নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘আদিবাসী সংস্কৃতির বিরোধিতাকারীদের মোকাবেলা করতে হবে’

‘আদিবাসী সংস্কৃতির বিরোধিতাকারীদের মোকাবেলা করতে হবে’

culture-cover‘আদিবাসী সমাজে অনেক আছেন যারা নিজস্ব ঐতিহ্য সংস্কৃতির বিরোধিতা করেন, তাই এদের সকলকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে এবং আদিবাসী সংস্কৃতির বিরোধিতাকারীদের মোকাবেলা করতে হবে’।
শুক্রবার রাঙামাটি শহরের ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের উদ্যোগে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিআইপিডির সহযোগিতায় আয়োজিত ‘সাংস্কৃতিক অধিকার ও আদিবাসী সংস্কৃতি’ বিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় রাজা দেবাশীষ রায় প্রধান আলোচক এর বক্তব্যে এইসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মংসানু চৌধুরী,মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট সুষ্মিতা চাকমা,পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভুমি সংরক্ষন কমিটির সদস্য সচিব সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা,উন্নয়ন কর্মী মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,সাংবাদিক চিং মে প্রু মারমা,পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি লালচোয়াক লিয়ানা পাংখোয়া,খিয়াং জনগোষ্ঠীর থৈ চাপ্রু খিয়াং,¤্রাে জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি জোহান ¤্রাে,রাঙামাটি পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা এবং জাক এর সদস্য শিশির চাকমা।

ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় আরো বলেন, আমাদের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এমনদিন আসবে শুধুমাত্র নামে আদিবাসী থাকবো, কাজের ক্ষেত্রে কিছুই থাকবে না। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন,সংস্কৃতির কোন কিছু পরিবর্তন করার অধিকার আমার আছে কি? অনেক পাহাড়ী কোন বিষয় সম্পর্কে না জেনে মাস্তানি করে। এ বিষয়ে আন্ত:পাহাড়ী,আদিবাসী,জুম্মও যাতে মাস্তানি না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

দেবাশীষ বলেন,আদিবাসীদের জন্য নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। প্রতিটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী নিজের আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকার ও নিজের সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে কোন উন্নয়ন করতে চায়, তাহলে সেখানে সংস্কৃতি, ইতিহাস কিছুই থাকবেনা। আদিবাসী জাতিসমুহের স্ব-স্ব কৃষ্টি সংস্কার বেশিরভাগই পালন করছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামের জুম্ম সাধারন পাহাড়ীরা। আমরা যারা শহুরে আদিবাসীরা রয়েছি শুধুমাত্র বিঝু উৎসবের দিন আদিবাসীদের নানান সংস্কৃতি পালন করে থাকি।

দেবাশীষ রায় আক্ষেপ করে বলেন,বর্তমান রাষ্ট্র আমাদের উপর সবকিছু জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছে।পূর্বে পাহাড়ের,যে বিভিন্ন ঐতিহ্যগত স্থানের নাম রয়েছে সেগুলোকেও এখন পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানের নামের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের ভুমিকা রয়েছে।

বিশিষ্ট আদিবাসী অধিকার আন্দোলন নেতা সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, আদিবাসীদের অনেকে আছেন যারা আদিবাসীদের নাম শুনলে হীনমন্যতায় ভুগেন। আমাদের জুমের যে সংস্কৃতি রয়েছে, আমরা যে জুমচাষ করি, সেই জায়গাগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মী সুষ্মিতা চাকমা বলেন,সংস্কৃতি হচ্ছে বাহ্যিক একটা রূপ। আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে সবসময ছোট করে দেখা হয়। আদিবাসীদের সংস্কৃতি অনেকটা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।

পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি লালচোয়াক লিয়ানা পাংখোয়া বলেন,নিজেদের সংস্কৃতিকে বাদ দিয়ে আমরা অন্য সংস্কৃতির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। পাংখোয়া জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলছে। পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর অনগ্রসরতার কারনে লোকজন ভালভাবে বাংলা পর্যন্ত বলতে পারেনা।

¤্রাে জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি জোহান ¤্রাে বলেন,ভবিষ্যতে ¤্রাে জনগোষ্ঠীকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। ¤্রােদের অলংকার পোষাক-পরিচ্ছদ, আর পড়তে দেখা যাবেনা।

সভায় বক্তারা আরো বলেন,আমরা যদি নিজস্ব সংস্কৃতিকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে না পারি, তাহলে একদিন সবকিছু বিলীন হয়ে যাবে।

সভায় সকল ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে সাংস্কৃতিক রক্ষার আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য ফোরাম গঠনের জন্য সকলে একমত পোষন করেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিআইপিডির নির্বাহী পরিচালক জনলাল চাকমা,অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে অম্লান চাকমা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply