নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » আগুনে পুড়ে গেছে মানিকছড়ি থানার অস্ত্রাগার, মালখানা ও ব্যারাক

আগুনে পুড়ে গেছে মানিকছড়ি থানার অস্ত্রাগার, মালখানা ও ব্যারাক

manikchari-thana-pic--(1)আগুনে ছাই হয়েছে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি থানায় রক্ষিত পুলিশের সব অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদসহ গুরুত্বপূর্ন বহু কাগজপত্র। এতে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির কথা প্রশাসন বললেও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খোঁজার জন্য ১ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অবরোধের কারনে সকল পুলিশ সদস্যই থানার বাইরে দায়িত্বে ছিলেন। তখনো মানিকছড়ি থানায় থাকা মাত্র ৫/৭ জনের পুলিশ সদস্যরা সকালের নাস্তা খাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বুধবার ঠিক সকাল ৭টা বাজার কয়েক মিনিট আগে হটাৎই আগুনের ফুলকি দেখতে পান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য আবুল কাসেম। মুহুর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার করতেই অন্য পুলিশ সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালাতে যান। কিন্তু অস্ত্রাগারের গোলাবারুদে আগুন লাগতেই বিকট শব্দে আতংক ছড়ায়। আশপাশের লোকজনও এগিয়ে আসতে থাকেন। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতায় সাধারন মানুষ তো বটেই পুলিশ সদস্যরাও গোলাবারুদের ভয়ে পিছু হটতে বাধ্য হন।
একঘন্টার মধ্যেই ভয়াবহ আগুনে মানিকছড়ি থানার অস্ত্রাগার, মালখানা ও ব্যারাকসহ অধিকাংশ স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্র পুড়ে যায়। তবে অফিস কক্ষটি অক্ষত থাকায় রক্ষা পেয়েছে অফিসিয়াল কাগজপত্রগুলো।
ঘটনার প্রায় দেড় ঘন্টা পর পাশের উপজেলা রামগড় ও ফটিকছড়ি হতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছালেও সরকারী সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারেনি।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের খাগড়াছড়ির ডিইডি রফিকুল ইসলাম আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত করে জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতেই আগুন লেগেছে। তবে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনুমান করা সম্ভব হয়নি।
প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ সদস্য আবুল কাসেম জানান, ‘অস্ত্রাগারের এক পান্ত থেকে আগুন দেখতে পাই। সাথে সাথেই অন্যরাও আগুন দেখতে পায়। ওসিকে দ্রুত জানালে তিনিও ছুটে আসেন। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে ওসি কেশব চক্রবর্তী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তবে নেভানোর মত কোন সুযোগই পাইনি আমরা।’
অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, ‘আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। সরকারি অস্ত্রশস্ত্র ছাড়াও জ্যাকেট, হেলমেট, জুতা, সিভিল জামা-কাপড়, ব্যক্তিগত নথিপত্র হারিয়ে চিন্তায় পড়েছি। কি হবে জানিনা।’ পাকা স্থাপনা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত বলেও মনে করেন পুলিশ সদস্যরা।
জানা যায়, আগুনে এল সাইজের দুটি স্থাপনা পুড়েছে। যেখানে বিক্ষিপ্তভাবে পুলিশ ব্যারাক হিসেবেও ব্যবহৃত হত। একটিতে ওয়ারলেস কন্ট্রোল রুম, পুলিশ ব্যারাক; অপরটিতে ছিল অস্ত্রাগার, হাজতখানা, স্টোর রুম ও পুলিশ কর্মকর্তাদের থাকার জায়গা। দুটিই টিন সেড, ফ্লোর পাকা ঘর। ভাগ্য ভালো মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কেউই হাজতখানায় ছিলেন না।
পুড়ে যাওয়া অস্ত্রশস্ত্রগুলোর পরিসংখ্যান পুলিশের পক্ষ হতে বলা হয়নি। তবে তাদের সিজারলিস্ট হতে জানা যায়, ভারী ও হালকা অস্ত্র ৬৫টি ও গোলাবারুদ ছিল সাড়ে ৪ হাজার। এরমধ্যে রাইফেল ২৮টি, এসএমজি ৫টি, এলএমজি ২টি, সর্টগান ৫টি, থানায় রক্ষিত ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা ২০টি অস্ত্রের মধ্যে ছিল- একনালা বন্দুক, দু‘নলা বন্দুক, পয়েন্ট টুটুবোরের অস্ত্র ও রিভলবারসহ আরো কয়েকটি। জব্দকৃত অস্ত্র ৩টি ছিল। এছাড়াও এসএমজি, এলএমজি ও সর্টগানের ম্যাগজিন ছিল ৩৭টি।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মান্নান জানান, ‘অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা স্থানীয় সাংবাদিকরা থানার কাছে পৌছাই। গিয়ে দেখি পুলিশ আর গুটি কয়েক মানুষ দৌড়াদৌড়ি করছেন। বিকট শব্দের কারনে কেউই সামনে যেতে সাহস করেননি। ফলে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়নি। তার মত অন্য সংবাদকর্মীরাও বলেছেন, এমন গুরুত্বপূর্ন স্থাপনাগুলো পাকা ভবন হওয়া উচিত ছিল। তাহলে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যেত।
মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শারমিন জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে থানার জন্য অবকাঠামো নির্মানসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।
অগ্নিকান্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারুল হক, পুলিশের ডিআইজি নওশের আলী, পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমান, এডিএম আনার কলিসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতেই আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও অধিকতর তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কোটি টাকা হতে পারে। অবরোধের কারনে পুলিশ সদস্যরা থানার বাইরে ডিউটিতে থাকায় যথাসময়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে পারলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো কম হত।
জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম জানান, সামনে নির্বাচন; তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের ব্যবস্থাই গ্রহন করছে প্রশাসন। ভস্মিভূত অবকাঠামো পুনস্থাপন করা করার কাজও শুরু হয়ে যাবে। আপাতত: সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য তাবু টানিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের খাবার ও শীতবস্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকও প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে আগুন লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মিসেস আনার কলিকে প্রধান করে ১ সদস্য বিশিষ্ট প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ কেশব চক্রবর্তী জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি জিডি এন্ট্রি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। ইতিমধ্যে পুলিশের থাকার জন্য ৫টি তাবু টানিয়ে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
ওসি আরো জানান, চট্টগ্রাম ডিআইজি নওশের আলী পরিদর্শন শেষে পুলিশের জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ, পোষাকসহ সব ধরনের সরঞ্জামই জরুরী ভিত্তিতে সরবরাহ করার কথা জানিয়েছেন।
SAM_0381

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুুলিশ সদস্য গ্রেফতার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশের এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধায়। …

Leave a Reply