদের কাছে আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। ADi-cov-04

আদিবাসী মেলায় আসা পাহাড়ী তরুনী শ্রীপর্না চাকমা বলেন, এই মেলা আমাদের সংস্কৃতি রক্ষার্থে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে।

মেলায় বেড়াতে আসা আরেক পাহাড়ী নারী উপমা চাকমা বলেন,এই মেলার মাধ্যমে আমরা পাহাড় এবং সমতলে যেসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে সবাই একে অপরের সাথে মিশতে পারছি এবং পারস্পরিক সংস্কৃতিকেও ধারন করতে পারছি।

শহরের বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী পল্টু চাকমা বলেন, আমাদের যে সংস্কৃতিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে সেগুলো জাগিয়ে রাখার জন্য এ আদিবাসী সংস্কৃতি মেলার আয়োজন। সেকারনে আমরা চেষ্টা করছি বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে।Adi-cov-05

চাকমা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায় জানালেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব আদিবাসী বা পাহাড়ী জুম্ম জাতিসত্তা রয়েছে তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও সংস্কৃতি আছে। এই সংস্কৃতি এখনো জীবিত রয়েছে। সার্বিক অর্থে শুধু গান নাচ সংস্কৃতি নয়, আদিবাসীদের জীবনযাত্রা এবং তাদের অধিকার নিয়ে যাতে টিকে থাকতে পারে এবং সকল নাগরিকের সহযোগিতায় প্রানবন্ত থাকতে পারে এটাই আদিবাসী মেলার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি থেকে মেলায় আসা আগত থৈ অং খিয়াং বলেন,আমাদের সংস্কৃতির অনেক কিছু বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। তাই সংস্কৃতি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এবং নিজস্ব ঐতিহ্য নিয়ে বাচিয়ে রাখা যায় তারই লক্ষ্যে আদিবাসী মেলায় অংশগ্রহন করা।

তিনদিনব্যাপী সংস্কৃতি মেলায় ছিল ১১ টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিবেশনায় বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। মেলা সমাপনি দিন শনিবার মেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আদিবাসী কবিতা পাঠের আসর,চাকমা,বম,ত্রিপুরা সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপরেই ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের পেিবশনায় মঞ্চস্থ হয় চাকমা নাটক ‘দুলু পেদার দোলি নাজানা’ ।

আদিবাসী মেলার শেষ দিনে ছিল মেলা প্রাঙ্গনে ছিল পাহাড়ী-বাঙ্গালী আবাল বৃদ্ধ বনিতাসহ সকল মানুষের উপচে ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো,গানের সুরে আর নৃত্যের ছন্দের তালে চিৎকারে সোচ্চার ছিছের নানান বয়সী দর্শকেরাও। আদিবাসী সংস্কৃতি মেলার আয়োজক জাক এর সদস্যবৃন্দ, আসছে বছর আবারো মেলাকে আরো বর্ণিল,আরো সমৃদ্ধ আয়োজনে উপস্থাপন করার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে আর এই মেলা যাতে পরিপুর্নতা লাভ করে সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে মেলার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply