নীড় পাতা » পাহাড়ের অর্থনীতি » উন্নয়নের গতি বাড়লেও সংঘাত থামেনি

আজ পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২১তম বর্ষ

উন্নয়নের গতি বাড়লেও সংঘাত থামেনি

আজ ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি। যা সারা দেশে ‘শান্তি চুক্তি’ নামে সমাদৃত। ১৯৯৭ সালে এদিন বাংলাদেশ সরকারের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চুক্তি সম্পাদিত হয়। চুক্তির পর দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ পার্বত্যাঞ্চল বিশ্ববাসীর কাছে মুক্ত হয়। শান্তির বার্তা নিয়ে এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রাথমিকভাবে শান্তিবাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। সরকারও তাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে। সাময়িকভাবে পাহাড়ে রক্তের খেলা, অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ হয়। কিন্তু বছর যেতে না যেতে প্রতিষ্ঠা হয় চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)। এরপর শুরু পাহাড়ে দুই আঞ্চলিক দলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। থেমে থেমে চলে দুই সংগঠনের হত্যা পাল্টা হত্যা। ২০০১ সালে তিন বিদেশী অপহরণের মাধ্যমে শুরু হয় পাহাড়ে অপহরণ বাণিজ্য। পরে ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি থেকে বের হয়ে ২০১০ সালে আরেক আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা) সৃষ্টি হয়। ২০১৭ সালে এসে ইউপিডিএফ থেকে বের হয়ে আরেকটি সংগঠনের জন্ম হয়। যেট ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) নামে পরিচিত। এরপর বিভিন্ন সময় চার পক্ষের কর্মী, সমর্থক হত্যার মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক হিসেবে গত এক বছরে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে পাহাড়ে ৪১জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে আপাত দৃষ্টিতে চার পক্ষের কর্মী, সমর্থকদের হত্যা চললেও এসময় পাহাড়ে ১৯৯৭ সালের পূর্বের চাইতে অনেকটা শান্তি স্থাপন হয়। পাহাড়ে অর্থনৈতিক ¯্রােত বৃদ্ধি পায়। বিশ্ববাসীর কাছে পার্বত্যাঞ্চলের পর্যটনও ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। এসময়ে পাহাড়ে প্রচুর যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ২১ বছরে প্রচুর বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ মানুষের উন্নয়নে সরকারও প্রচুর কাজ করে গেছে।

কিন্তু চুক্তির এতো বছর পর এসেও চুক্তি বাস্তবায়ন না করার জন্য জেএসএস সরকারকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে চলছে দুই পক্ষের তর্কযুদ্ধ। এই ২১ বছর জেএসএস চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে রাজপথে বেশিরভাগ সময় সক্রিয় ছিলো, পক্ষান্তরে ইউপিডিএফ সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ, পার্বত্যাঞ্চলে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন করে গেছে। অন্যদিকে জেএসএস(সংস্কার পন্থী) পক্ষও চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে লিপ্ত রয়েছে। তবে চুক্তি নিয়ে তেমন কোনও কথা এখনো ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক) এর তরফ থেকে শোনা যায়নি।

এদিকে গত ২১ বছরে রাঙামাটিতে প্রচুর উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে। জেলার আরো তিনটি বেসরকারি কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চুক্তির পূর্বে পাহাড়ে দুর্গমাঞ্চলে কমিউনিটি কিèনিকের কার্যক্রম তেমন একটা না থাকলেও বর্তমানে পুরো জেলায় শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার জানান, ‘বর্তমানে জেলায় ৯৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। আরো ২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।’ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ‘চুক্তির পূর্বে জেলায় ১২ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় থাকলেও বর্তমানে ৪৬ হাজার পরিবার বিদ্যুতের সুবিধা গ্রহণ করছে। দুর্গম বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়িতে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজ বেগম চিনু বলেন, চুক্তির ফলে পাহাড়ে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। যার সুফল সবাই পাচ্ছে। ইতোমধ্যে উচ্চ শিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, পাহাড়ে যতদিন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার থাকবে ততদিন এ অঞ্চলে চাঁদাবাজি, অপহরণ বন্ধ হবে না। কারণ সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সবকিছু জিম্মি করে নিচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে শান্তির সুবাতাস পাহাড়ের মানুষ পুরোপুরি পাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা শান্তি চুক্তির ২১তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের নামে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও চুক্তির দুই-তৃতীয়াংশ বিষয় এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার বরং পার্বত্যচুক্তিবিরোধী বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

প্রেমিকের সঙ্গে বিয়েতে পরিবারের অসম্মতি, অতপর…

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মুবিনা আক্তার নয়ন (১৬) নামের এক তরুনী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে …

Leave a Reply