নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী ও কন্যাকে ‘নাজেহাল’ করলো পুলিশ !

আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী ও কন্যাকে ‘নাজেহাল’ করলো পুলিশ !

kawkhali(rangamati)রাজনৈতিক মামলার আসামী ছেলেকে না পেয়ে পুলিশী কাজে বাধা দেয়ার ‘অভিযোগে’ আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতার স্ত্রী ও মেয়েকে থানায় ১৫ ঘন্টা আটকে রাখার পর,পিটুনি দিয়ে ও মুচলেকা নিয়ে ছেড়েছে পুলিশ ! রবিবার মধ্যরাতে রাঙামাটির কাউখালি উপজেলা সদরের বেতছড়ি গ্রামে ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামছুদ্দিনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। আটকের দীর্ঘ পনের ঘন্টা পর নানান দেনদরবার শেষে চার হাজার টাকা ‘ঘুষ’ আর ‘স্বীকারোক্তিমূলক মুচলেকা’ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে !

পুলিশি নির্যাতনের শিকার শামসুদ্দিনের কন্যা স্থানীয় মাদ্রাসার ফাজিল শিক্ষার্থী শাহানা আক্তার (১৮) জানান- রাত ১২ টার দিকে একদল পুলিশ জোড় করে তার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে কিন্তু রাত হওয়ায় শ্লীলতাহানির ভয়ে দরজা খুলিনি। এটা যে এতোবড় অপরাধ হবে বুঝতেই পারিনি বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই ছাত্রী। মেয়েটির দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া ছোট ভাই শহিদুল ইসলাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানায়- মহিলা পুলিশ ঘরে ঢুকেই আমার মা ও বোনকে থাপ্পর মারতে থাকে। পরে লাঠি দিয়ে মারে এবং থানায় নিয়ে যায়। নির্যাতনের স্বীকার শামসুদ্দিনের স্ত্রী জোহরা খাতুন (৫৬) বলেন, মহিলা পুলিশ এনে জোর করে ঘরে ঢুকে আমাদের বেধড়ক মারধর করে এবং একপর্যায়ে হাতকড়া পড়িয়ে টেনে হিঁচড়ে থানায় নিয়ে আটকে রাখে।

এদিকে ঘটনার শিকার ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সামছুদ্দিন (৭০) ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন,ঘটনার রাতে আমি বাসায় ছিলামনা। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন..আমি সরকারি দলের নেতা, পুলিশ বিনা কারণে আমার পরিবারকে পিটিয়ে হাতকড়া পড়িয়ে থানায় আটকিয়ে রাখে ! মুচলেকা আর ৪ হাজার টাকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনতে হয়েছে ! আমার স্ত্রী-সন্তানদের গায়ে হাত তুলেছে মহিলা পুলিশ ! এই কষ্ট,এই লজ্জা,অপমান আমি কোথায় রাখি ?? এই আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন,আমার ছেলে যদি দোষী হয় অবশ্যই তাকে পুলিশ ধরবে,এনিয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই,কিন্তু আমার স্ত্রী-কণ্যার সাথে যে ব্যবহার তারা করেছে তা জঘণ্য অপরাধ।

এদিকে দীর্ঘ পনের ঘন্টা আটকে রাখার পর ‘ঘরে ঢুকতে না দেয়ায় অপরাধ হয়েছে, ক্ষমা চাই’ মর্মে মুচলেকা দিয়ে রবিবার বিকাল ৪টার দিকে শাহানা আক্তার ও তার মা জোহরা খাতুনকে ছেড়ে দেয় হয়।

এ প্রসঙ্গে কাউখালী থানার ওসি শ্যামল কান্তি বড়–য়া জানান- অভিযোগ করলে লেখেন, অসুবিধা কি? মা ও মেয়েকে পুলিশ হয়রানি করেছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, মামলার আসামীকে ধরতে পুলিশ গেলে তারা বাধা প্রদান করায় তাদের থানায় ধরে আনা হয়েছে। তাদের সাথে কোন খারাপ আচরণ করা হয়নি বলে দাবি করে তিনি বলেন, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৫ অক্টোবর কাউখালিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মারামারির ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে ৪ টি মামলা হয়েছে শামসুদ্দিনের ছেলে নূরআলম এর ৩ টিতেই আসামী। তাকে ধরতেই তার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। পিতা আওয়ামী লীগ নেতা হলেও পুত্র স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লংগদুতে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন

খাদ্য মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার  রাঙামাটির লংগদু …

Leave a Reply