আরাকান আর্মির’ই শীর্ষ নেতা রেনিন সো

arakan-armyটানা কয়েকদিন ধরে নিজেকে একজন ‘নিরীহ’ ‘সমাজসেবি’ এবং ‘নির্বিবাধী চিকিৎসক’ হিসেবে দাবি করে আসা ডা: রেনিন সো এর প্রকৃত মুখোশ অবেশেষ উন্মোচিত হয়ে গেলো। বৃহস্পতিবার তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগি এবং মায়ানমারে আরাকান  আর্মির হয়ে সশস্ত্র লড়াইয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে দুইহাত হারানো অং নং ইয়ং’ই ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দীতে নিজের ‘বস’ ডা:রেনিন সো এর প্রকৃত পরিচয় জানিয়ে দিয়েছেন এবং এদিন একজন সাংবাদিকের সাথে স্কাইপি কথোপকথনে তিনি নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন আরাকান আর্মিরই একজন তিনি। একই দিন নিজের ফেসবুকেই তিনি নিজের জনগণের উদ্দেশ্যে লিখেছেন. ‘দেশ নেই তো নিরাপত্তাও নেই। তাই আমাদের প্রয়োজন একটি দেশ তৈরি করা,জেগে উঠো আমার জনগণ,জেগে উঠো নিজের অধিকারের লড়াইয়ে’।

বৃহস্পতিবার টানা ৫ দিনের রিমান্ড শেষে অং নং ইয়াং রাঙামাটির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো: মোহসেন আর আদালতে ‘দোভাষী’ হিসেবে মহিলা পুলিশের এসআই হ্যামি প্রু মারমা’র সহায়তায় জবানবন্দী প্রদান করেন।

জবানবন্দীতে সে তার এবং রাজস্থলীর সেই আলোচিত বাড়ীর মালিক ডা: রেনিন সো এর আরাকান আর্মির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার চিত্তরঞ্জন পাল।remangsuuuu

একই দিনে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেল এর সাথে এক স্কাইপি সাক্ষাৎকারেও নিজের প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরেছেন রেনিন সো,যাতে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করা তার ভিডিও বার্তা,প্রেসরিলিজ ও স্ট্যাটাসের অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য এড়িয়ে সরাসরিই জানান দিয়েছেন আরাকান আর্মির হয়ে নিজের বক্তব্য । এবার তিনি সরাসরিই জানালেন, ‘বাংলাদেশের সাথে আরাকান আর্মির কোনো শত্রুতা নেই। তাদের যুদ্ধ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে। কারণ তারা আরাকান রাজ্যের স্বাধীনতা চান।’

বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিচ্ছে, মিয়ানমারের এমন অভিযোগও উড়িয়ে দেন রানিন সো। পুলিশের খাতায় পলাতক রানিন সো’র সাথে স্কাইপে’তে কথা বলেছেন চ্যানেল-২৪ এর সাংবাদিক নাহিদ হোসেন।dr-03

তার সাথে স্কাইপি কথোপকথনে রেনিন সো জানান কেনো তাদের এই স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি বলেন, ‘১৭৮৪ সাল পর্যন্ত এটা আরাকান কিংডম ছিলো, এখানে অনেক কিছুই হয়, সব নিয়ে যায় মিয়ানমারের সেনারা। তাই আমরা স্বাধীনতা চাই।’

আরাকান আর্মির সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘স্বাধীনতার সেই লক্ষ্যে পৌঁছুতেই বিদ্রোহী দলের হাতে উঠেছে অস্ত্র। ২০০৯ সালের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে আরাকান আর্মি। যাদের সুস্পষ্ট যুদ্ধ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে। দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করেছে আরাকান আর্মি। চলে প্রশিক্ষণ, আছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ।’dr-cover-02

আরাকান আর্মির বিশাল সমস্ত্র গ্রুপ থাকার কথা স্বীকার করে রেনিন সো, মায়ানমার সেনাবাহিনী যেহেতু অস্ত্র দিয়ে দেশ শাসন করে,তারাও অস্ত্রকেই ভয় পায়,তাই আমরাও তাদের অস্ত্র দিয়েই মোকাবেলা করছি। আমাদের দুই তিনশ মানুষ নয়, প্রায় দশ হাজার সশস্ত্র পেশাদার সেনাবাহিনী আছে। আরাকান আর্মির হেডকোয়ার্টার আছে, আপনি ইন্টারনেটে দেখবেন কিভাবে আরাকান আর্মির ট্রেনিং হয়,আরাকান আর্মি প্রফেশনাল সোলজার,প্রফেশনাল ট্রেনিং। ’

নিজেদের কাছে মারাত্মক ও হেভি অস্ত্র থাকার বিষয়টি স্বীকার করে রেনিন সো বলেন,সবহেভি ওইপেন(অস্ত্র) আছে। একে-৪৭ এটা সবথেকে ছোট,সব থেকে নীচে। এর থেকে বড় আছে সব, এর থেকে ছোট না।’

বাংলাদেশের সাথে কোন শত্রুতা নেই জানিয়ে রেনিন সো আরো বলেন, এখন তো বাংলাদেশের মাটিতে আমাদের একটা জুতাও পড়েনা। বাংলাদেশ সরকার আরাকান আর্মিকে শেল্টার দেয়না। ওরা বর্ডারে থাকে,বাংলাদেশে থাকেনা।’

‘আরাকান আর্মি কখনো বাংলাদেশের জন্য,বাঙালী জাতির জন্য শত্রু হবেনা’ বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।’dr-06

রেনিন সো’র ১৯৬৯ সালে বাংলা ভূখন্ডেই। তবে পরের বছরই তিনি চলে যান মিয়ানমার। সেখানেই বড় হওয়া, পড়াশোনা আর রাজনীতি। নিজেকে চিকিৎসক দাবি করে জানিয়েছেন নিজের আয় দিয়েই রাঙামাটিতে তৈরি করেছেন বিলাসবহুল এই বাড়ি।

তবে রাঙামাটিতে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে নিজের সম্পর্ক এবং কিভাবে দীর্ঘদিন পরিচয় গোপন করেই রাঙামাটি ও বান্দরবানে বসবাস করছেন সেই সম্পর্কে মুখ খোলেনি ‘চিকিৎসক’ পরিচয়ে সমাজসেবার আড়ালে দৃশ্যত: বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া রেনিন সো। বাংলাদেশ পুলিশের দায়ের করা মামলার আসামী হিসেবে যিনি এখনো দৃশ্যত পলাতক।dr-cover

প্রসঙ্গত, ১৭৮৪ সালে তৎকালিন বার্মার কৌনবাং সাম্রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাধীন ছিলো আরাকান রাজ্য। তখন থেকেই রাখাইনদের রাজ্যে শুরু হয় বার্মার শাসন। এরপর ১৮৮৬ সালে আরাকান রাজ্য চলে যায় ব্রিটিশদের হাতে। ১৯৪৮ সালে উপনিবেশ থেকে মুক্তি পেলেও সমস্যা রয়েই যায়। এরপর মিয়ানমারের শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার আকাংখা থেকেই তৈরী হয় আরাকান আর্মি।

এদিকে টানা কদিন ধরেই ফেসবুকে বাগাড়ম্ভর করা ডা: রেনিন সো নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে তোলা ছবি ও তার কার্যক্রমের প্রায় সকল ছবিই সরিয়ে নিয়েছেন। তবে তার সাথে ছবি আছে এবং  যোগাযোগ ছিলো এমন একাধিক ব্যক্তি পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম কে জানিয়েছেন,তারা রেনিন সো কে একজন চিকিৎসক হিসেবেই জানতেন এবং চিনতেন,কিন্তু তিনি যে প্রকৃতপক্ষে একজন ভিন দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা এটা তাদের ধারণারও বাইরে ছিলো।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply