নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » আহত ইউপিডিএফ সমর্থক সন্তোষ চাকমা হিমেল মারা গেছেন

আহত ইউপিডিএফ সমর্থক সন্তোষ চাকমা হিমেল মারা গেছেন

updf-flagরাঙামাটির নানিয়ারচরে গুলিবিদ্ধ তিন ইউপিডিএফ সমর্থকের মধ্যে সন্তোষ চাকমা হিমেল (২৫) শুক্রবার রাত আনুমানিক সোয়া এগারোটার দিকে চট্টগ্রামে মারা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে রাঙামাটি সদর হাসপাতাল ও পরে চট্টগ্রামে পাঠানো হলে সেখানে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা। নিহত সন্তোষ চাকমা হিমেলের বাড়ী নানিয়াচরের শিয়াল্যাপাড়া এলাকায়। আহত বাকী দুইজন শংকামুক্ত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যার পর রাঙামাটি খাগড়াছড়ি সড়ক ধরে মহালছড়ি থেকে একটি মোটর সাইকেলযোগে ফিরছিলেন গুলিবিদ্ধ তিন ইউপিডিএফ সমর্থক। পথে রামহরিপাড়া রাস্তার মুখ এলাকায় এলে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের উদ্দেশ্য করে গুলি করলে তারা মোটরসাইকেলসহ ছিটকে পড়ে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুষ্কৃতিকারিরা তাদের ফেলে চলে যায়। প্রাথমিকভাবে আহত মঙ্গল কান্তি চাকমা ও জীবন কুমার চাকমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর বেশ কিছু সময় পর আরেক আহত সন্তোষ চাকমা হিমেলকে পাওয়া যায়। তাকেও রাঙামাটি সদর হাসপাতাল হয়ে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

ইউপিডিএফ এই ঘটনার জন্য রাঙামাটি আসন থেকে বিজয়ী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি উষাতন তালুকদারকে দায়ী করেছে। তবে উষাতন তালুকদারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউপিডিএফ মুখপাত্র মাইকেল চাকমা অভিযোগ করেছেন,বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুইদিন আগে থেকে উষাতন তালুকদারের ১৮/২০ জন সশস্ত্র কর্মী রামহরিপাড়ার কৃঞ্চমাছড়া এলাকায় অবস্থান করে ওই এলাকা ও আশেপাশের এলাকায় তান্ডবে লিপ্ত রয়েছে। তাদের কাছে পুরো এলাকার মানুষ জিম্মি হয়ে আছে বলে দাবি করে তিনি অভিযোগ করেন,উষাতন তালুকদার নির্বাচনেও ওই সশস্ত্র গ্রুপকে ব্যবহার করেছেন এবং এখনো ওই এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র সন্ত্রাসী ওই গ্রুপটিকে কাজে লাগাচ্ছেন। গুলিবিদ্ধ তিনজনই তাদের সমর্থক বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে মাইকেল চাকমার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিগত নির্বাচনে উষাতন তালুকদারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট উদয়ন ত্রিপুরা বলেন,এইসব ভিত্তিহীন,বানোয়াট অভিযোগ। উষাতন তালুকদারের কোন সশস্ত্র গ্রুপ থাকার প্রশ্নই আসেনা। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এইসব অভিযোগ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন,আমরা জেনেছে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইউপিডিএফ এবং সংস্কারপন্থীদের সমঝোতা না হওয়ায় তাদের দুই গ্রুপের দ্বন্ধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর সাথে জনসংহতি সমিতির বা উষাতন তালুকদারের কোন সম্পর্কই নেই।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার আমেনা বেগম,গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছিলেন,আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে,তারা ইউপিডিএফ সমর্থক বলেই আমরা জেনেছি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জনপ্রিয় হচ্ছে ‘তৈলাফাং’ ঝর্ণা

করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল খাগড়াছড়ির পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। তবে টানা বন্ধের পর এখন খুলেছে …

Leave a Reply