নীড় পাতা » ফিচার » ক্যাম্পাস ঘুড়ি » ‘আমার সুইডিশ’ নির্মাণ বৃত্তান্ত

‘আমার সুইডিশ’ নির্মাণ বৃত্তান্ত

Jaky-(FILEminimizer)তিন বন্ধুর মনের দিক, আশা-আকঙ্খা এবং সর্বপরি ইচ্ছা সব একই। আর তা হল সুন্দর এই ক্যাম্পাসে সৃজনশীল নতুন কিছু করে দেখানো। সেই ইচ্ছার সূত্র ধরে তারা তিনজন শর্ট ফিল্ম তৈরী করবে বলে মনস্থির করল। বহুদিন ধরে তারা এই বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছে কিভাবে শুরু করা যায়। একজন বলছে, আমাদের ক্যাম্পাসের কোন উল্লেখযোগ্য বিষয় নিয়ে ফিল্মের গল্পটি শুরু করা যেতে পারে। কোন গল্পটি হতে পারে? তা নিয়ে ব্যাপক চিন্তা ধারা করে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল আমাদের ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীদের চার বছরের কাটানো সোনালী সময় নিয়ে ফিল্মের গল্পটা হতে পারে। এরপর একটা শর্ট ফিল্ম তৈরিতে কি কি উপাদান লাগবে, যেমন: স্ক্রিপ্ট, ক্যামেরা, লাইটিং, আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার যারা অভিনয় করবে তাদেরকে স্ক্রিপ্টটা ভাল করে বুঝিয়ে দেয়া। এই সবগুলো বিষয় নিয়ে তারা দিন-রাত ইন্টারনেট, বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সাথে আলাপ করে। প্রথমে যখন তারা সবাইকে শর্ট ফিল্মটির ব্যাপারে কথা বলত; কেউ কেউ তাদেরকে হেয় বা ভ্রু-কুঁচকে তাকাতো, আবার কেউ কেউ সাবাশও বলত। এতে তিনজনই কখনো পিছপা বা বিন্দু পরিমানও মন খারাপ করেনি। সর্বোপরি সব কিছু জেনে-শুনে, বুঝে তারা শর্ট ফিল্ম তৈরিতে ‘সুইডিশ ফিল্ম সোসাইটি’ ব্যানারে মাঠে নামে।
প্রথমে তারা স্যুটিং করার জন্য ডাকলে কেউ কেউ আসত না, বলত তোদের দ্বারা এসব ফিল্ম করা সম্ভব না। এরপরও তারা হাল না ছেড়ে কাজ চালিয়ে যায়। অতপর দেড় মাসে তারা শর্ট ফিল্মটির স্যুটিং শেষ করে। শর্ট ফিল্মটি প্রদর্শনের অনুমতির জন্য অধ্যক্ষ আবদুল মালেক স্যারের কাছে তারা যায়। স্যারকে সব কিছু বলে ফিল্মের কিছু দৃশ্য দেখানো হয়। যা দেখে স্যার আবেগপ্রবন হয়ে ফিল্মটি ইনস্টিটিউটের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখানোর ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
সেই শুভক্ষন যেদিন মনসুর আউয়াল জাকী, ইব্রাহীম খলিল ও রায়হান সিদ্দিকীর পরিচালনায় , ‘‘সুইডিশ ফিল্ম সোসাইটি’’ নিবেদিত ‘আমার সুইডিশ’ শর্ট ফিল্মটি সকল ছাত্র-ছাত্রীদের ও শিক্ষকমন্ডলীর উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ০৭:৩০ মিনিটে শুভ মুক্তি হয়। ফিল্মটি দেখার পর কড়তালিতে সবার মধ্যে আনন্দ প্রকাশ পায়।
তখনই সেই তিনজনের চোখের কোনায় লোনা পানি জমাট বাঁধে। ভাবতেও পারেনি শর্ট ফিল্মটি ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক মন্ডলীদের এতটা মন কাড়বে। ফিল্মটি দেখা শেষে সবাই তিন পরিচালককে শুভেচ্ছা জানায়। অধ্যক্ষ মহোদয় সহ সকল শিক্ষকরাও ফিল্মটি দেখে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানায় ও আরো ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রানিত করেন।
এখন তাদেরকে সবাই সফল ডিরেক্টর বলে ডাকে, যা শুনে তারাও মনে মনে খুশি হয়। তারা তিনজনই কাপ্তাইস্ত বাংলাদেশ সুইডেন ইনস্টিটিউট অব্ টেকনোলজী বর্তমানে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়ন করছে। তন্মধ্যে দুজন অটোমোবাইল ও একজন সিভিল(উড) ডিপার্টমেন্টের শেষ বর্ষের ছাত্র। তাদের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ মহোদয় বিদায়ী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে আরও একটি শর্ট ফিল্ম তৈরী করার কথা ব্যক্ত করেন। জাকী, ইব্রাহীম ও রায়হান স্যারের কথায় অনুপ্রানিত হয়ে আবার শর্ট ফিল্ম তৈরীর কাজ হাতে নেয়, যার গল্প ঠিক করা হয় তিন বন্ধুর সুইডিশে কাটানো সময় নিয়ে এবং এর নাম দেয়া হয় ‘আমার সুইডিশ ২’। আগের অভিজ্ঞতা থাকাতে দ্বিতীয় ফিল্মটি করতে তেমন বাঁধার মুখোমুখি হতে হয়নি। বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীরা এবং শিক্ষকমন্ডলী তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেন। যাতে করে তারা খুব কম সময়ের মধ্যে ‘আমার স্ইুডিশ ২’ শর্ট ফিল্মটি তৈরি করেন। ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে এই শর্ট ফিল্মটি প্রদর্শন করার দিন ধার্য করা হয়। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী ও অতিথিবৃন্দ তাদের এই ফিল্মটি দেখবে এই ভেবেই তারা আনন্দিত ও বিস্মিত। ফিল্ম প্রদর্শনীর শেষ মূহুর্তে পুরো অডিটোরিয়াম সবার কড়তালিতে কানায় কানায় পরিপূর্ন। আবারও তাদের চোখের পানি একটি কথাই বলছে “ ইচ্ছা শক্তিই, বড় শক্তি ” ।

ফেইসবুক ফ্যান পেইজ: www.facebook.com/SwedishFilmSociety

লেখক : শর্টফিল্ম ‘ আমার সুইডিশ’ ও ‘আমার সুইডিশ-২’ এর অন্যতম নির্মাতা

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ব্যাচ-২০০২ এর পুনর্মিলনী

‘আজো খুঁজি কৈশরের সোনালী অতীত’ এই শ্লোগানে গত ১৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ …

Leave a Reply