আহ্ জীবন

jibonnnদেড় বছরের শিশু ভাইটির দেখভালের পুরো দায়িত্ব চার বছর বয়সি একমাত্র বোনের ওপর। ছোট্ট ভাই আলহাজ্ব ঝুপরি ঘরের দরজায় থাকা ভাঙ্গা বেঞ্চের ওপর বসে বসে ঘুমে ঝিমুচ্ছে; তখন তার দায়িত্বে থাকা বোন ফারজানা আক্তার মুন্নি ভাইয়ের পাশে খেলায় ব্যস্ত। এভাবেই কাটে সারাদিন। আর এ অবস্থায় কয়েকবার পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার চি‎হ্নও রয়েছে ছোট্ট শিশুটির মুখে ও হাতে। আর ফ্যাল ফ্যাল করে তাকানো দুই শিশুর চোখে-মুখের ভাষায় রয়েছে পৃথিবীর পুরো অসহায়ত্বের ছাপ। দেখলে যে কারো চোখে জল আসবে।

উপজেলার দীঘিনালা-মেরুং সড়কে মধ্যবোয়ালখালি এলাকায় পাকা সড়ক ঘেঁষে ছোট্ট ঝুপরি ঘর। ঘরের দরজায় ভাঙ্গা একটি বেঞ্চ। সে বেঞ্চে ছোট্ট একটি শিশু বসে বসে ঘুমাচ্ছে। কখনও পাশে চার বছর বয়সি আরেক শিশু আর কখনো একা। ছোট্ট শিশুটির মুখে আঘাতের চি‎হ্ন। বাম হাতে আগুনে পোড়া দাগ। দুই ভাই-বোনের শরীরে ময়লা জমে রয়েছে, পরনে ছেড়া জামা। প্রতিদিন এ চিত্রটি এ পথে চলাচলকারীদের চোখে পড়ে।

প্রতিদিন সকাল বা বিকালে একই চিত্র দেখার কারণে আগ্রহ হয় জানার। গত শনিবার দেখা যায়, অবুঝ শিশুটি বেঞ্চে বসে ঝিমুচ্ছে। ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে মাথা হেলে পরতেই জেগে উঠে। আবার চোখ বন্ধ করে মাথা হেলে পরছে। কিন্তু বসে ঘুমালেও ভাঙ্গা বেঞ্চ থেকে পড়ে যাচ্ছে না; এটা যেন তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। জানতে চাইলে চার বছর বয়সি ফারজানা বলে, ‘মা মারা গেছে; বাবা কাজে গেছে’। ভাইকে কে দেখে প্রশ্ন করতেই সহজ উত্তর, ‘আমি’। ফারজানা আরো জানায়, দরজায় বেঞ্চে বসে রাস্তায় চলা গাড়ি দেখে সময় কাটে তাদের। আর গাড়ি দেখে দেখেই ঘুমিয়ে যায়। মা’র কথা মনে পড়ে জিজ্ঞেস করতেই ছল ছল চোখে তাকায় আর কথা বন্ধ হয়ে যায়।

পার্শ্ববর্তী আমেনা খাতুন (৬৫) জানায়, কয়েকবার পরে গিয়ে বাচ্চাটির মুখে ক্ষত হয়েছে এবং একবার আগুনে হাত পুড়েছে। তিনি আরো জানান, বড় বোনটিওতো ছোট, সে থাকে খেলা নিয়ে ব্যাস্ত।

খোঁজ নিয়ে প্রায় ২ কি. মি. দুরে পাওয়া গেল শিশুদের বাবাকে। একটি হোটেলে কাজ করেন হতদরিদ্র পিতা পারভেজ (২৮)। তিনি জানান, কিশোরঞ্জের যশোদল এলাকার কালকিয়া বাড়ি গ্রামে থাকতো। দারিদ্রতার কারণে কাজ করতে এখানে আসা। নিজের কোনও জায়গাজমি নাই, কাজই একমাত্র ভরসা। শিশু বাচ্চার বয়স যখন চার মাস তখন স্ত্রী আছমা মারা যায়। খাদ্যনালিতে ঘা এবং জন্ডিস আক্রান্ত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই মারা যান। শিশু দুইটিকে সকালে ভাত খাইয়ে কাজে বের হতে হয় তাঁর। এভাবেই চলছে আপাতত জীবন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

Leave a Reply