নীড় পাতা » ফিচার » অরণ্যসুন্দরী » আরো বেশি মুগ্ধতা ছড়াবে জীবতলী রিসোর্ট

আরো বেশি মুগ্ধতা ছড়াবে জীবতলী রিসোর্ট

jibtoli-resot-01একদিকে কর্ণফুলী নদী আর অপরদিকে দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদ, এর মাঝখানে কাপ্তাই উপজেলা। প্রকৃতি যেনো রূপ সৌন্দর্য্য উজাড় করে দিয়েছে এখানে ।
এখানে অবস্থিত মায়াবী সৌন্দর্য্যমন্ডিত জীবতলী রিসোর্ট। নির্জনতাপ্রিয় মানুষের জন্য অনাবিল অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে তোলা হয়েছে একে। যান্ত্রিক জীবনের একগুয়েমী জীবন-যাপন থেকে কিছুটা সময় যারা সঙ্গী ও বন্ধু নিয়ে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি সময় কাটানোর জন্য পরিকল্পনা করেন তাদের জন্য উপযুক্ত স্থানও বটে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অসংখ্য নান্দনিক স্থাপনার একটি ৩৫ একর জায়গাজুড়ে স্থাপিত এই জীবতলী রিসোর্ট। কাপ্তাই জোন এর ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। চিরায়ত সৌন্দর্য্যের আঁধার জীবতলী রিসোর্ট বদলে যাচ্ছে,সেখানে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন স্থাপনা,আরোবেশি পর্যটকবান্ধব করতে নেয়া হয়েছে বিশাল কর্মপরিকল্পনা।jibtoli-resort-02

কাপ্তাই লেকের পাশ ঘেঁেষ পাহাড়ের কোলে গড়ে তোলা হচ্ছে নয়নাভিরাম বেশ কিছু নতুন কটেজ,চলছে নির্মানযজ্ঞ। না কৃত্রিম কোনো যন্ত্রের স্থান থাকবেনা এসব কটেজে,সম্পূর্ণভাবেই প্রাকৃতিকছোঁয়ায় নির্মিত হচ্ছে এসব কটেজ। মাটির দেয়াল আর পাহাড়ি ছনের ছাদ দেয়া হচ্ছে এসব কটেজে। এক পাহাড় থেকে অপর পাহাড়ের কটেজ দেখে মনে হবে যেন কোনো গ্রামীন জনপথের কাঁচা বাড়িঘর। এখানে থাকবেনা কোনো বৈদুতিক পাখা কিংবা এয়ার কন্ডিশনের ব্যবস্থা। ভিতরে বৈদ্যুতিক বাল্বের নয়,জ্বলবে কুপি বাতির মিটমিট আলো। রূপালী চাঁদের আলোয় ঝলমল করবে এসব কটেজ। প্রকৃতির মৃদু বাতাস শীতল করবে শরীর। জ্যোৎ¯œা জাগাবে শিহরন। পাহাড়ের আঁকা-বাঁকা সরু এবং উঁচু পথ বেয়েই যেতে হবে এসব কটেজে। আকাশই যেন এসবের ছাদ এমনটিই মনে হবে আপনার। শুধু তাই নয়। এসব কটেজের সামনে দাঁড়ালে দেখা মিলবে কাপ্তাই লেকের বিশালতা, পাহাড়ের বুক চিরে কাপ্তাই লেকের বয়ে চলা। আর এসব কটেজের নামকরনও করা হবে শৈল্পিক নামে এমনটি জানিয়েছেন এখানকার কর্তৃপক্ষ। লেকের মাঝে করা হয়েছে সুইমিং পুলের ব্যবস্থা। শুধু বড়দের জন্য নয়, ছোটদের জন্যও থাকবে এ ব্যবস্থা। এছাড়াও শিশুদের জন্য নানান খেলাধুলার ব্যবস্থাও করা হবে এখানে। থাকবে মিনি চিড়িয়াখানার । পার্টি দেয়ার মতও আধুনিক ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।jibtoli-resort-03

শুধু পাহাড় আর লেকের মনমুগ্ধতার মাঝেও রাঙামাটিতে এসে ঝুলন্ত ব্রীজ না দেখার শুন্যতাও অনুভুত হবে না। কারণ দুইটি ছোট ছোট ঝুলন্ত ব্রীজও হচ্ছে এখানে। দুই পাহাড়ের মাঝখানে ঠাঁয় দাঁিড়য়ে থাকা এ ব্রীজ দুইটির সৌন্দর্যেও যে কারো মন ভরে যাবে।
যেভাবে যাবেন জীবতলী রিসোর্ট : ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে এ উপজেলায় যে কোনো বাহনে চড়ে যাওয়া যায়। তবে রাঙামাটি সদর থেকে সড়ক ও নৌপথে উভয় পথেই যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। নৌপথে যেতে তিন ঘন্টা আর সড়ক পথে দুইটি ভিন্ন পথ ধরে যাওয়া যায়। ঘাগড়া হয়ে গেলে সময় লাগে বেশি, দুই পাহাড়ের মাঝখানে ছুটে চলা রাস্তা দিয়ে যেতে নজরে পড়বে এখানকার স্থানীয় অধিবাসিদের জীবনচিত্র। আর আসামবস্তি হয়ে গেলে সময় লাগবে কম। পাশাপাশি বিশালকার পাহাড়ের উপর দিয়ে ছুটে চলা ১৯ কিঃমিঃ রাস্তা দিয়ে যেতে লেকের বিশাল জলরাশির সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যাবে মনভরে,আর মুগ্ধতা ছুয়ে যাবে আপনাকে। চলার পথে পাহাড়ী শহর রাঙামাটির ভিন্ন একটি চিত্রও দেখে নেয়াও যাবে। এ পথ দিয়ে যেতে ছোট বড় ৮/৯টির মত ব্রীজের দেখা মিলবে। লেকের ফলে ভাগ হয়ে যাওয়া দুই পাহাড়ের মিলনস্থলও এসব ব্রীজ। ১৯ কিলোমিটার সড়কটির মুগ্ধতায় যে কেউ বিমোহিত হবে,এটা নিশ্চিত।jibtoli-resort-04

জীবতলী রিসোর্টে রাত-দিনের যে কোনো সময়ই আপনি মন ভরে উপভোগ করতে পারবেন। সকালের সুর্য্য যখন পূর্বাকাশে উঁিক দেয় তখন সোনালী আলোক ছটায় লেকের পানির বর্নিল রূপ দেখা যায়। পাহাড় আর হ্রদের সৌন্দর্যের সাথে যেন সূর্যের আলোর দারুন মিতালী এখানে। দুপুর হতেই যখন রোদের প্রখরতা লেকের পানিকে আরো ঝলমল করে তোলে। দুপুর গড়ালে আকাশের নীল রং যেন আছড়ে পড়ছে লেকের স্বচ্ছ পানির উপর-এমন অপরূপ সৌন্দর্য অন্যরকম অনুভুতিতে হারিয়ে ফেলবে নিজেকে। পড়ন্ত বিকেলের আলোক রশ্মি আরো মোহনীয় করে তোলে পুরো পরিবেশ। আর রাতের নীস্তব্দতা ভেদ করে ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ, শান্ত লেকের উপর রূপালী চাঁদের ঝিলিক এবং মৃদু বাতাসে পুরো পরিবেশ হয়ে উঠবে রোমাঞ্চকর। যেহেতু সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুরো এলাকাটি তাই নিরাপত্তার ব্যাপারে বাড়তি কোন টেনশনই নেই আপনার। দিন আর রাতের যেকোনো সময়ই এখানে ঘুরে বেড়ানো যাবে অনায়াসে,ভয়হীনচিত্তেই।jibtoli-resort-05

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply