নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ‘উগ্রতা আর গুজবে কান দিয়ে সংঘটিত সংঘাতের ফলে দেশের ইমেজ নষ্ট করলে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই ধ্বংস করবো’

‘উগ্রতা আর গুজবে কান দিয়ে সংঘটিত সংঘাতের ফলে দেশের ইমেজ নষ্ট করলে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই ধ্বংস করবো’

khag-Army-picপাহাড়ী-বাঙ্গালী সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি বজায় রেখে এলাকার শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি’র সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদ।
খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে গত ১১ ফেব্রয়ারী গৃহবধূ সবিতা চাকমাকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৫ ও ২৬ তারিখ সংঘটিত জাতিগত সহিংস ঘটনার পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তাঁরা এই কথা বলেন। সভায় ঘটে যাওয়া জাতিগত সংঘাতকে অনাকাংখিত এবং একটি অপশক্তি’র উস্কানিমুলক অপ-তৎপরতা বলেও মন্তব্য করেন। তাঁরা বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার ভূয়াছড়ি সেনা ক্যাম্প মাঠে কমলছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাথে মত-বিনিময়কালে এমন কথা বলেন।
মত-বিনিময় সভায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, একটি কুচক্র মহল সব সময় সজাগ রয়েছে। মহলটি পাহাড়কে সব সময় অশান্ত রাখার অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। আর এতে গুজব মুখ্য ভূমিকা পালন করে। ঘটনা যাচাই না করে কুচক্র মহলের রটিয়ে দেয় গুজব বিশ্বাস করে একটি অস্থিতিশীলী পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে গত দুই যুগের ভাতৃঘাতী সংঘাত নিরসনের জন্যই আওয়ামীলীগ সরকার ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ সম্পাদন করেছে। পাহাড়ে শান্তির জন্য এই চুক্তি বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।
সেনাবাহিনীর জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদ বলেন, তদন্তে সবিতা চাকমার হত্যাকান্ডে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। কিন্তু একটি পক্ষ এটিকে ধর্ষণ হিসেবে দাবী করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে। আইনশৃঙ্কলা বাহিনীর পূর্ণাঙ্গ তদন্তে সবিতা চাকমার হত্যার সত্য বেরিয়ে আসবে। আর এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবেই। উগ্রতা আর গুজবে কান দিয়ে সংঘটিত সংঘাতের ফলে দেশের ইমেজ নষ্ট করলে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই ধ্বংস করবো। তাই শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্যবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া আহ্বান জানান তিনি।
মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মত-বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধিনায়ক কাজী মোঃ শামসুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজান হোসেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে খাগড়াছড়ি পৌর সভার মেয়র মোঃ রফিকুল আলম, সদর উপজেলার নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ শানে আলম, কমলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুপন খীসা, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সুমনালংকার মহাথেরো, কমলছড়ির হেডম্যান কীর্তিময় চাকমা ও স্থাানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহান ফরাজী।
মতবিনিময় সভায় গত ১১ ফেব্রুয়ারী’র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পাহাড়ী-বাঙ্গালী পরিবারকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ মন্দির মেরামত ও সংস্কার এবং কমলছড়ি’র আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শিগগির উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী বিকালে খাগড়াছড়ির জেলা শহরের কমলছড়ির চর এলাকা থেকে পাহাড়ী গৃহবধূ সবিতা চাকমার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবী তাকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় চর এলাকায় বালু উত্তোলন কারী ট্রাক্টর চালক ও হেলপাররা জড়িত দাবী করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন করে আসছিল। এদিকে এই ঘটনায় বাঙ্গালীদের উপর চাপানো ষড়যন্ত্র বন্ধ ও ঘটনার প্রকৃত তদন্ত উন্মোচনের দাবীতে গত মঙ্গলবার শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ। মানববন্ধন শেষ করে তিনটি চাদেঁর গাড়ী যোগে বাড়ী ফেরার পথে গত মঙ্গলবার বিকালে কমলছড়ি মুখ এলাকায় পাহাড়ী-বাঙ্গালীর দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে পরের দিন বুধবার আবার দুটি পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই দিনে উভয় পক্ষের মোট ১৪ জন আহত হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মহালছড়ি সদরের ২ গ্রামের মানুষ

আধুনিক প্রযুক্তির ক্রমবিকাশে পাল্টে যাচ্ছে দুনিয়া। প্রতিনিয়ত উদ্ভাবন হচ্ছে নতুন নতুন আবিষ্কার। মানুষের জনজীবনে পড়ছে …

Leave a Reply