নীড় পাতা » ব্রেকিং » পার্বত্য চুক্তি ইস্যু : ভিন্ন বক্তব্যে পৃথক স্থানে সমাবেশ দুই সাক্ষরকারি দলের

পার্বত্য চুক্তি ইস্যু : ভিন্ন বক্তব্যে পৃথক স্থানে সমাবেশ দুই সাক্ষরকারি দলের

আগামী ২ ডিসেম্বর বুধবার পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১৮তম বর্ষপূতি। দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শেষে ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে এদিন পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যা পরবর্তীতে ‘শান্তি চুক্তি’ নামে সর্বমহলে পরিচিতি পায়। চুক্তির পর থেকেই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে দুরত্ব বাড়ে। প্রতিবছরই চুক্তির বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা চুক্তি বাস্তবায়নে ‘শাসকদলের অনীহা ও ধীরগতি’র অভিযোগ করেন। চুক্তির পর থেকেই জনসংহতি সমিতি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

গত বছর চুক্তির বর্ষপূতির প্রাক্কালে সন্তু লারমা সরকারের কাছে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান। অন্যথায় জনসংহতি সমিতি অসহযোগ আন্দোলনে ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা না করলে জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে বাজার বর্জন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বর্জন ও অফিস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে অসহযোগের প্রাথমিক আন্দোলন শুরু করে। জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দ চুক্তি বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে চুক্তির ১৮ তম বর্ষপূর্তিতে এবার স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জনসংহতি সমিতি পৃথকভাবে দুইটি সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বুধবার সকাল দশটায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান অসহযোগ আন্দোলনের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৮তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে রাঙামাটি জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে এক গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দ জানায়, গণসমাবেশে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও নাগরিক সমাজের ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখবেন। সমাবেশে জনসংহতি সমিতির চলমান অসহযোগ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন স্থানে জনসংহতি সমিতি ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এবারের গণসমাবেশ অন্যান্য বছরের তুলনায় বড় ধরনের আয়োজনের চেষ্টা করছে জনসংহতি সমিতি। এজন্য প্রতি উপজেলায় উপজেলায় প্রচার প্রচারণাও চালানো হচ্ছে। তা ছাড়া অন্যান্য বছর জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা ঢাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও এবার তিনি রাঙামাটি গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জনসংহতি সমিতির নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে চুক্তির বর্ষপূর্তিতে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে র‌্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যান্য বছর জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে চুক্তির বর্ষপূর্তিতে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করলেও এবছর দলটিও বেশ বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করেছে। বুধবার বিকাল সাড়ে তিনটায় রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের কথা রয়েছে বলে জানান আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ। দলটিও সমাবেশ সফল করতে উপজেলায় উপজেলায় প্রচার প্রচারণা ও যোগদানের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করতে কর্মসূচির বিকল্প নেই। তাই এবছর চুক্তির বর্ষপূর্তিতে জনসংহতি সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাঙামাটিতে বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন করেছে। সমাবেশে জনসংহতি সমিতির চলমান অসহযোগ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, চুক্তি আওয়ামী লীগ করেছে। বাস্তবায়নও আওয়ামী লীগ করবে। তবে এর জন্য আমাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। জনসংহতি সমিতি একদিকে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলছে অন্যদিকে সভায় ডাকলে কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবে না, এভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা সৃষ্টি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক এবং চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ২ ডিসেম্বর পার্বত্যবাসীর ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদিন রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে বিজ্ঞান মেলা

‘তথ্য প্রযুক্তির সদ্বব্যবহারঃ আসক্তি রোধ’ প্রতিপাদ্য বিষয়ের আলোকে ৪২তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে …

Leave a Reply