নীড় পাতা » পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়া » ইশতেহারে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি চান নারীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ইশতেহারে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি চান নারীরা

আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে-গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন ভোটারদের নানান রকম প্রতিশ্রুতিও। সারাদেশের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও প্রার্থীরা ভোট ভিক্ষায় চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ-ঘাট। এর মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইশতেহার ঘোষনা করছে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো। আবার নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রার্থীদের কাছে নানা দাবি তুলেও ধরছেন ভোটাররা। পাহাড়ের নারীরা বলছেন, সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে নারী নিরাপত্তার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়া উচিত।

এবারের নির্বাচনী রাঙামাটি আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৮ হাজার ২৪৮ জন ভোটার তাদের। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯৫ জন। নারী ও নতুন ভোটারদের ভোট এখানে প্রার্থীদের কাছে বড় ফ্যাক্টর। পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, পাংখোয়া, তঞ্চঙ্গ্যাসহ আরও কয়েকটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশির ভাগই নারী। এখানকার নারীরা জুম চাষ, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, ব্যবসা, এনজিও কর্মীসহ পুরুষের পাশাপাশি অর্থনীতিতে সমান ভূমিকা রেখে আসছে।

সারাদেশে পূর্বের দিন থেকে বর্তমানে এখন আরও বেশি ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হতে নারীদের। চলতি বছরেই রাঙামাটিতে ১৫ জনের অধিক নারীকে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাই পাহাড়ের নারীদের জননিরাপত্তার দাবি নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ্যের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও নারী নেত্রীরা।

শুভ সংঘের রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শুভ্রা দাশ বলেন, ‘সারাদেশেই গৃহবধূ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, পেশাজীবী নারীদের ঘরে-বাইরে, বাসে ট্রেনে যৌন হয়রানি, নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। আজ সারাদেশেই নারীদের নিরাপত্তা খর্ব হয়েছে।

হিমাওয়ান্তির নির্বাহী পরিচালক ও নারী নেত্রী টুকু তালুকদার বলেন, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি পূরণে সাধারণ ভোটারদের সচেতনতা মুখ্য বিষয়। এক্ষেত্রে ভোটারদের আরও সচেতন হবে। প্রার্থীরা যদি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ভোটারদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কিংবা পালন না রেখে সেক্ষেত্রে আমাদেরকে জনপ্রতিনিধিদের তাদের সচেতন করতে জবে। আমরা প্রতিশ্রুতি আদায়ে সচেতন থাকলে তারাও প্রতিশ্রুতি পালনে সচেতন হবে।

নারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা বলছেন, নারী অধিকার নিশ্চিত ও নিরাপত্তা বিষয়ে রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা দরকার। তিনি বলেন, যারা অপরাধ করেন, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, নারীদের হয়রানির সাথে জড়িত তারা অপরাধীই। কিন্তু দেখা গেছে, যারাই এসব অপকর্ম করে থাকেন, তারা কোনো না কোনো ভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। তাই আমি মনে করি নারী নিরাপত্তা, মানবাধিকার নিশ্চিত ও অপরাধীর শাস্তির ব্যাপারে ইশতেহারে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারতো ভোটাদের প্রার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতি। আর বিশেষ করে ভোটারদের দেয়া এই প্রতিশ্রুতি বেশিরভাগই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পালন করে না জনপ্রতিনিধিরা। যারা ভোটারদের দেয়া প্রতিশ্রুাতি ভঙ্গ করে কিন্তু বারবার তাদেরকেই আমরা ভোট দিই। তাই এক্ষেত্রে ভোটারদের আরও সচেতন হতে হবে। বিষয়গুলো ভাবতে হবে।’

শিক্ষাবিদ নিরূপা আরও বলেন, ‘যারা এসব অপকর্মের সাথে জড়িত, তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্তও। তাই আমি মনে করি, যেসব প্রার্থী অপরাধের সাথে জড়িত, জনবিরোধী কার্যক্রমের জড়িত তাদের প্রার্থীরা না করা ও দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

দীঘিনালায় টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টিসিবি’র ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরে …

Leave a Reply