নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » উদ্ভিন্ন ঝর্ণা ডাকছে ভ্রমণপ্রেমীদের

উদ্ভিন্ন ঝর্ণা ডাকছে ভ্রমণপ্রেমীদের

বছর ঘুরিয়ে আবারও উদ্ভিন্ন হয়ে উঠেছে রাঙামাটির সুবলংয়ে অবস্থিত দুইটি ঝর্ণাই। ঝর্ণার পানি প্রবাহে শরীর ভেজিয়ে নিজেকে আরও সতেজ-প্রাণবন্ত করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। এই দুটি ঝর্ণাই রাঙামাটির বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নে অবস্থিত। একটি ঝর্ণা থেকে আরেক ঝর্ণায় ইঞ্জিনচালিত ট্যুরিস্টবোট যোগে কয়েক মিনিট গেলেই পৌঁছা যায়। অবশ্য প্রথমে পড়বে সুবলং ছোট ঝর্ণা। এর থেকে একটু এগোলেই দেখা মিলবে শিলার ডাক ঝর্ণা হিসেবে পরিচিত সুবলং বড় ঝর্ণার।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতি ভ্রমণপিসাসুদের যে সব কারণে ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছে জাগে; তার মধ্যে অন্যতম ঝর্ণা বা জলপ্রপাত। সুবলং ঝর্ণাটি পার্বত্য রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী পর্যটককেন্দ্র। বলে রাখা ভালো, শুষ্ক মৌসুমের পাহাড়ের ঝিরি ঝর্ণা শুকিয়ে গেলে এই ঝর্ণাতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পর্যটকরা রাঙামাটি এসে ঝর্ণায় বেড়াতে এসে অনেকেই হতাশ হন। তবে বর্ষার শুরুতে বৃষ্টির পানিতে আবারও উদ্ভিন্ন হয়ে উঠে এই ঝর্ণা। যা স্থির থাকে কয়েকমাস পর্যন্ত। এই সময়টাতে পাহাড়ি এই ঝিরিঝর্ণায় বেড়াতে আসেন পর্যটকরা।

সম্প্রতি সুবলং এ অবস্থিত দুটি ঝর্ণায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকশ পর্যটক এখানে এসেছেন। তারা ঝর্ণার বহমান জলধারায় শরীর ভিজিয়ে নিজেকে প্রাণবন্ত করে নিচ্ছেন। অনেকেই ঝর্ণার স্বচ্ছ পানিতে গোসলও সেরে নিচ্ছেন।

এসময় কথা হয় ঢাকা থেকে আগত মো. মোকাম্মেল হোসেন জয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, দুই দিন ধরেই রাঙামাটি শহরে আছি। কিন্তু রাঙামাটি এসে ঝর্ণা যাব না তা কিভাবে হয়- তাই মনের সেই আপেক্ষ তাড়াতে এখানে ছুঁটে এলাম। ঝর্ণার রোমাঞ্চকর সৌন্দর্য্য দেখে আমি বিমোহিত। খাগড়াছড়ি থেকে আগত অং চিং হ্লা মারমা নামের এক চাকরিজীবী বলেন, এই পাহাড়েই আমার বেড়ে উঠা। শৈশব-কৈশরে কতনা ঘুরে বেড়িয়েছি অথচ এখন চাকরির কারণে ব্যস্ত হয়ে সেইসব দিন হারিয়েছে। দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল, এখানে এসে ঘুরে বেড়ালাম। ঝর্ণার জলধারার শরীর জুড়ালাম।

সুবলং শিলারডাক ঝর্ণার (বড় ঝর্ণা) টিকেট বিক্রেতা জানিয়েছেন, যেহেতু এখন ঝর্ণায় পানি আছে তাই পর্যটকরাও এদিকে আসছেন। তবে শুক্রবার-শনিবার ভ্রমণপ্রেমীদের চাপ কিছুটা বাড়ে। তবে ঝর্ণার পানি শুকিয়ে গেলে তা শূণ্যে নেমে যাবে।

সুবলং যেতে ইঞ্জিনচালিত ট্যুরিস্ট বোট রিজার্ভভাড়া নিতে হয়। এসব ট্যুরিস্টবোট পাওয়া যাবে জেলা শহরের রিজার্ভবাজার লঞ্চঘাট ও পর্যটন ঝুলন্ত সেতু বোটঘাটে। ট্যুরিস্ট বোটচালক প্রমথ দাশ জানান, সাধারণত রাঙামাটি এলে পর্যটকরা কাপ্তাই হ্রদে ঘুরে বেড়াতে চান। এতে করে তাদের প্রথম বা প্রধান গন্তব্যই থাকে সুবলং ঝর্ণা। তাই আমাদের সুবলং কেন্দ্রিক ট্যুরিস্টবোট বেশি ভাড়া হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের ট্যুরিস্টবোট বিভিন্ন প্যাকেজ বিভিন্ন মূল্যে ভাড়া হয়ে থাকে।

রাঙামাটি পর্যটন বোটঘাটের ম্যানেজার রমজান আলী জানান, প্রতিদিন পর্যটন বোটঘাট থেকে ট্যুরিস্টবোট ছেড়ে যায়। তবে শুক্রবার-শনিবারে এ সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যায়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply