নীড় পাতা » পার্বত্য পুরাণ » আমি কোন আগুন্তুক নই…

আমি কোন আগুন্তুক নই…

coverঅয়োময় এ শহর আমার না
আমাদের পাহাড়ী শরহটাকে তিলোত্তমা বানানোর একটা কসরৎ হয়েছে। জাতীয় নেতাদের কিম্ভুত কিমাকার মুর্তি স্থাপন, রাস্তার মোড়ে মোড়ে অদ্ভুত দর্শন সব ভাস্কর্য নির্মাণ, মাঝ শহরে প্রবেশদ্বার বিশাল তোরণ, চৌরাস্তায় ফোয়ারা কেমন বেমানানভাবে সব স্থাপন করা হয়েছে। দালান কোটা তৈরী হয়েছে শয়ে শয়ে নান্দনিক শৈলী ছাড়াই। ছোট শহর অথচ ধারণ মতার অধিক জনসংখ্যার বিশাল জনস্রোত। বিচিত্র সব মানুষ। হৈ হুল্লা, গুজব, আড্ডা, মিছিল, স্লোগান, যন্ত্র দানবের বেপরোয়া ছুটে চলা। হকার, ফড়িয়া, বেপারীদের হাঁকডাক। ভবঘুরে, ভিখারী, হিজড়া, পুলিশের আনাগোনা। বেকার ও তরুনদের জটলা। সব মিলিয়ে এক ব্যস্ততম মফস্বল শহরের চরিত্র দাঁড়িয়েছে আমাদের চিরচেনা আবাসভূমি।
আমার স্মৃতিকাতর মন কেবলই ফিরে ফিরে যায় সেই পুরাতন জনপদে। জনবিরল, কিন্তু প্রাণচঞ্চল। প্রতিদিন পাখি ডাকা ভোরের কলতানে, অলস দুপুরের উদাসী হাওয়ায়, গোধুলি বিকেলের নরম আলোয়, সান্ধ্য আরাধনা স্ত্রোত উচ্চারণে কিংবা রাতের সুনসান নির্জনতায় তার ভিন্ন ভিন্ন রূপ। সবুজের চাদর ঢাকা পাহাড়ের শরীর, জুম, ফসলের মন উদাস করা সোঁদা গন্ধ, চেঙ্গীর জলধারার অবিরাম বয়ে চলার শব্দ, বন মোরগের ডাক, বুনো ফুলের সৌরভে ভরা ছিল আমাদের প্রিয় বসতভূমি। সেই রূপÑরসÑগন্ধÑস্পর্শ এখন আর অনুভব করি না। এখন আমার কেবলি মনে হয় এই শহরের সারা অবয়বজুড়ে শূণ্যতা বিরাজমান। এখনকার এই চাকচিক্য, এই কৃত্রিম আভরণে এই শহরের কোন স্বত্ব নেই। আমাদের প্রাকৃত জীবনের প্রাত্যাহিকতার সাথে এর কোন সংশ্লেষ নেই। এই সব বিত্তলোভী ব্যস্ত মানুষে ঠাসা, কংক্রীটে গড়া অয়োময় এই শহর আমার না।

বিজু পেইগ ডাগে বিজু বিজু ;
একদল কিশোরী ফুল ভাসাতে লাগলো চেঙ্গীর জলে। জলে ভাসা ফুল এক অপূর্ব আলপনা সৃষ্টি করেছে। এই ফুলেল অর্ঘ্য কার উদ্দেশ্যে নিবেদিত কেউ বলতে পারে না। আমার প্রিয় বান্ধবী সুচেতনাকে জিজ্ঞেস করলে খুশি আর লজ্জার মাখামাখি এক হাসির আবেশ ছড়িয়ে বলেছিল পরে কোন একদিন বলবে। সুচেতনা আমায় একবার বলেছিল বিজু উৎসবের ফিরিস্তি। চৈত্রের শেষ দিনের পূর্বদিন ফুল বিজু। ভোরে ঝর্ণার জলে স্নান সেরে পাহাড় থেকে নিয়ে আসে বাহারী ফুল। ঘর ও আঙ্গিনা ঝেড়ে মুছে ফুল দিয়ে সাজায় সারা ঘর। তারপর কলসীতে পানি তুলে বয়স্ক মুরব্বীদের স্নান করায়। তারপর কিয়াং এ গিয়ে প্রদীপ জ্বালায়।
আজ মূল বিঝু, আজ সুচেতনার বাড়ীতে আমার বিশেষ নিমন্ত্রণ। সবার মতো তাদের বাড়ীতেও রান্না হয়েছে পাঁচন, বিনি চালের পিঠা, খৈ, তিলের নাড়ু আর মিষ্টান্ন। বাজার থেকে কিনে আনা হয়েছে সিরাপ। তাতে জল মিশিয়ে তৈরী করা হয় সুশীতল শরবৎ। সুচেতনা নিজ হাতে তুলে আমাকে খাওয়ালো আর বলতে লাগলো এগুলোর রন্ধন প্রণালী। শুধু বললো না সিরাপের সাথে সে মিশিয়ে ছিল দোÑচোয়ানী। কিছুণ ঝিম মেরে থাকলেও আমি সেদিন সারাবেলা শুধুই হেসেছি। এমন ফুরফুরে মেজাজে এর আগে কেউ কখনও আমাকে দেখেনি। সুচেতনা বলেছিল কাল এলে সে আমায় জুম চালের ভাত আর বন মোরগের মাংস খাওয়াবে। আমার আর আসা হয়নি। এরপর আর কোনদিন তার সাথে আমার দেখা হয়নি। সুচেতনারা শরণার্থী হয়েছিল পাশের দেশে। পরে শুনেছি সেখানেই তার বিয়ে হয়েছে স্বগোত্রিয় ভিন দেশী এক যুবকের সাথে। ৩ সন্তানের সুখের সংসার এখন তার। সুচেতনা মনে কি পড়ে তোমার বিঝু পাখীর গান, চেঙ্গীর কলতান, আলুটিলার সুনশান নির্জনতা। অথবা কেউ একজন চিৎকার করে বলেছিলÑসুচেতনা অইখানে যেয়ো নাকো তুমি…।
এখনও বিজুর দিনে মিন্টু, পুলক, শকুন্তলাদের নিমন্ত্রণে যাই। পোলাও, কোর্মা, পরোটা, মাংস, পায়েস, সেমাই, মৌসুমী ফল আর ড্রিংকসের ছড়াছড়ি। হায় সিদল মাখানো পাঁচনের সাথে বন মোরগের ঝোল মেশানো জুম চালের ভাতের আদি অকৃত্রিম স্বাদ আর কি কখনও পাওয়া যাবে!

তুরু রুতু তুরু রু সুমুর সুপতিয়োই
শহর থেকে দূরে পাহাড়ের কোল ঘেষে ইলাদের বাড়ী। এখানে এলেই একরাশ নির্জনতা আমাকে আচ্ছন্ন করে। চারপাশে ছায়া সুশীতল, পাখÑপাখালির কিচির মিচিরে ভরা একান্ত নির্জন একটা বাড়ী। বাড়ীর উঠানে গড়াইয়া নাচের আয়োজন। সাদা ধুতি ও জামা পরে একদল নারী পুরুষ নৃত্যরত। পুরুষদের মাথায় সাদা পাগড়ী, কোমরে লাল কোমর বন্ধনী। দলনেতা ও আচাইয়ের হাতে একটি ত্রিশূল। মেয়েরা পড়েছে নানা অলংকার ও ঐতিহ্যবাহী পোষাক। ঢোলের বিচিত্র বোলের উপর তাল ও মুদ্রা পরিবর্তিত হয়। পরিবারের আপদ বালাই দূর করার মানসে এ নাচের আয়োজন। ত্রিশূল হাতে নৃত্যরত আচাইকে ঘিরে ডান থেকে বামে ঘুরে ঘুরে সব শিল্পীরা ঢোলের তালে তালে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নাচছে। জুম চাষের জন্য জঙ্গল কাটা, পাহাড় পোড়ানো, বীজ বপন, পাখী তাড়ানো, ফসল কাটা, গৃহস্থালী কাজ, চরকা কাটা, কাপড় বোনা, জুমের অবসরে যুবকÑযুবতীর অভিসার, মিলনের আনন্দ, দ্রোহ ও দাহের অভিব্যক্ত সবকিছু ফুঁটিয়ে তুললো নাচের মুদ্রায়। ইলা আমাকে বুঝিয়ে দিল সবকিছু। এমন অনিন্দ্য সুন্দর নৃত্য কর্ম সত্যি অসাধারণ। প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিা ছাড়াই ঋজু দেহের অমন নিপুণ সঞ্চালন সত্যিই মনোমুগ্ধকর।
সম্প্রতি টিসিআই (ট্রাইবেল কালচারাল ইনষ্টিটিউট) অডিটরিয়ামে গড়াইয়া নাচের একটি শহুরে সংস্করণ দেখলাম। উচ্চ লয়ের তালে অনাদিবাসী ছেলেÑমেয়েরা আধুনিক নাচের মুদ্রা প্রদর্শন করলো। এখানে হরিনাথ পাড়ার বৈসু দিনের প্রাণষ্পন্দন, আবহ, আনন্দ বেদনার অভিব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আমার কেবলি মনে হয় পরিবর্তনের ঢামাঢোলে আমরা মূল থেকে বিচ্যুত হচ্ছি বার বার। শেকড় চিড়ে গেলে প্রাণ কি তবে বাঁচবে? ইলাকে দেখিনা অনেক দিন। ভালোবাসার টানে (অথবা প্রলোভবে) অনাদিবাসী যুবকের সাথে ঘর ছেড়েছে সে। এখনও বৈসু এলে তার কি মনে পড়ে গড়াইয়া নাচের ছন্দ, পিঠা, পাঁচনের গন্ধ অথবা আনমনে কি গেয়ে উঠে

বৈসুক, বৈসুক, নংসে ইসুক সুখ
(বৈসুক তুমি সুন্দর, মনোহর)
সাংগ্রাই মা ঞি ঞি ঞা রিকজাই গাইপামে
মাঝারি সাইজের নৌকায় রঙ্গিন পানি ভর্তি। যুবকÑযুবতীরা দু’দলে ভাগ হয়ে একে অপরকে রঙ্গিন পানি ছিটাচ্ছে। পুরাতন বছরের সকল দুঃখÑকষ্ট, গ্লানি ধুয়ে মুছে নব আনন্দে জেগে উঠুক প্রাণ নতুন বছরে, এই হলো পানি খেলার মূল ভাবনা। হঠাৎ হ্নাঙচিউ এক মগ রঙিন পানি নিয়ে আমার দিকেই ছুটে আসছে। পালাতে চাইলাম কিন্তু ততনে অনেক দেরী হয়ে গেছে। অতঃপর অনিবার্যভাবে সিক্ত হলাম রঙিন পানিতে। হ্নাঙচিউ আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেল। খেতে দিল বিনি চালের ভাত, সাইন্যা পিঠা আর ঝলি পিঠা। ঘন দুধের সরের চায়ের স্বাদ যেন অমৃত। রাতে বসলো গানের আসর। বাঙলা, মারমা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার গান। সুর ও তালের কিছুটা ঘাটতি ছিল কিন্তু কান্তি ছিল না শিল্পী ও শ্রোতাদের। একের পর এক চলছে গান। প্রতিটি গানের পর শ্রোতা দর্শকদের সমবেত ধ্বনি শিল্পীদের উৎসাহ যোগাচ্ছিল। সবশেষে পরিবেশিত হলো মনরি মাসুঁমি গীতি নৃত্য নাট্য। স্বর্গরাজ ইন্দ্রের কন্যার সাথে মর্ত্যরে রাজকুমারের সাথনু’র ভালোবাসা ও বিরহের এক মর্মষ্পর্শী গাঁথা। নাটকের প্রতিটি দৃশ্যে দর্শক প্রতিক্রিয়া ছিল অভাবনীয়। হাস্যরসের দৃশ্যে তারা যেমন অট্টহাস্যে ফেটে পড়ছে তেমনি আমার করুণ দৃশ্যে উচ্চস্বরে বিলাপও করছে। এমন অনুভূতিপ্রবণ দর্শক সত্যিই শিল্প সাধনার জন্য প্রেরণার উৎস। উচ্চ আঙ্গিকের অভিনয় ও হ্নাঙচিউর দ্রুত অনুবাদের কারণে ভাষার দুর্বোধ্যতা কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। মধ্যরাতে আসর শেষ হলে হ্নাঙচিয়ের কাছ থেকে বিদায় নিলাম। হ্নাঙচিউ আমার ছেলে বেলার বান্ধবী। আমরা একসাথে প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী স্কুলে পড়েছি। ম্যাট্রিক পরীার পর পরই তার বিয়ে হয়ে যায়। আমি কলেজ পেরুবার আগেই সে দু’সন্তানের জননী। অমন দুরন্ত সুন্দর মেয়েটা হঠাৎ করে কেমন যেন বুড়িয়ে গেল। হ্নাঙচিউকে কথা দিয়েছিলাম তার শ্বশুর বাড়ী গিয়ে তার সন্তানদের একবার দেখে আসবো। আমার আর যাওয়া হয়নি। দুর্বৃত্তদের জ্বালানো আগুনে বাবু পাড়ায় শ’খানেক বাড়ীর সাথে হ্নাঙচিউর বাড়ীটা পুড়ে গেছে শুনেছি। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। বাড়ীর আগুন নিভে গেছে। কিন্তু হৃদয়ের আগুন নিভেছে কি?
বছর কয়েক আগে রাজস্থলীর পানি খেলা উৎসবে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম। বিশাল প্যান্ডেলে রঙ্গিন পানির আয়োজন। সুসজ্জিত মঞ্চ। উচ্চ মতা সম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেম আর ব্যান্ড দলের অত্যাধুনিক সব বাদ্যযন্ত্র। মন্ত্রী মহোদয় এক যুবতীর শরীরে পানি ছুড়ে পানি খেলার শুভ সুচনা করলেন। যেন বাংলা সিনেমার দৃশ্য। ক্যামেরা বন্দি করা হল। মিনিট পাঁচেক হৈ হুল্লোড় তারপর সবশেষ। শুরু হলো দাবীÑদাওয়ার ফিরিস্তি পেশ। মন্ত্রী মহোদয় অতি দীর্ঘ ভাষণ দিলেন। প্রতিশ্র“তির ফানুস উড়ালেন, তারপর ছুটে চললেন গাড়ীতে। তখনই বিকট চিৎকারে শুরু হলো ব্যান্ড সংগীত। ফেরার পথে মাঠের শেষ প্রান্তে এক অপ্রকৃতিস্থ কিশোরকে দেখলাম একাগ্রচিত্তে গেয়ে যাচ্ছেÑ “সাংগ্রাই মা ঞি ঞি ঞা রিকজাই গাইপামে (শুভ নতুন বছরে আমরা সবাই মিলে জলÑউৎসব করি)”।

আমি কোন আগুন্তক নই ………….
তিনি বাবার বন্ধু ছিলেন। এক আলোচিত ও প্রভাবশালী নেতা। শহরে এলেই আমাদের বাসা কাম দোকানে আসতেন। বাবার সাথে চলতো দীর্ঘ আড্ডা। আমরা তাকে চাÑতামাক সাজিয়ে দিতাম। তিনি যখন আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হলেন সেবার আমি ম্যাট্রিক পাশ করে কলেজে ভর্তির জন্য চট্টগ্রামে গেলাম। ইসলামিক ইন্টামিডিয়েট কলেজে (বর্তমানে মহসিন কলেজ) লিখিত পরীায় পাশ করে ভাইভা পরীায় খেলাম হোচট। স্যাররা কেউই বিশ্বাস করতে চাইলো না আমার বাড়ী খাগড়াছড়ি। একজনতো বলেই বসলেন নকল করে ভালো রেজাল্টের জন্য নাকি আমি খাগড়াছড়ি থেকে পরীা দিয়েছি। বোর্ড চেয়ারম্যান শর্ত দিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নাগরিকত্ব সনদ জমা দিতে পারলেই কেবল ভর্তি করা হবে আমাকে। দিলাম ছুট খাগড়াছড়ি। একটা টাইপ করা নাগরিকত্ব সনদ হাতে গেলাম কাকাবাবুর বাড়ীতে। সনদপত্রটি পড়ে কাকাবাবু বললেন এটি ভালোভাবে লিখিত হয়নি। তিনি অফিসের প্যাডে নিজ হাতে একটি সনদপত্র লিখে স্বার করে দিলেন। সনদের এক জায়গায় তিনি লিখলেন “মোঃ জানে আলম, পিতাÑ বাদশা মিঞা ব্যক্তিগতভাবে আমার পরিচিত। তার পিতা খাগড়াছড়ি বাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা করেন ………………” সনদপত্রটি নিয়ে আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবলাম আমি কি তবে এখানকার ভূমিপুত্র নই ? একজন আগন্তুক মাত্র ! এই মাটিতে আমার নাড়ী পোতা রয়েছে। এই যে আমার বন্ধুরাÑবিনিময়, জগৎ জ্যোতি, মিলন মিত্র, সম্মিলন, পুষ্পেশ্বর, রমনী কান্ত, অমুল্যধন, কংহাচাই, কংজরী, সুইচিং, হ্নাংচিউ, কুবিন্দ্র, ইলা এবং সুচেতনা যাদের সঙ্গে আমি বেড়ে উঠেছি এরা তবে আমার কেউ নয়। তবে পুষ্পেশ্বর কেন বললো দাঙ্গা হলে সে আমায় বুক দিয়ে আগলে রাখবে। সুচেতনা যখন ওপারে চলে গেলো আমার বুকে এ কিসের শূণ্যতা তৈরী হলো। সেলিব্রেল ম্যালেরিয়ার মিলন যখন অকালে মরে গেলো আমি কেন তবে সারারাত কাঁদলাম। উজ্জ্বল কিংবা অনাথ স্মৃতি এখনও দেখা হলে কেন হাতটা বুকের সাথে চেপে রাখে অনেকণ?
কাকাবাবু একদিন বৃদ্ধ বয়সে আমার অফিসে এসেছিলেন মেয়ে জামাইয়ের বদলীর তদবীর নিয়ে। কথায় কথায় বললেন আগের দিনের সে সম্পর্ক এখন আর নেই। চারিদিকে কেবল অবিশ্বাস, বিভেদ আর হানাহানি। কাকাবাবুকে মুখের উপর বলতে পারেনি বিচ্ছিন্নতার এ বীজ আপনারাই, এই নীতিহীন নেতারাই বপন করেছিলেন। যা দিনে দিনে মহীরূপে পরিণত হয়েছে। কাকাবাবু আপনি অবশ্য জানেন এই মাটিতেই জন্ম আমার। তিন পুরুষের বসত আমাদের, আমার স্বজনরা এ মাটিতেই শুয়ে আছে। নিশ্চিত জানি আমারও কবর হবে এ মাটিতেই। এই যে চেঙ্গী নদী তার জল আমাকে চেনে। আলুটিলা বটমূল তার সাথে আমার দীর্ঘদিনের সখ্যতা। ঐ যে পাহাড় চূড়ায় মাতাই পুকুর তার জলে অবগাহন করে আমিও মুক্তি চেয়েছি সকল অপশক্তির অভিশাপ থেকে। সময়ের সকল সংকটেÑসাহসেÑসংগ্রামেÑমিলনে আমি আছি এই সব আদিবাসী মানুষের পাশাপাশি। কাকাবাবু এঁরাই আমার সুহৃদ স্বজন। আমি এঁদের জানি। আমি কোন আগুন্তুক নই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

থানচিতে অবৈধ ইটভাটা ভেঙেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

বান্দরবানের থানচিতে অনুমোদনহীন গড়ে ওঠা অবৈধ একটি ড্রাম চিমুনীর ইটের ভাটা ভেঙে দিয়েছে ভ্রম্যমাণ আদালত। …

Leave a Reply