নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » আবারো নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আবারো নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Untitled-3-copyপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি এসেছে। এবার উন্নয়নের ধারা বইছে। তিনি পাহাড়ে শান্তি ও ব্যাপক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চুক্তির ৭৭টি ধারার মধ্যে ইতমধ্যে ৫৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। অপর ধারাগুলো বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তিনি আগামীতে আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়ে শান্তিচুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নে পার্বত্যবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের সংশোধন করে পার্বত্য চট্টগ্রামথেকে ভ’মি সমস্যা চিরতরে দুর করা হবে।
সোমবার বিকালে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে আওয়ামীলীগ আয়োজিত বিশাল পাহাড়ী-বাঙ্গালী জনসমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পার্বত্যজেলা পরিষদচেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের উপদেষ্ঠা তোফায়েল আহমেদ এমপি, আমির হোসেন আমু এমপি, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, পর্যটনমন্ত্রী কর্ণেল ফারুক খান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি প্রমূখ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৯৮ সালের ১০ফেব্রয়ারীর ঐতিহাসিক অস্ত্রসমর্পন অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সেটি ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ভারতের মাটিতে থাকা উপজাতীয় শরনার্থীদের স্বদেশে ফিরিয়ে ্এনে পূনর্বাসন করা হয়েছে। শান্তিবাহিনী সদস্যদের অস্ত্র সমর্পনের পর বিভিন্ন বাহিনীতে চাকুরী দিয়ে পূনবার্সন করা হয়।
জননেত্রীশেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামেদেড় হাজারকোটি টাকার উন্নয়ন সাধন হয়। এখনো উন্নয়নের গতি অব্যাহত রয়েছে।
উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সরকারের আমলে রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি, উপজাতীয় ও বাঙ্গালীরা উন্নত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। তিনি খাগড়াছড়িতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাসদেন। সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া ও সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আলোকিত করার কথা বলেন।02
প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়ি জেলার সেমুতাং গ্যাস ক্ষেত্র হতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাগড়াছড়িবাসীকে গ্যাস সুবিধাসহ শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার ঘোষনা দেন। তিনি ভবিষ্যতে মসল্লা প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফলমূল প্রক্রিয়া ও স্থানীয় হস্তশিল্পকে ঋন সহায়তার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্ঠির গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক মানের। এটিকে ঋন সহায়তার মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাজারজাত করার কথাও বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি উপজেলায় সরকারী কলেজ, স্কুল ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যা যা করার দরকার সবই করা হবে। ভূমিহীনদের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় ঘরবাড়ী নির্মান করে দেয়া হবে। দূর্গম অঞ্চলেযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে। পর্যটন খাতকে আরো উন্নত করার উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাত হরতাল ডেকে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। অশান্তি সৃষ্টি করছে। বিএনপি দুটি গুন, দূনীতি আর মানুষ খুন। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ মানুষের কল্যান আর শান্তির পক্ষেই কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাচাতে হরতাল দিয়ে মানুষকে কষ্টই দিয়ে যাচ্ছে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তবে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ চলছে। রায়ও দেয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবেনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশে আসায় জনতাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি জানি অনেক বাধা বিপত্তি অনেক হুমকি ধমকি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা আপনাদের ভয়ভীতি ধমকি দিয়েছে তারা কতদুর শক্তিশালী তা আমি দেখে নেব।’

‘আমি জানি অনেক বাধা বিপত্তি অনেক হুমকি ধমকি দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা আপনাদের ভয়ভীতি ধমকি দিয়েছে তারা কতদুর শক্তিশালী তা আমি দেখে নেব।’

এরআগে প্রধানমন্ত্রী খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও খাগড়াছড়িবাসীর বহুল কাংখিত বিদ্যৎ গ্রিড সাব স্টেশনসহ ৫টি প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তরের উদ্বোধন করেছেন।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জেলার রামগড়ে নবনির্মিত ৫০ শয্যার হাসপাতাল, এপিবিএন ট্রেনিং সেন্টার ও বিনাসহ ৩শ ২০ কোটি টাকার বাস্তবায়িত ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিদ্যুতের সাব গ্রীড স্টেশন ও দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই ১৯৯৮ সালে ১০ ফের্রুয়ারী শান্তিবাহিনী সদস্যদের অস্ত্র সমর্পন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এরআগে ১৯৯২ সালে বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও আরো একবার এসেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সমাবেশ স্থলে পৌছার আগেই হাজারো পাহাড়ী-বাঙ্গালীর উপস্থিতিতে স্টেডিয়াম ভরে উঠে।
প্রধানমন্ত্রীকে নান্দনিক পাহাড়ী-বাঙ্গালী শিল্পীরা নৃত্যের পরিবেশনায় স্বাগত জানায়। মুহুর্মূহ করতালি আর শ্লোগানে মূখরিত হয়ে উঠে সমাবেশ স্থল। তারআগে সড়কের দু‘ধারে দাড়িয়ে হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।03

সড়ক অবরোধ, পথে পথে বাধা
এদিকে খাগড়াছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিনেই পুরো জেলায় সড়ক অবরোধ কর্মসুচি পালন করছে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ। এ কারনে রবিবার ভোর হতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে অবরোধ আহবানকারীরা।
সকাল ১১টার দিকে জেলার পানছড়ির কুলিনপুরে অবরোধ সমর্থকরা পুলিশকে বহনকারী একটি চাঁদের গাড়ীতে আগুন দিয়েছে। এসময় অবরোধকারীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাদের ছোড়া গুলতিতে পুলিশের ২ সদস্য আহত হন।
এছাড়া জেলার মহালছড়ি সড়কের চম্পাঘাট এলাকায় অবরোধকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশের উদ্দেশ্যে আসা ২টি গাড়ী ভাংচুর করে। শহরের কৃষি গবেষনা এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশে আসার সময় গাড়ী বহরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।
উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে পূর্ব নির্ধারিত ৯ ও ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় পিসিপির সম্মেলনের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। পরবর্তীতে ১৩টি শর্তে দু‘দিনের এই সম্মেলনের অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন। প্রশাসনের শর্তসাপেক্ষে দেয়া অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটি বিক্ষোভ ও ১১ নভেম্বর সড়ক অবরোধ ঘোষণা করে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply