নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » আকস্মিক হরতালে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মাথায় হাত !

আকস্মিক হরতালে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মাথায় হাত !

parzatan-pic-1প্রায় অনেকটাই শান্ত ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ’ই ইউটার্ন নিয়ে আকস্মিক হরতালের ঘোষণায় আবারো উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টদের।

হঠাৎ ডাকা হরতালে পর্যটন শহর রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা সন্ধ্যার আগেই শহর ছেড়ে গেছেন অনেকেই। এতে কওে একদিকে যেমন পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অপরদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদেও লাভের আশায় যেনো ছাই পড়েছে। বছরের এই সময়টা পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে তিন পার্বত্য জেলা। আর এই সময়টাতেই তাদেও আয়ের মোক্ষম সময়। প্রতিদিনই সরগরম থাকে পর্যটক স্পটগুলো। পাশাপাশি তিল ধারনের ঠাঁই থাকেনা হোটেল মোটেলগুলোতে। বিকিকিনি বাড়ে রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় দোকানসমূহে। শান্ত লেক কোলাহলপূর্ণ হয়ে উঠে পর্যটকবাহী ইঞ্চিনচালিত লঞ্চ-বোটের শব্দে।

শহরের রিজার্ভ বাজারের আবাসিক হোটেল ড্রিমওয়ে’র স্বত্তাধিকারী মোঃনিজামউদ্দিন জানান, এসময়টা হলো ব্যবসার সময়। এসময়ে হরতাল অবরোধ হলে পর্যটক আসেনা। ইতোমধ্যে বুকিং বাতিল কওে অনেক পর্যটক শহর ছেড়ে চলে গেছে।

পুরাতন বাস স্ট্যান্ড এলাকার হোটেল প্রিন্সের স্বত্তাধিকারী নেছার আহম্মেদ বলেন,হরতালের ঘোষণা দেয়ার পরেই হঠাৎ করেই পর্যটক আসা কমে গেছে। এই সময়টা মানুষ অবসর পায়। বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়। অভিভাবকরা বাচ্চাদেও নিয়ে বেড়াতে বের হন। কিন্তু হরতালের ঘোষনা হওয়ার পর বেশ কয়েকটি বুকিং ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে।
হরতালের ঘোষনায় বুকিং বাতিল হওয়ার একই অভিযোগ করেন অধিকাংশ আবাসিক হোটেলের মালিকরা।

বনরূপা বাজারের হোটেল নিউআল-মদিনার প্রোপ্রাইটার দিদারুলআলম চৌধুরী বলেন, সারাবছরের মধ্যে এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি আমরা। কারণ এই সময় পর্যটক আসেন বেশি। গত কয়েকদিন বেশ ভালোই ব্যবসা করেছি। হোটেলে যেমন লোকজন এসেছে প্রচুর। পাশাপাশি অর্ডারও পেয়েছি অনেক। কিন্তু হঠাৎ করে হরতালের ঘোষনায় দিনদিন পর্যটক কমছে। এর মধ্যে অনেক পর্যটক শহর ছেড়ে আগেভাগেই ফিরে চলে গেছেন।

রিজার্ভ বাজারের হোটেল তাইপিং ও হোটেল সুন্দরবনের মালিক শামীম খান বলেন, বছরের এসময়টা আমাদের ব্যবসার আসল সময়। ব্যবসাও হচ্ছিল বেশ। কিন্তু হঠাৎ কওে হরতালের ঘোষনা দেয়ায় বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে পঞ্চাশ হাজার টাকার উপরে একটি হোটেলে বিক্রি হতো। হরতালের ঘোষনার পর তা নেমে এসেছে বিশ হাজারের নীচে।
বয়ন টেক্সটাইলের মালিক জহির আহম্মেদ বলেন, ঈদ,কোরবান,পূজা কিংবা বিজুর সময় যে বেচা কেনা হয়না, তার চেয়ে বেশি হয় পর্যটক আসার এসময়টাতে। কয়েকটি বছর হরতাল অবরোধের কারণে ব্যবসা মন্দা গেছে। গত বছর থেকে ব্যবসার কিছুটা উন্নতিহচ্ছে। এ বছরের শুরু থেকে ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই হরতালের ঘোষনায় বেচাকেনায় ধ্বস নেমেছে।
বোট মালিক মোঃ দিদার বলেন, পর্যটক আসার এই সময়টাতে হরতাল দিলে আমরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হই। বছরের অন্যান্য সময় পর্যটকদেও জন্য আমরা অধির আগ্রহে অপেক্ষায় থাকি। কিন্তু এই সময়টাতে পর্যটকদের চাপ থাকে বলে কোনো বোটই অলস পড়ে থাকেনা। হঠাৎ করে হরতালের ঘোষনায় এখন আমরা অনেকটা বেকার হয়ে পড়েছি।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন,হরতালের ঘোষনার পর পর্যটন করপোরেশনের বুকিং ইতোমধ্যে ২৫% বাতিল হয়েছে । এমাসের শুরু থেকে যেখানে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছিল, সেখানে এই দুই একদিনে পর্যটক আসা যেমন কমে গেছে,তেমনি অগ্রিম বুকিংও অনেক বাতিল হয়ে গেছে। ফলে পর্যটকের এই ভরা মৌসুমে অলস সময়ই কাটাতে হবে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমণ কমছে

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং থানা পুলিশের তৎপরতায় রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে করোনা সংক্রমন হার কমছে। কাপ্তাই উপজেলা …

Leave a Reply