নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » আজ রামগড় মুক্ত দিবস

আজ রামগড় মুক্ত দিবস

Ramghar1খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার তৎকালীন মহকুমা শহর ‘রামগড়’ হানাদার মুক্ত দিবস আজ ৮ ডিসেম্বর। এদিনে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তি পাগল জনতা স্বাধীনতার লাল সবুজ পতাকা উত্তোলন করে জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে রামগড় শত্র“মুক্ত ঘোষণা করেছিলেন। অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা এবং মিত্র বাহিনীর সংঘবদ্ধ আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে ভোর হবার আগেই পালিয়ে যায়। এরমধ্য দিয়ে বিজয়ের উল্লাসে ফেটে পড়েন পার্বত্য শহর রামগড়ের ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ী-বাঙ্গালী হাজারো জনতা। রামগড় ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আলহাজ্ব দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা জানান, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিকামী মানুষেরা সীমান্ত শহর (সাবেক মহকুমা) রামগড়ে আসতে শুরু করে। এখানে মুক্তি যোদ্ধাদের জন্য অভ্যর্থনা কেন্দ্র ও একটি শক্তিশালী প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তোলা হয়। দিনে দিনে রামগড় হয়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশলগত স্থান।

রামগড়কে হুমকি ভেবে ২ মে প্রথম রামগড়ে হামলা চালায় পাকবাহিনী। এই সম্ভাব্য ক্ষতির আশংকায় আগেই তৎকালীণ সময়ের রামগড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের সব যুদ্ধ সামগ্রী সীমান্তের ওপারে ভারতের সাব্রুমে স্থানান্তর করা হয়। ঐ দিনই পাক হানাদার বাহিনী আক্রমণ চালিয়ে রামগড় শহর ও আশপাশ এলাকা জ্বালিয়ে দেয়। এতে পাক বাহিনীর হাতে রামগড়ের সাময়িক পতন হয়।

মুক্তিযোদ্ধা হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা জানান, মেজর জিয়াউর রহমান ৭১ সালের ৪ এপ্রিল রামগড়ে আসেন এবং রামগড় পতনের আগ পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন। তবে ৭১ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে মু্িক্তযোদ্ধারা রামগড়ের পাক বাহিনীর একাধিক অবস্থানের উপর আকস্মিক আক্রমণ চালায়। এতে পাক বাহিনীর অধিকাংশই হতাহত হয়। এতে পাকবাহিনী ও দোসরদের মনোবল ভেঙ্গে যায়।

৬ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধারা তিনটি ভারতীয় জঙ্গী বিমানের সহায়তায় রামগড়স্থ হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনার উপর গোলাবর্ষণ করে। এ হামলায় অনেক হানাদার মারা যায় এবং বাকীরা ভীতমন্ত্রস্থ হয়ে ৭ ডিসেম্বর রাতের আধারে রামগড় ত্যাগ করে। ৮ ডিসেম্বর ভোরে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতায় দুইটি ভারতীয় জঙ্গী বিমান সমগ্র রামগড় পরিক্রমা করে নির্ভিগ্নে ঘাটিতে পৌঁছে রামগড় হানাদার মুক্ত বলে খবর পৌঁছায়।

এরপর রামগড়ের মুক্তিকামী মানুষ আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে। ৮ ডিসেম্বর রামগড়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত সুলতান আহম্মদ মুক্তিকামীদের নিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন এবং রামগড় হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।

হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় রামগড়ের প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ২১০ নং প্লাটুন (১নং সেক্টর) এর প্লাটুন কমান্ডার রামগড় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের চাকুরির নিশ্চয়তা দাবি করেন।

এদিকে আজ রামগড় মুক্তদিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো শোভাযাত্রা, আলোচনা সভাসহ বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মাটিরাঙ্গায় পল্লী উদ্যোক্তাদের এসএমই ঋণ বিতরণ

‘করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ঋণ সরকারের মহতী উদ্যোগ’ উল্লেখ করে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলা …

Leave a Reply