নীড় পাতা » ব্রেকিং » আখের রসেই মনি চাকমা’র জীবন

আখের রসেই মনি চাকমা’র জীবন

সাধারণ এক কৃষক মনি চাকমা পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকে। নিজের আখের বাগান থেকে আখ সংগ্রহ করে তার রস বিক্রি করাই আপাতত তাঁর পেশা। বছরের অনেকখানি সময় জুম চাষ করেলেও এ দুই-তিনমাস সময়টা আখের জুস বিক্রি করেন।

রাঙামাটি থেকে খাগড়াছড়ি যাবার পথে খামার পাড়া এলাকায় রাস্তার পাশেই দেখা মিলবে একটি ছোট ঝুপড়ি। যাতে বাঁশ দিয়ে তৈরি একটি বেঞ্চ আর উপরে ত্রিপল দেয়া, যাতে ছায়া পড়ে আর সামনেই ভ্যান যেখানে আখ থেকে রস বের করার মেশিনটি। সেখানে পরিবারসহ মনি চাকমা বসে বিক্রি করছে আখের রস। বেশ হাসিখুশি মুখে ক্লান্তি ভাব ছাড়াই সবার কাছে বিক্রি করছে। ছোট এই স্থানটিতে দেখা যায় অনেক মানুষ রস পান করছে আর মনি চাকমা মেশিন দিয়ে আখের বের করছেন। অন্যদিকে তাঁর সহধর্মিণী ছাঁকনি দিয়ে পরিস্কার করে গ্লাস করে পরিবেশন করছে।

মনি চাকমার সাথে আলাপকরে জানা গেল, প্রতিদিন প্রচুর মানুষ এখানে রস খেতে আসে। বিশেষ করে যারা এ পথ দিয়ে যায় যাতায়াত করে তারাই মূলত দাঁড়িয়ে এক গ্লাস রস খেয়ে যায়। অনেকে বোতলে করে বাড়িতেও নিয়ে যায়। খামার পাড়া এলাকাতেই আছে তাঁর আখের বাগান। সেখান থেকে আখ কেটে নিয়ে আসে সে আখের রস সবার কাছে বিক্রি করে। প্রয়োজনে অনেক সময় রসের সাথে লেবু মিশায়, তাও যদি কোসো ক্রেতা লেবু খেতে চায় তাহলে।

মনির সাথে আলাপে তিনি আরও জানালেন, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষনা ইনস্টিটিউট তাকে একটি আখের জুসের মেশিন দেয়। আর এই মেশিন দিয়ে সে তার নিজের বাগানে উৎপাদিত আখ থেকে রস বের করে বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করে। এটি পরিচালনায় সব সময় সহযোগীতা করে তার সহধর্মিণী ও ছেলে এবং ছেলের বউও। তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে তার বেশ ভালই লাভ হয় এবং মোটামুটি সংসার সুখেই চলছে। প্রতি গ্লাস আখের রস পনের টাকা আর এক লিটার ৭০ টাকায় বিক্রয় করেন। আমি পাহাড়ের মানুষ, প্রকৃতির মতোই সরল আর সততা দিয়েই জীবন পার করতে চাই

প্রতিদিন এ পথে যাতায়তকারী শিক্ষক হিমাদ্রী দে হিমেল বলেন, আমি প্রতিদিন আমার বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় বা ফেরার সময় এখানে দাঁড়িয়ে রস পান করি। এখানকার রস খুবই সুস্বাদু ও নির্ভেজাল অনেক সময় পরিবারের জন্য বাসায়ও নিয়ে যাই। আরেক নিয়মিত পথচারী লিটন চাকমা বলেন, এখানকার রস খুব ভালো। এ ভদ্রলোক পরিশ্রম করে এ রস বিক্রি করে। এ রসে কোনো ধরনের কৃত্রিম কিছু ব্যবহার করে না তাই নিশ্চিন্তে এ রস পান করা যায়।

হাসান কবীর নামে আরও এক ব্যক্তি বলেন, নানিয়ারচর যাচ্ছি প্রথমে বুঝতে পারি নাই এখানে কী বিক্রি করছে। পরে দেখলাম আখের রস। আমাদের সামনেই তিনি আখ থেকে রস বের করে দিলেন। যেমনই সুস্বাদু তেমনই নিরাপদ মনে হল আখের রস।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে ওষুধ সম্পর্কে মতবিনিময় সভা

বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি কর্তৃক নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সম্পর্কে জনসচেতনতা ফিরিয়ে আনতে …

Leave a Reply