নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » ‘আদিবাসী জাতিগুলোকে সংস্কৃতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’

‘আদিবাসী জাতিগুলোকে সংস্কৃতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’

Jatisotta-seminarপাহাড়ের আদিবাসী জাতিগুলোকে তাদের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বরেন্য নাট্যজন মামুনুর রশীদ ।

শনিবার সকালে রাঙামাটি শহরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের উদ্যেগে আয়োজিত দুদিনব্যাপী ‘সাংস্কৃতিক অধিকার ও আদিবাসী সংস্কৃতি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের সমাপনী দিনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আলোচনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মংসানু চৌধুরী,জোয়ান ম্রো,সুদত্ত বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা,মানবাধিকার কর্মী সুষ্মিতা চাকমা,লালাচোয়াক লিয়ানা পাংখোয়াসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।

মামুনুর রশীদ আরো বলেন,পাহাড়ীরা যুগ যুগ ধরে এ ধরিত্রীকে লালন করে আসছে এতে জুম্ম জনগনের অধিকার বেশি। তাই নিজস্ব সংস্কৃতিকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে হবে । পাহাড়ের জুম সংস্কৃতি বর্তমানে অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাঙালীদের মধ্যে মুল্যবোধের একটা ব্যাপক অধ:পতন হয়েছে। এর প্রভাব বর্তমানে আদিবাসীদের মধ্যেও চলে এসেছে। আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে হলে সমতলে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিটি আদিবাসী জাতিসত্তাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরো বলেন,বাঙালীরা যেমন শুধুমাত্র পহেলা বৈশাখকে জাঁকজমক ভাবে পালন করে তেমনিভাবে পাহাড়ীরা বিঝু উৎসবের পর তাদের সংস্কৃতি চর্চার আর কোন খবর রাখেনা।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মংসানু চৌধুরী বলেন,বাজার অর্থনীতির আগ্রাসনের কারনে আদিবাসী সমাজ ভেঙ্গে গেছে,এর একটি উদাহরন হচ্ছে কর্নফুলী বাঁধ। কর্নফুলী বাঁধ হওয়ার ফলে সেসময় ঐখান থেকে উচ্ছেদ হওয়া কিছু আদিবাসীকে নগদ টাকা তুলে দেয়া হয়েছিল এর ফলে তখনকার সময়ে একসঙ্গে এত টাকা কি করবে তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্ধে ছিল তারা।

সভায় উন্নয়নকর্মী মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন,পাহাড়ের মাটি,বায়ু জল সবকিছুই মিলে আমাদের সংস্কৃতি। কিন্তু বানিজ্যিক যে আগ্রাসন চলছে তার থেকে এর কিছুই আমরা রক্ষা করতে পারছিনা। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বাস্তবায়নের জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেগুলো এখন চরম দুর্নীতিতে আক্রান্ত। তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে প্রতিনিয়ত চলা নিয়োগ বানিজ্যর উদাহরণ দিয়ে বলেন,পার্বত্য জেলা পরিষদকে জনমুখী করে তোলা অতিব প্রয়োজন।

পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি লালচোয়াক লিয়ানা পাংখোয়া বলেন,পার্বত্য জেলায় যেসব সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট রয়েছে সেগুলোকে আরো শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তৃনমুল পর্যায় থেকে যদি সংস্কৃতি চর্চা না হয় তাহলে সফলতা আসবেনা।

বিশিষ্ট আদিবাসী সঙ্গীত শিল্পী ও পৌর কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা বলেন,বিগত সমযে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর সরকারের যে দমন-নিপীড়ন নীতি ছিল, তা এখনো আমাদের সকলের মাঝে কাজ করে। নিজেদের অধিকার আদায়ে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পারলে সফলতা আসবে। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,সাংবাদিক চিং মেপ্রু মারমা,জাক সদস্য শিশির চাকমা,সাংবাদিক সত্রং চাকমা ও তরুন গবেষক অম্লান চাকমা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

জুরাছড়িতে গুলিতে নিহত কার্বারির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় স্থানীয় এক কার্বারিকে (গ্রামপ্রধান) গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারী সন্ত্রাসীরা। রোববার …

Leave a Reply