নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » আঞ্চলিক দলের দাপটে মাঠছাড়া জাতীয় রাজনীতি

আঞ্চলিক দলের দাপটে মাঠছাড়া জাতীয় রাজনীতি

Bagai-coverচতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দেশে এই প্রথম বারের মতো দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। আগামী ১৫ মার্চ বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই দুই দলের কোনো প্রার্থী নেই। এই নিয়ে পাহাড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। দেশের সবগুলো উপজেলা নির্বাচনে দল দুইটির আধিপত্য থাকলেও এই উপজেলায় দুই দলের প্রার্থী না থাকায় অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছে। অনেকে একে দলীয় ব্যর্থতা হিসেবে দেখলেও দলগুলোর নেতৃবৃন্দ আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতার কথা উল্লেখ করেন। এই দুই দল না থাকলেও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেএসএস, ইউপিডিএফ ও জেএসএস(এমএন লারমা) এই তিন দলের আদর্শিক দ্বন্দ্বে নির্বাচনের গুরুত্ব আরো বেড়ে গেছে। প্রধান দুই দলের নেতৃবৃন্দও ভাগ হয়ে গেছে তিন দলের মধ্যে। এই উপজেলায় তিন দলেরই শক্তিশালী অবস্থানের কারণে এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রথম পাহাড়ের তিন আঞ্চলিক দল সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় এই নির্বাচনের গুরুত্বও বেড়ে গেছে অনেকখানি। সকলের নজর এখন কে হতে যাচ্ছে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের পরবর্তী চেয়ারম্যান।

গত ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দীপংকর তালুকদার ৮৪১২ ভোট পেয়েছিল। কিন্তু তার পরও আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিতে না পারার কারণ হিসেবে আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতাকে দায়ি করছেন এই দলটি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর বলেন, এ অঞ্চলে আঞ্চলিক দলগুলোর যে অস্ত্রের মহড়া তার কারণে কেউ প্রার্থী হওয়ার সাহস করছেন না। কারণ এখানে প্রার্থী হলেই অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে। যতদিন এই অঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্রের তৎপরতা বন্ধ না হবে ততদিন এ অঞ্চলে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হওয়া অসম্ভব।

তবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ অস্ত্রের তৎপরতার পাশাপাশি ভোটের হিসাব-নিকাশের নানা সমীকরণের কথাও জানান। তারা বলেন, এ অঞ্চলের যে ভোট রয়েছে তা দিয়ে বিএনপির প্রার্থী জিতে আসা খুব কঠিন। তাই বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ নির্বাচন করেনি বলে জানা যায়। তবে রাঙামাটির বিএনপির নেতৃত্বে যে সকল নেতা রয়েছে তার বেশিরভাগই বাঘাইছড়ি বলে জানা যায়। তারপরও এই উপজেলায় কোনো প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম জানান, ভোটের হিসাব নিকাশে বিএনপির প্রার্থী জেতার সম্ভাবনা খুবই কম। তা ছাড়া অস্ত্রের ভয় রয়েছে সবার মনে। গত ৫ জানুয়ারি তথাকথিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পুলিশ পাহারায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হয়েছিলো। এখানে প্রার্থী হওয়ার পর অস্ত্রের মুখে কেউ প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে না। এই অঞ্চলে অস্ত্রবাজি বন্ধ না হলে এইসব দুর্গম অঞ্চল প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হবে না।

তবে এই দুলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে আঞ্চলিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, নির্বাচন করার মতো তেমন কোনো শক্তি সামর্থ্য কিংবা সাংগঠনিক অবস্থা এই দলেরই নেই।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক। আগেও এই উপজেলায় তাঁরা প্রার্থী দিয়েছিলো। কিন্তু এখন কেন প্রার্থী দিতে পারে নাই বিষয়টা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

ইউপিডিএফের মুখপাত্র মাইকেল চাকমা বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনে আমরা খাগড়াছড়িতে নির্বাচন করেছি। কিন্তু, কেউ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি আমরা অস্ত্রের মুখে কাউকে জিম্মি করে ভোট আদায় করেছি। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। তিনি দুইদলের অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই দুই দল ব্যর্থতা আড়াল করার জন্য বানোয়াট অভিযোগ করছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে কিশোরী ক্লাব

রাঙামাটির বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) প্রোগ্রেসিভের বাস্তবায়নে ‘আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ’ এই প্রকল্পের …

Leave a Reply