নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » আসামী আটকে ভাইস চেয়ারম্যানের বাধা !

আসামী আটকে ভাইস চেয়ারম্যানের বাধা !

মানিকছড়িতে পুলিশি অভিযানে চাঁদাবাজি ও প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেপ্তারে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। যদিও বাধা উপেক্ষা পুলিশ শেষাবধি অপরাধীকে আটক করে ! এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ির ঢাকাইয়া শিবির এলাকার আবদুল মজিদ’র ছেলে এইচ.এম. আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার জেলা ও উপজেলার (সাংবাদিক) প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিল। পুরো জেলায় তার পদচারণা ও প্রতারণায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পর্যন্ত তটস্থ ছিল। অহেতুক যেখানে-সেখানে গিয়ে নিজেকে কখনও ভোরের কাগজ, আজকের কাগজ, মুক্তবানী, দি নিউ নেশন, আলোর জগত আবার কখনও টিভি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অল্প সময়ে আলোচিত হয়ে উঠে সে। তবে জেলা কিংবা উপজেলার কোথাও কোন প্রেস ক্লাবের সাথে তার সংশ্লিষ্ঠতা ছিল না। এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীর সাথে তার দহরম-মহরম সর্ম্পকে বুক ফুঁলিয়ে চলতে কিংবা সংবাদ পরিবেশনের নামে উৎকোচ নিতে দ্বিধা করতো না সে! ফলে ২০১৩ সালে চাঁদাবাজির মামলা নং ১৬০/১৩ ধারা ৪৪৭/৩৮৫/৩৮৭ এর মামলায় ২৮ দিন জেল-হাজতে থাকতে হয়েছে। যা পরে এস.টি ৮৮/১৩ মূলে মামলাটি এখনো বিচারাধীন।

সম্প্রতি দৈনিক মুক্তবাণী পত্রিকায় মানিকছড়ির বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, চাকুরীজীবিকে নিয়ে মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে আবার আলোচনায় উঠে আসে। যদিও পরে মুক্তবাণী কর্তৃপক্ষ এ নামে তাঁদের কোন রিপোর্টার বা প্রতিনিধি নেই মর্মে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির আমলী আদালতে বাটনাতলী ইউপি সদস্য মো. রুস্তম আলী বাদী হয়ে সি.আর মামলা নং ৩০৬ ধারা ৩৪১/৩৮৫/৩৮৭/৩৮৯/৫০০/৩৪ দ.বি মামলা রজু করে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সে দিনই এইচ.এম. আলমগীর ও তার সহযোগি মো. ফারুক’র বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত শুক্রবার পুলিশ ওয়ারেন্ট পেয়ে রাতে অভিযানে যায়। থানার এস.আই তোফায়েল আহম্মদ রাত সাড়ে ১১ টায় এক দল পুলিশ নিয়ে বাজারস্থ তার ভাড়াটিয়া বাসা গেলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম(বাবুল)সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে গ্রেপ্তারে বাঁধা দেয় এবং বলেন যে, সি.আর মামলার আসামীকে গ্রেপ্তার করা জরুরী নয়! এ নিয়ে দীর্ঘ দু’ঘন্টা জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের মধ্যে বাকযুদ্ধ চলতে থাকে।

এক পর্যায়ে থানার ও.সি মো: শফিকুল ইসলাম এবং ইউ.এন.ও সনজীদা শরমিনসহ উপজেলার সুধীজনদের হস্তক্ষেপে রাত ১টায় ভাইস চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আসামী নিজে আত্মহত্যার হুমকি দেয় এবং অসুস্থতার ভান করতে থাকে! সকাল সাড়ে ৯টায় কড়া পুলিশ প্রহরায় তাকে আদালতে নেয়া হয়। এদিকে তার গ্রেপ্তারের খবরে নিজ এলাকা ঢাকাইয়া শিবিরে মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে।

থানার ও.সি মো.শফিকুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালতের ওয়ারেন্ট পেয়ে পুলিশ তাকে অটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে। কোন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে যেখানে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা থাকা জরুরী আজ তার উল্টো ঘটনা ঘটছে। যা দুঃখজনক’- বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে পর্যটক বাড়লেও বুকিং কম হোটেল-মোটেলে

অন্যান্য পর্যটন মৌসুমের মতো চাপ না থাকলেও মরণঘাতী করোনার ভয়কে উপেক্ষা করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘রাজধানী’খ্যাত …

Leave a Reply