নীড় পাতা » আলোকিত পাহাড় » আখ চাষে লাভ বেশি, খুশি চাষীরাও

আখ চাষে লাভ বেশি, খুশি চাষীরাও

Akh-chasরাঙামাটির লংগদু উপজেলায় আখ চাষ করে বেশ লাভবান চাষীরা। কম খরচে বেশি লাভ জনক হওয়ায় এলাকার লোকজন আখ চাষের প্রতি দিন দিন আগ্রহী হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকরা জানিয়েছে, ৭/৮ বছর আগেও লংগদুতে বাণিজ্যিকভাবে আখ চাষ করা হতো না। অন্য উপজেলা থেকে আখ এনে বিক্রি করতেন ব্যবসায়ীরা। এখন আর বাইরে থেকে আখ আমদানি করতে হয় না। গত ৮/১০ বছর আগে উপজেলার দু’একটি এলাকায় কয়েকজন কৃষক অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে পরিক্ষামূলকভাবে আখ চাষ শুরু করেন। ভাল ফলন হওয়ায় বেশ লাভ হয়েছিলেন তিনি । এরপর থেকে লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একে অন্যের দেখাদেখি বাণিজ্যিকভাবে আখ চাষ শুরু করেছেন।

লংগদু উপজেলা কৃষি অফিসার এম এম শাহনেওয়াজ জানান, লংগদুতে বিগত কয়েকবছর ধরে খুব ভালমানের আখের চাষ হচ্ছে। চলতি বছর আনুমানিক ১৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে আনুমানিক ৩৫ মেঃ টন হারে ৫২৫ মেঃটন আখ উৎপন্ন হয়েছে। এখানকার আবহাওয়া ও মাটি আখ চাষের খুবই উপযোগী। সঠিক পদ্ধতি অনুযায়ী আখ চাষ করা হলে খুবই লাভ জনক চাষ বলা যায়। এতে এক বছর সময় লাগে। যে সব জায়গা পতিত রয়েছে সেখানে আখ চাষ করেও বেশ লাভবান হতে পারবেন কৃষকরা। বর্তমানে লংগদুতে ইশ্বরদি(১) ও ইশ্বরদি(২) এই দুই জাতের আখ বেশি ভাল হচ্ছে।

উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের বৈরাগী গ্রামের ফারুক মিঞা একজন সফল আখ চাষী। কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, তার বসত বাড়ীর কাছে ৫০ শতক জায়গাতে আগে সবজি চাষ করতেন, তাতে তেমন লাভ হত না। গত বছর তিনেক ধরে তিনি আখ চাষ করছেন। প্রথমবার খরচ বাদে বিশ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। বর্তমানে তিনি ঐ জায়গায় তিন হাজার আখের চারা লাগিয়েছেন তাতে ১ লাখ টাকার আখ বিক্রি করা গেছে। আরো যে আখ রয়েছে তাতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মত বিক্রি হবে। তিনি জানান, একেকটি আখ ৮/১০ হাত লম্বা। মিষ্টি এবং খুব রসালো।

আখচাষীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,স্থানীয় বাজের শুরুতে প্রতিটি আখের মূল্য ৪০-৫০ টাকা হারে বিক্রি করা গেছে। আখ চাষ করতে চারা, বাশ, খুটি, সার, কীট নাশক মিলে সর্ব সাকুল্যে তার খরছ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আখ চাষে কোন বাড়তি লোকের প্রয়োজন হয়না, নিজেরাই একটু পরিশ্রম করলে হয়। সে জন্য লাভও বেশি হয়। তার দেখা দেখি পার্শ্ববর্তী ও আকবর মিয়া তারাও আখ চাষ করেছেন একই এলাকার মিলন, তৈয়ব আলী, শুক্কুর আলী ও কম বেশি আখ চাষ করেছেন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, উপজেলার বগাচত্তর, মহাজনপাড়া, পেটাইন্যামাছড়া, গুলশাখালী, বামে আটারকছড়া, ডানেরছড়া, কালাপাকুজ্যা এসব এলাকায় বেশি আখ চাষ হচ্ছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিং প্রু মারমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা …

Leave a Reply