নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » উন্নয়নবোর্ড আর টাস্কফোর্সের দায়িত্ব পাচ্ছেন কে কে ?

উন্নয়নবোর্ড আর টাস্কফোর্সের দায়িত্ব পাচ্ছেন কে কে ?

CHTDB-pic-01শুরুটা খাগড়াছড়ি দিয়ে, মধ্যখানে দুই দফা রাঙামাটি ঘুরে এখন বান্দরবানে। শুরু কল্পরঞ্জন চাকমা দিয়ে, এরপর মনিস্বপন দেওয়ান,পরে দীপংকর তালুকদারের হাত ঘুরে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এখন বীর বাহাদুর এমপি। বার বার নির্বাচিত হলেও ক্যাবিনেটে যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই ছিল বীর বাহাদুরের কাছে। এই প্রথম তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন। দায়িত্ব নিয়ে সচিবালয়ে অফিসও করছেন নিয়মিত। বান্দরবানবাসীর অনেকদিনের আশা ঘরের ছেলে মন্ত্রী হবে। অবশেষে গত ১২জানুয়ারি বান্দরবান থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর মন্ত্রী হলেন। পার্বত্য চুক্তির বদৌলতে নতুন করে সৃষ্টি হওয়া এই মন্ত্রণালয় পার্বত্যবাসীর জন্য আশা ভরসার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এই মন্ত্রণালয়ের চেয়ারটি নিধারিত হয়ে যাওয়ার পর; পার্বত্যাঞ্চলে এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু বাকী দুই প্রভাবশালী পদে কে বসতে যাচ্ছেন। উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন? টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান পদবিটাই বা কার ভাগ্যে জুটছে?

১৯৯৭ সালের ২ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টির পর এই মন্ত্রণালয়ে প্রথম মন্ত্রী করা হয় কল্পরঞ্জন চাকমাকে, তিনি ছিলেন পূর্ণ মন্ত্রী। সে সময় প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের দায়িত্ব দেওয়া হয় রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারকে। অন্যদিকে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর বাহাদুরকে উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপমন্ত্রী পদমর্যাদায়। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে। এই সময় রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ানকে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এবং খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে উপমন্ত্রী মর্যাদায় উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া খাগড়াছড়ি বিএনপির নেতা সমীরণ দেওয়ানকে উপমন্ত্রী মর্যাদায় টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বান্দরবান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর নির্বাচিত হয়ে এলেও বিরোধী দলীয় এমপি হওয়ার কারণে সেসময় তাকে কোনো পদ দেওয়া হয়নি। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার চার দলের ন্যায় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। মহাজোট সরকারের পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয় রাঙামাটির এমপি দীপংকর তালুকদারকে। বান্দরবানের বীর বাহাদুরকে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ির যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০১৪ সালে নতুন সরকার গঠনের পর বীর বাহাদুরকে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এরপর বাকী দুই প্রভাবশালী পদ উন্নয়ন বোর্ড ও টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বাকী দুই জেলায় চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। পার্বত্য চুক্তির পর থেকেই রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী মর্যাদায় পদ পেয়ে আসলেও এবার রাঙামাটির বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা দুই পদের যেকোনো একটি পদ পেতে যাচ্ছেন এটা অনেকটা নিশ্চিত। পক্ষান্তরে রাঙামাটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার আওয়ামী লীগ সরকার থেকে কিছু পাচ্ছেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তবে ঊষাতন তালুকদারের আশা সরকার পার্বত্যাঞ্চলের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে যেকোনো পদে তাঁকে সুযোগ দেবেন। আবার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও আশায় আছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির দীর্ঘদিনের সংগ্রামে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ

দীপংকর তালুকদার এবার নির্বাচনে পিছলে পড়লেও প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বঞ্চিত করবেন না। কোনো কোনো একটি পদ পদবি তিনি পাবেনই এমন দাবি তার সমর্থকদের। এখন রাঙামাটির দুই তালুকদার তাকিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে।

রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। দেশ পরিচালনায় তিনি ইতোমধ্যে দূরদর্শীতার প্রমাণ দিয়েছেন। তিনি পাহাড়ের বাস্তব অবস্থা উপলব্ধি করে এ অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন তাই গ্রহণ করবেন। আর পাহাড়ে শান্তির জন্য তাঁকে যেকোনোভাবে বর্তমান সরকারে সুযোগ দেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর বলেন, ইতোমধ্যে আমরা নেত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছি। আমরা পাাহাড়ে রাজনীতির বিষয়টি তুলে ধরে পাহাড়ের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির স্বার্থে দাদাকে (দীপংকর তালুকদার) যেকোনো একটি পদের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করি। নেত্রী নির্দিষ্ট কোনো পদবি উল্লেখ না করলেও যেকোনো একটি পদ দাদাকে দেবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেন।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, পাহাড়ের রাজনীতি গভিরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই এলাকার আদ্যপান্ত জানেন। আর পাহাড়ের পরিস্থিতি বরাবরই আওয়ামী লীগ যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। সে হিসেবে তিনবারের নির্বাচিত এমপি দীপংকর তালুকদারকে ক্ষমতার বাইরে রাখার কথা আওয়ামী লীগ ভাবছে না। তবে তাকে কোন পদবিতে অলংকৃত করা হবে তাই এখন দেখার বিষয়। সূত্রটি এও দাবি করেছে, দাদাকে এমন একটি পদ দেওয়া হতে পারে যা এখানে কেউ ভাবতেও পারছে না। এ নিয়ে লবিং তদবিরও চলছে জোরেসোরে। প্রধানমন্ত্রীর দু’জন উপদেষ্টা এ ব্যাপারে ইতিবাচক হওয়ায় সম্ভাবনাও বেশ উজ্জ্বল। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

chtdb-43

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply