নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল ভোটের ব্যাকরন !

আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল ভোটের ব্যাকরন !

Digi-vote-pic-06পাহাড়ের তিন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি,ইউপিডিএফ আর জনসংহতি (এমএনলারমা) একে অপরের ক্ষুশূল হলেও ভোটের রাজনীতিতে এসে ঠিকই পরস্পর পরস্পরকে যথেষ্ট ছাড় দিয়েছে কোথাও কোথাও। ব্যতিক্রমী এসব কান্ড ঘটেছে অনেক জায়গাতেই এবারের উপজেলা নির্বাচনে। পাহাড়ের মানচিত্রে আধিপত্যের রাজনীতিতে একে অপরকে ন্যুনতম ছাড় না দিলেও ভোটের রাজনীতি তাদেরকে বেশ কাছাকাছি নিয়ে এসে পারস্পরিক সমঝোতার দরজা কিছুটা হলেও উম্মুক্ত করেছে। এর সর্বশেষ প্রমাণ দীঘিনালা উপজেলা নির্বাচন।

এবারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দিঘীনালা উপজেলা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভোটের রাজনীতিতে ছিলো বেশ ব্যতিক্রম। ইউপিডিএফ ও জেএসএস (সন্তু) এবারই প্রথম একসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। তাদের সমর্থনে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নবকমল চাকমা। ইউপিডিএফ এর সমর্থনটা ছিলো প্রকাশ্য আর জনসংহতির সমর্থন ছিলো গোপনে,পার্থক্য শুধু এটাই। ফলে আরেক শক্তিশালী প্রার্থী জেএসএস (এমএনলারমা) সমর্থিত চয়ন বিকাশ ৩ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন । আর ভোটের মাঠে এবারোও কপাল পুড়লো আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কাশেম এর,যিনি ১০ হাজার ৪৫৩ ভোট পেয়ে হয়েছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি। আর ইউপিডিএফ,জনসংহতি (সন্তু)র সমর্থনে নব কমল চাকমা পেয়েছেন ১২ হাজার ৮১২ ভোট।

অন্যদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে গোপাদেবী চাকমাকে এক সঙ্গে সমর্থন দিয়েছে জেএসএস এর দুটি গ্রুপই ! ফলে তিনিই নির্বাচিত হয়েছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। তার প্রতিদ্বন্ধী ইউপিডিএফের সমর্থিত একক প্রার্থী সোনালী চাকমা পরাজিত হয়েছেন। ইউপিডিএফ এর প্রভাবশালী এই নেত্রীকে হারাতে একাট্টা হয়েছিলো জনসংহতি সমিতি(সন্তু) ও জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা) !

সবচেয়ে বেশি ব্যতিক্রম হলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুসময় চাকমা ইউপিডিএফ,জেএসএস(সন্তু) জেএসএস (সংস্কার) তিনটি দলই তাকে সমর্থন জানিয়েছে। স্বতন্ত্রপ্রার্থী সুপ্রিয় চাকমাকে হারিয়ে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। রাজনীতি,ধর্ম, সামাজিক অবস্থা, শরণার্থী, সাম্প্রদায়িকতা নানা বিষয়ে আলোচিত দিঘীনালা উপজেলা আবারো জানিয়ে দিলো পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য এলাকা থেকে তার চিত্র সবসময়ই ভিন্ন।

প্রসঙ্গত,রাঙামাটি সদর উপজেলাতেও জনসংহতি সমিতির সমর্থিত প্রার্থী অরুন বিকাশ চাকমাকে সমর্থন দিয়েছে ইউপিডিএফও। ধারণা করা হচ্ছে, রাঙামাটি সদরের সমর্থনের বিনিময়েই দীঘিনালার সমর্থন আদায় করে নিয়েছে ইউপিডিএফ। কারণ রাঙামাটি সদরে জনসংহতির শক্তিশালী সাংগঠনিক ঘাঁটি হলেও কুতুকছড়ি,সাপছড়ি এবং বন্দুকভাঙায় রয়েছে ইউপিডিএফ এর একক নিয়ন্ত্রন আর অন্যদিকে দীঘিনালায় ইউপিডিএফ-জনসংহতি(এমএনলারমা)র আধিপত্য থাকলেও নারাইছড়ি,নুনছড়ি,ঝাড়–লছড়ি এলাকায় জেএসএস (সন্তু লারমা)’র একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন আছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নানিয়ারচর সেতু : এক সেতুতেই দুর্গমতা ঘুচছে তিন উপজেলার

কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ৬০ বছর পর এক নানিয়ারচর সেতুতেই স্বপ্ন বুনছে রাঙামাটি জেলার দুর্গম তিন …

Leave a Reply