ইউএনও’র সাথে দুর্ব্যবহার উপজেলা চেয়ারম্যানের !

পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের শোকযাত্রায় ডাকা-না ডাকাকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু শাফায়াত শাহেদুলের সঙ্গে চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ চরম দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শোকযাত্রায়ই উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ ইউএনওকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘এই তুই আঁর কেরানি। র‌্যালিতে তুই আঁরে ন ডাকছ ক্যা! তোর হাজ অইয়েদে আঁর অর্ডার পালন গরন। সাবধান অইজাগই।’ (তুমি আমার কেরানি। র‌্যালিতে তুমি আমাকে ডাকনি কেন? তোমার কাজ শুধু আমার নির্দেশ পালন করা। সাবধান হয়ে যাও।)

স্থানীয়রা জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ একজন জামায়াত নেতা। তিনি চট্টগ্রামের এইট মার্ডার ঘটনার আসামি ও রামুর বৌদ্ধপল্লীতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফায়াত শাহেদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফায়াত শাহেদুল ইসলাম জানান, শনিবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেই উপজেলা চেয়ারম্যান তাঁকে বিশ্রী ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আর উপজেলা চেয়ারম্যান স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের একজন নেতা হিসেবে আমাকে ব্যক্তিগত অপছন্দ করার ব্যাপারটি থাকতেই পারে। তাই বলে একদম প্রকাশ্যে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এমনভাবে লাঞ্ছিত করবেন?’

এদিকে ঘটনার তদন্ত করতে এসে বান্দরবান জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নুরুল্লাহ নুরী গতকাল নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরে আসেন। তিনি ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইউএনও জানান, শনিবার সকাল ৮টায় শোকযাত্রা করার কথা। সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচি পালনের দায়িত্ব পালনের কারণে শোকযাত্রা শুরু হয় সাড়ে ৮টায়। এ সময় যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন তাঁদের নিয়ে তিনি (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) একটি বিশাল শোকযাত্রা শুরু করে দেন। শোকযাত্রাটি একপর্যায়ে পুরনো স্টেশনে পৌঁছলে হঠাৎ করে উপজেলা চেয়ারম্যান এ শোকযাত্রায় যোগ দেওয়ার অভিনয় করে তাঁকে একটি ধাক্কা দিয়ে পাশাপাশি শোকযাত্রা নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে থাকেন। এ সময়ই উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনওকে গালাগাল করতে থাকেন।

ইউএনও শাহেদুল ইসলাম আরো বলেন, র‌্যালি শেষ হয় উপজেলা পরিষদ চত্বরের মুক্তমঞ্চে এসে। এখানেও একইভাবে আজেবাজে বকাঝকা শুরু করে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান। পরে তিনি বিষয়টি বান্দরবান ডিসিকে জানাবেন বললে উপজেলা চেয়ারম্যান চিৎকার করে বলেন, ‘তোমার ডিসি-টিসি আমার কী! কিসের ডিসি? যাও বলো না দেখি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্য মাস্টার ক্যউচিং চাক, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজি আবু ছৈয়দ, আওয়ামী লীগ নেতা ছৈয়দ আলম প্রমুখ।

মাস্টার ক্যউচিং চাক বলেন, ‘তোফাইল সাহেব কাজটা মোটেও ভালো করেননি। শোক দিবসের র‌্যালিতে ডেকে এনে র‌্যালি করার দায়িত্ব নিশ্চয়ই ইউএনও সাহেবের নয়। স্ব-স্ব দায়িত্বে চলে আসা উচিত, যদি না বঙ্গবন্ধুর প্রতি একটুও শ্রদ্ধা থাকে।’

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শামীম ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘তুই আঁর কেরানিসহ অনেক কথা উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহমদ বলেন ইউএনও সাহেবকে।’

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা তোফাইল আহমদ বলেন, ‘শনিবার তেমন বড় কিছু ঘটেনি। ইউএনওকে যা একটুখানি বলার তাই বলেছি।’

(কৃতজ্ঞতা : কালের কন্ঠ)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

৪ comments

  1. জামাত করলেই মানুষ খারাপ হয়ে যায় না,মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হলেই ভাল মানুষ হবে তাও ঠিক নয়।বরং তোফাইল সাহেবকে জনগনই জেনেশুনে চেয়ারম্যান হিসেবে নিবার্চিত করেছে…

  2. ইউএনও নিশ্চয় খবরদারী করতে চেয়ে ছিল ৷

  3. jamat kara upajila chairman thaka ke kara.gapti Mara thaka sadhinota berodhera ai vaba sobol mara.samay thakta odar nermul karta Haba.sadhin banglay odar thakar odikar nai.

  4. jamat kara upajila chairman thaka ke kara.gapti Mara thaka sadhinota berodhera ai vaba sobol mara.samay thakta odar nermul karta Haba.sadhin banglay odar thakar odikar nai.

Leave a Reply

%d bloggers like this: