নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » ‘আমি কারো প্রতিপক্ষ নই,প্রতিদ্বন্ধি মাত্র’

‘আমি কারো প্রতিপক্ষ নই,প্রতিদ্বন্ধি মাত্র’

Monish dewan‘বিএনপিতে আমি স্বেচ্ছায় আসিনি। বিএনপির তাগিদেই আমি এই দলে যোগ দেই। বিএনপি মনে করেছে যে, পাহাড়ে বিএনপির জন্য আমি কিছু করতে পারবো। তাই আমাকে প্রস্তাব দিলে আমি তা সানন্দে গ্রহণ করি। তবে অনেকদিন ধরে একটা বাসনা পোষণ করেছিলাম যে, আমি বিএনপিতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য কিছু করবো। যেহেতু আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি, তাই তাঁর আদর্শ ও একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে আমি ১৮ দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।’ বুধবার অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারি মুক্তিযোদ্ধা লে: কর্ণেল (অবঃ) মনিষ দেওয়ান রাঙামাটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মণীষ দেওয়ান বলেন, ‘আমি দেশকে ভালোবেসে তরুণ বয়সেই জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, জীবনের দীর্ঘ সময় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে দেশের জন্য কাজ করেছি। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে আমার মনে হয়েছে দেশের জন্য কাজ করতে হলে রাজনীতির বিকল্প নেই, তাই আমার পছন্দের দল জাতীয়বাদী দলে যোগদান করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের সংগ্রাম করছি। আমি আমার যোগ্যতা, দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও সাহস কাজে লাগিয়ে দেশের সেবা করতে চাই।’

রাঙামাটির বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই, তবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে,প্রতিদ্বন্ধিতা আছে। আর একটি বড় দলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা,প্রতিদ্বন্ধিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের সাথেই তার আন্তরিক ও সৌর্হাদ্যপূর্ণ সুসম্পর্ক আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজেকে কারো প্রতিপক্ষ নয় দাবি করে মনীষ দেওয়ান বলেন,আমি হয়তো কারো কারো প্রতিদ্ধন্ধি,কিন্তু প্রতিপক্ষ নই মোটেই। আমরা সবাই জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিক। 111

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, রাঙামাটির বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই, তবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে,প্রতিদ্বন্ধিতা আছে। আর একটি বড় দলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা,প্রতিদ্বন্ধিতা থাকাটাই স্বাভাবিক। বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের সাথেই তার আন্তরিক ও সৌর্হাদ্যপূর্ণ সুসম্পর্ক আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজেকে কারো প্রতিপক্ষ নয় দাবি করে মনীষ দেওয়ান বলেন,আমি হয়তো কারো কারো প্রতিদ্ধন্ধি,কিন্তু প্রতিপক্ষ নই মোটেই।

এসময় তিনি তার রাজনীতিতে যোগ দেয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণের পর ১৯৭৪ সালে সেনা বাহিনীতে যোগদান করে দেশের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। শহীদ জিয়ার সাথে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করার সুবাদে তার দেশপ্রেম দেখে বিএনপির রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হই। তিনি এসময় শহীদ জিয়ার সাথে তার যুদ্ধজীবনের নানান স্মৃতিচারণা করেন।

মনীষ দেওয়ান বলেন, বিএনপির রাজনীতিই পারে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে। খালেদা জিয়া একজন আপোষহীন নেত্রী। তার কাছে দেশ ও জনগণের স্বার্থ সবার উর্ধ্বে। তাই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করতে ২০১১ সালে বিএনপিতে এসেছি।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরির জন্য কাজ করবো। পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্পর্শকাতর এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে বিভেদ বিভ্রান্তি রয়েছে, এসব বিভেদ নিরসন করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এলাকার শিক্ষা ও অর্থনীতির ওপর জোর দিয়ে কাজ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ করে তবে তিনিও মনোনয়ন চাইবেন জানিয়ে বলেন,দলের একজন কর্মী হিসেবে মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার আমাদের সবার আছে। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই মনোনয়ন দিবে। যদিও আমাকে মনোয়ন না দেয়,তবে দল যাকে দিবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আমি আন্তরিকভাবে তার জন্যই কাজ করবো। তবে তার আগে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যেহেতু বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে এখনো নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ভাবছে না, তাই আপাতত নির্বাচন নিয়ে কোন কথা নয়। নির্বাচনে বিএনপি গেলেই নির্বাচন নিয়ে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

বনরূপার একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এই মত বিনিময় সভায় রাঙামাটিতে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয়,আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকা,টেলিভিশন এবং অনলাইনের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে নিজের পরিচিতি ও বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যক্তিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখার পর মনীষ দেওয়ান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন। এসময় তার সাথে বিএনপি বা সহযোগি সংগঠনের কোন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। শুধুমাত্র তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার ফরিদ আহম্মেদ রিপন উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে মনীষ দেওয়ান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান। আপনাদের সাথে আরো বেশি পরিচিত হতেই এই আয়োজন। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন,সাংবাদিকরাই জাতির ‘চোখ’ ও ‘আয়না’। 03

Micro Web Technology

আরো দেখুন

২ জেএসএস নেতা হত্যার প্রতিবাদে মহালছড়িতে বিক্ষোভ

রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা) সমর্থিত যুব সমিতির কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২ জনকে হত্যার ঘটনার …

২ comments

  1. Bhaia
    It’s a life full speech and introduction .
    Short in size but full as package.
    Wish you all the best,
    Saagar

  2. So to speak, political arena badly needs the person like Col Manish Dewan who happens to be an excellent organizer and loyal as comprehended from his previous track records. As such, higher echelon of BNP can very well rely in his competencies and skills which can boost up the popularity of this democratic party in the days to come.

Leave a Reply

%d bloggers like this: