নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » ‘ইত্যাদি’ময় বর্ণিল খাগড়াছড়ি

‘ইত্যাদি’ময় বর্ণিল খাগড়াছড়ি

ittadi-01কথা ছিল বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে প্রবেশ পথ খুলে দেয়া হবে। কিন্তু এর আগ থেকেই মানুষের ভীড় দেখে গেট খুলে দেয়া হয় বিকাল ৪টায়। দীর্ঘ লাইনে নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা একে একে প্রবেশ করলেন খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্টের গিরিশোভা মাঠে।

উত্তরমুখি মঞ্চের চারপাশে চোখ জুড়ানো আলোকচ্ছটা। পাহাড়ের আদলে সাজানো মঞ্চ। একাধিক ক্যামেরা পরিবেষ্টিত মাঠের চারপাশ।

কবে শুরু হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচাতির দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান‘ ইত্যাদি’র শুটিং। তবে কখন দেখা মিলবে অনুষ্ঠানটির প্রাণ হানিফ সংকেতের। নির্ধারিত সময়ের ঠিক একঘন্টা পর মঞ্চে এলেন যার গ্রন্থনা, পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় আজকেই এই ইত্যাদি সেই হানিফ সংকেত।pic-03

মঞ্চে এসেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হানিফ সংকেত জানালেন খাগড়াছড়ি নিয়ে নিজের মনের কথা। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলকে বাইরে থেকে পানিশম্যান্ট এরিয়া হিসেবে গণ্য ভাবা হলেও আসলে তা নয়। এখানে না আসলেই বোঝা যাবেনা অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই পার্বত্য জেলা।

অনুষ্ঠানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বাঙ্গালীদের প্রায় ৩শ শিল্পী ৪টি ভাষায় তৈরিকৃত একটি দেশের গানের উপর নৃত্য পরিবেশ করেন। নাচটিতে বর্ণাঢ্য পোশাকে ফুটে উঠে পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্টীর সংস্কৃতি।

অনুষ্ঠানে ছিল দর্শক পর্ব। এতে খাগড়াছড়ির গোড়াপত্তন, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রনালয়ের জন্ম, রিছাং ঝরনার অর্থ খাগড়াছড়িতে নিয়ে আরো নানা প্রশ্ন উঠে আসে। পরে সঠিক উত্তরদাতা তিনজনকে নিয়ে দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

এই প্রতিযোগিতার ফাঁকে ক্ষুদ্র জনগোষ্টীর জুম নৃত্য, বোতল নৃত্যু, বাঁশ নৃত্য তুলে ধরা হয়। তুলে ধরা হয় স্থানীয় শিল্পীদের তৈরিকৃত বাদ্যযন্ত্র। এসময় বিজয়ীদের নৃত্য শিল্পীদের মত গানের তালে নাচতে বলা হয়। তিনটি ধাপ পার করে দর্শক পর্বে প্রথম হন মানিকছড়ি মরাডুলু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সানাই মারমা। তিনি কম্পিউটার, বই, গাছের চারা উপহার পান। বাকী দুইজনকে বই ও গাছের চারা উপহার দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানের নিয়মিত পর্ব নানী-নাতনীতে উঠে আসে খাগড়াছড়ির সৌন্দর্যের গল্প। হাসি ঠাট্টার ফাঁকে ফাঁকে দর্শনীয় স্থানগুলোকে পরিচিত করা হয়।

দেশের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী এন্ড্র কিশোর মঞ্চে আসতেই করতালিতে মুখর হয় চারপাশ। ‘ভালোবাসার বাঁধন দিয়ে মানুষগুলো বাঁধা,নানা জাতি সত্তা যেন এক মালাতে গাঁথা। ঈদ পূজা বড়দিনে বৌদ্ধ পূর্ণিমাতে. আনন্দ আর ভক্তিরসে মিলি সবাই সাথে। শান্তি সুখের দাবিতে বৈশাখী-বৈসাবীতে প্রাণের পরিবেশ আহা এইতো আমার দেশ।’ গানের সুরে সুরে তিনি জানালেন পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্টীর কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গল্প।pic-04

অনুষ্ঠানে হানিফ সংকেত দর্শকদের প্রশংসা করে বলেন, অন্য যেই জেলাগুলোতে ইত্যাদির শুটিং হতো সেখানে দর্শকদের সামাল দিতে অনেক কষ্ট হতো কিন্তু এখানকার দর্শক অনেক ধৈয্যশীল। জানালেন কিভাবে অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণ করা হবে।

ইত্যাদি অনুষ্ঠানের সত্তর ভাগ শুটিং এর কাজ বাইরে শেষ করা হয়। বাকী ত্রিশ ভাগ আজ মঞ্চে করা হয়। এছাড়ও মঞ্চের আরো পর্বের শুটিং আগেভাগে করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে খাগড়াছড়িতে ছিল উৎসবের আমেজ। তিন হাজার আসনের ব্যবস্থা থাকলেও এতে প্রায় ৫ হাজার দর্শক ছাড়িয়ে যায়। আগামী ৩০ জানুয়ারী অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হবে বরে জানা গেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply