নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » উনিশ কিলোমিটার সড়কজুড়েই মুগ্ধতা !

উনিশ কিলোমিটার সড়কজুড়েই মুগ্ধতা !

0কখনই রাঙামাটি আসেনি এমন পরিচিত কোন বন্ধুকে যদি রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি ব্রীজ পর্যন্ত চোখ বেঁধে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়,আর বলা হয় আঁকা বাঁকা পথটি ধরে হেঁটে যেতে,নিশ্চিত অন্ততঃ ১৯ কিলোমিটার পুরো পাহাড়ী পথটা হেঁটে গেলেও তিনি নিজ চেষ্টায় বুঝতে পারবেননা,কোথায় আছেন কিংবা কোন দেশে। আকাঁবাকা আর উঁচু নীচু পাহাড়ী পথ,পথের একধারে সুবিশাল সবুজ পাহাড় আর অন্যপাশে বিস্তৃত কাপ্তাই হ্রদের বিশাল নীল জলাধার তাকে এতোটাই মুগ্ধ করবে যে,পুরো চলতি পথে তার কখনই মনে হবেনা,এই জায়গাটা বাংলাদেশে ! বলছি রাঙামাটি-কাপ্তাই নতুন সড়টির কথা। ইদানিং যে সড়কটি রাঙামাটি বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষনের একটি স্থান। উনিশ কিলোমিটার পথের কোথাও কোন পর্যটন স্পট নেই,তাতে কি,পুরো পথটাই যেনো এক সাজানো পর্যটনকেন্দ্র। পথের এই সৌন্দর্য আর সংলগ্ন পাহাড়ী গ্রামগুলোর মানুষের বর্ণিল জীবন যাপন মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয় বেড়াতে আসা পর্যককের চোখে মুখে। তাই ইদানিং রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অতিরিক্ত একটি দিন রাঙামাটি থাকতেই হয়,এই পথ আর পথধরে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরতে। মাত্র একটি সড়ক কি চমৎকারভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে সাধারন মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু তার প্রমাণ পাওয়া যাবে এই সড়কের প্রতি ইঞ্চিতে। প্রকৃতি যেনো এখানে উজাড় হাতেই দান করেছে তার অপরিসীম সৌন্দর্য। নির্জন সড়কটিতে কখনোই সামান্য সময়ের জন্য ভয়ভীতি এসে গ্রাস করবেনা আপনাকে,বরং নির্জনতার সৌন্দর্যও কতটা ভয়ানক সুন্দর হতে পারে তারই প্রমাণ এই সড়কটি। আর বর্ষায় এই সড়কধরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। প্রতি বর্ষায় প্রকৃতিদেবি এখানে নিজেই যেনো নেমে আসে।

সড়কটির পর্যটন সম্ভাবনা মাথায় রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এই সড়কে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য রাখা হয়নি কোন সুযোগ সুবিধাই। বিশ্রাম বা জরুরী প্রয়োজনে নেই কোন সহযোগিতার হাত। স্থানীয় পাহাড়ীরাই এইক্ষেত্রে একমাত্র ভরসা। আর সড়কটি এখনো যানচলাচল বেশি না হওয়ায় আপনাকে নিজের জন্য ভাড়ায় ট্যাক্সি-মাইক্রোবাস বা কার নিয়ে যেতে হবে। সেইক্ষেত্রে সারাদিনের জন্য ভাড়া করাই উত্তম। সড়কটি তো দেখা হলোই,সেইসাথে কাপ্তাই উপজেলা,সেখানকার নেভাল ক্যাম্প,জীবতলী রিসোর্ট,জুম রেস্তোরা,কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান,কর্ণফুলি পেপার মিলি,কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ঘুরে দেখতে পারেন সারাদিন। সর্বোচ্চ তিনজন হলে অটোরিক্সা’ই যথেষ্ট,ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকা। আর মাইক্রোবাস ভাড়া নিতে পারে ৩০০০-৩৭০০ টাকা পর্যন্ত। তাহলে এখনই প্রস্তুতি নিন। আগামীতে রাঙামাটি বেড়াতে এলে অবশ্যই রাঙামাটি শহরতলির আসামবস্তি হয়ে নতুন সড়কটি ধরে কাপ্তাই ঘুরে আসতে যেনো ভুল না হয়।2

শহরে সবচে বড় সড়কসেতুটি পাড় হওয়া দিয়েই যাত্রা শুরু হওয়া পথটি যেখানে মিলেছে সেখানেও নেভাল ক্যাম্পের অপরূপ সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিএসপিআই এর ছিমছাম পরিবেশও নজর কাড়বে অনেকের। ভালোলাগা আর ভালোবাসার মুগ্ধতায় ছুঁয়ে যাবে উনিশ কিলোমিটার 4দীর্ঘ এই মনকাড়া সড়ক।306

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

৩ comments

  1. amar bike drive korar ak prio rasta. Amar fb te joto pictar ase tar ordhek pictar ai 19 kilo rastar. So kotota sundor hote pare ai prokiter maje 19 kilo roder do pase ak aporop banglar prakitik sondorjo.

  2. চমৎকার জায়গা, এক কথায় অসাধারণ ! আমি যখনই রাঙ্গামাটি আসি, তখন আর কোথাও যাই আর না যাই, বন্ধু সৈকত আর হাসান মিলে এই স্বল্প দীর্ঘ পথটা ২/৩ বার ঘুরবোই, সাথে তো পাহাড়ের আঁকা বাঁকা পথের ধারে দাদা-দিদি’দের চায়ের দোকানগুলোতেও ঢু দেয়া হয়…

Leave a Reply

%d bloggers like this: