নীড় পাতা » খেলার মাঠ » আশাবাদ নেই, শুধুই হতাশা খেলার মাঠে

আশাবাদ নেই, শুধুই হতাশা খেলার মাঠে

stadiumm-01রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনের গৌরব আর ঐতিহ্য ক্রমশ: বিলীন হচ্ছে নাকি ফিকে হয়ে আসছে,এনিয়ে আলোচনা আছে গত কটা বছর ধরেই। কিন্তু ২০১৬ যেনো সেই আলোচনার আগুনে ঘি ঢেলে দিলো। এই বছরটি বলা যায়,রাঙামাটির ফুটবল এবং ক্রিকেটের জন্য হতাশার বছর।

জেলা ক্রীড়া সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে জেলা ফুটবল লীগ অনুষ্ঠিতই হয়নি। হয়নি জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপও। শুধু পার্বত্য জেলা পরিষদ গোল্ড কাপটিই অনুষ্ঠিত হয়েছে,যেটা ফুটবলের একমাত্র সাফল্য ! ফুটবল লীগ আয়োজনের ব্যর্থতার জন্য নিজেদের দায় স্বীকার করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব এবং স্পন্সর না পাওয়ার সমস্যার কথা বলেছেন। তবে এর বাইরে আয়োজিত হয়েছে বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধু ফুটবল।

আর ক্রিকেটে বছরের শুরুতে নানান চড়াই উৎরাই পার হয়ে রাঙামাটি পৌরসভা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রিকেট লীগ যতটা জমকালো হওয়ায় তা না হলেও লীগশেষে ক্লাবগুলোর প্রতিশ্রুত অর্থ নিয়ে শুরু হয় নানান টালাবাহানা। ফলে পুরো বছর শেষ হলেও ক্লাবগুলো আর প্রতিশ্রুত টানা হাতে পায়নি। শুধু তাই নয়, খেলা পরিচালনাকারি আম্পায়াররাও পায়নি তাদের সম্মানী। এর জেরে পুরো জেলার ক্রিকেটই প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। মাঝে একটি টি-২০ আয়োজিত হলেও সেটিও ছিলো প্রাণহীন।

আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সবকটি ক্যাটাগরিতে নিয়মিত অংশ নিয়েও গোহারা হেরে জেলার ক্রিকেট সম্মানকে যেনো ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টীমগুলো। এইসব টীমের ব্যর্থতার দায় জেলা ক্রীড়া সংস্থা বলছে,ক্রিকেট উপ কমিটির। কিন্তু বাস্তবতা হলো, রাঙামাটিতে বিসিবির একজন বেশ উচ্চ বেতনভূক্ত ক্রিকেট কোচ থাকলেও তার ব্যর্থতা সম্পর্কে মুখ খোলেনা কেউই। আর অপেশাদার এবং এ্যামেচার লোকজনদের বয়সভিত্তিক দলগুলোর কোচ,ম্যানেজার করে পাঠানো নিয়েও আছে নানান বিতর্ক। দল নির্বাচন নিয়েও আছে নানান কুতর্ক। পুরো বছরে ক্রিকেটের অর্জন বলতে গেলে,চট্টগ্রাম বিভাগীয় টীমের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দুইজন খেলোয়াড় ডাক পাওয়া টাকেই বলা চলে।

এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর,সাবেক জাতীয় ফুটবলার বরুণ দেওয়ান বলেন, ক্রিকেটের ব্যর্থতাটা আসলে সামগ্রিক ব্যর্থতা। এখানে সবার কমবেশি দায় আছে। সারাবছর প্র্যাকটিসে না থেকে শুধু চিঠি আসার পর সপ্তাহখানেকের প্রশিক্ষণের পর একটি টীম পাঠালে ফলাফল তো ভালো আসবেনা। ক্রিকেট লীগের অংশ নেয়া দলগুলো ও আম্পায়ারদের টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, দলগুলোকে অর্থ দেয়ার বিষয়টি ক্রিকেট উপ কমিটির আহ্বায়কের একক সিদ্ধান্ত ছিলো,তবুও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাবমূর্তির স্বার্থে আমরা টাকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি,টাকা ম্যানেজ হলেই ক্লাবগুলোর প্রাপ্য অর্থ দিয়ে দিবো। আশা করছি, ১০ জানুয়ারি মধ্যেই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিতে পারব।

ক্রিকেট আর ফুটবলের হতাশার গল্পের মধ্যে আশার গল্প হলো, এই বছরে প্রতিভা অন্বেষন কার্যক্রমের কর্মসূচী পালিত হয়েছে দশটি খেলার। এর মধ্যে ছিলো জিমন্যাস্টিকস,বক্সিং,জুডো,কারাতে,ভলিবল,হ্যান্ডবল,সাঁতার,ব্যাডমিন্টন।

আশাবাদের গল্প শুনিয়ে বরুণ দেওয়ান বলেন, এই অর্থ বছরে একশ ফুট গ্যালারি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। জিমনেসিয়ামটির আধুনিকায়ন হয়েছে। একই সময় আরো একশ ফুট গ্যালারির কাজ করতে,এবং সুইমিং পুল,সীমানাপ্রাচীর,খেলোয়াড়দের হোস্টেল নির্মাণের কাজ সহ বেশ কিছু উন্নয়ন কাজের জন্য প্রায় সাড়ে এগারো কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। আশা করছি, এই পরিকল্পনা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হলে জেলা ক্রীড়ার সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।

হতাশার নাম শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়াম
একসময় রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয় মাঠ ছিলো শহরের রিজার্ভবাজারের শহীদ শুক্কুর স্টেডিয়াম। কিন্তু সেই মাঠটি অযত্ম আর অবহেলায় এখন খেলার অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। সেখানে দিনে পিকনিক পার্র্টির রান্না বান্না,ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রহী রাখা আর রাতে অনৈতিক কাজের আখড়ায় পরিণত হওয়ার ঘটনা পুরো শহরবাসির মুখে মুখে ফিরলেও এ থেকে মুক্তি মিলছে না।

এ প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক বরুণ বিকাশ দেওয়ান বলেন, মাঠটিতে নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য পৌর মেয়র জেলা প্রশাসক অর্থাৎ আমাদের ক্রীড়াসংস্থার সভাপতির কাছে সাতদিনের অনুমতি নেন,কিন্তু সাতদিন পেরিয়ে এখন মাসের পর মান পেরিয়ে গেলেও এসব নির্মাণ সামগ্রী সরানো হচ্ছেনা। মাঠ তো আমাদের একার না, আমাদের সবার,রাঙামাটির সম্পদ,এর প্রতি সবার দায়িত্ব থাকা উচিত।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

গাছকাটা মামলায় কাপ্তাই যুবলীগ সভাপতির ৩ বছরের কারাদণ্ড

বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিনকে কারাগারে …

Leave a Reply