নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » আওয়ামী লীগের ইয়র্কার, বিএনপির বাউন্সার !

আওয়ামী লীগের ইয়র্কার, বিএনপির বাউন্সার !

uz-COVER-PIC-01বিএনপির অপেক্ষায় প্রার্থী ঘোষণা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে আছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি সিদ্ধান্ত নিলো মনোনয়ন যারা চাইছেন,তাদের সবাই মনোনয়নপত্র জমা দিবেন এবং আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত দেখার পর দলের একজন ছাড়া বাকীরা সবাই মনোনয়ন তুলে নিবেন ! এ যেনো ইয়র্কারের জবাবে বাউন্সার !

২৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসে আওয়ামী লীগ,সেদিন প্রার্থী চূড়ান্ত না করে পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা জানায় দলটি। কিন্তু ২৪ তারিখ প্রার্থী ঘোষণা না করে কৌশলের আশ্রয় নেয় দলটি। তারা সিদ্ধান্ত নেয়,বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করার পর তারা প্রার্থী ঘোষণা করবে। এ সিদ্ধান্তে দলীয় নেতাকর্মীরা ছাড়াও হতাশা ও ক্ষুদ্ধ হয় দলটির নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তে তাৎক্ষনিকভাবে বেকায়দায় পরে যায় বিএনপিও। কারণ ২৫ ফেব্রুয়ারি দলটির প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা ছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগের কৌশলী সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়ে তারা। সেদিন নির্ধারিত বৈঠকে দলটির ৯ জন শীর্ষ নেতা দীর্ঘ রূদ্ধদ্বার বৈঠক করেও শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলে বৈঠক শেষ করেন। কিন্তু ২৬ তারিখ আবার বৈঠক করে তারা যে সিদ্ধান্ত নেন,তাতে অবাক দলটির নেতাকর্মীরা। তারা সিদ্ধান্ত নেন,যেহেতু আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঘোষণা করেনি,তাই আপাতত: বিএনপির সকল প্রার্থীই মনোনয়ন জমা দিবেন,পরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেখে তারা নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করলে বাকী সবাই মনোনয়ন তুলে নিবেন ! বিএনপির এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে গেছে আওয়ামী লীগও ! তারা এখন নিজেদের করণীয় নির্ধারণে দ্রুতই আবার বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির একজন শীর্ষ নেতা। তবে বিএনপির সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তারা বলেন,এতো নাটকীয়তারতো কোন প্রয়োজন নাই !

বিএনপিতে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা মনোনয়ন সংগ্রহ ও জমা দিবেন,তারা হলেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম,জেলা বিএনপির সহসাধারন সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু,সদর থানা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন এবং মানস মুকুর চাকমা।

ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে যারা দলীয় ফোরামকে নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন,তারা হলেন কনক বড়ুয়া রিংকু,মাহফুজুর রহমান,মোঃ নুরন্নবী,আরিফুর রহমান,জাহিদুল ইসলাম,জামালউদ্দিন,সাব্বির আহম্মেদ,মিজানুর রহমান বাবু,আব্দুস শুক্কুর ও জসীমউদ্দীন।
আর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন মিনারা আরশাদ এবং শাহেদা আলম।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ আলম বলেন, ওরা(আওয়ামী লীগ) আমাদের প্রার্থী ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করার কৌশল নিয়েছে,আমরাও আমাদের কৌশল নিয়েছি। ট্রামের উপর ওভারট্রামওতো আছে ! এখন আওয়ামী লীগ প্রার্থীতা ঘোষণা করার পর আমরা চূড়ান্ত করব প্রার্থীতা।

এদিকে বিএনপির সিদ্ধান্তে বিস্মিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ এর বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মুছা মাতব্বর বলেন, ওরা(বিএনপি) যেহেতু নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা না করে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে,আমাদেরও কিছুটা কৌশলী হতে হবে আর কি ! দেখি কী করা যায়…

তবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই সাধারন সম্পাদক প্রার্থীতার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক কৌশলের মতো কৌশলী বক্তব্য দিলেও সাধারন ভোটাররা বলছেন,আওয়ামী লীগ ইয়র্কার ছুড়ে যে রাজনৈতিক কৌশলের পরিচয় দিয়েছে,বিএনপিও বাউন্সার ছুঁড়ে সেই কৌশলের পাল্টা জবাব দিয়েছে ! এই ধারা ৩১ মার্চ নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

ফুটবলের বিকাশে আসছে ডায়নামিক একাডেমি

পার্বত্য এলাকা রাঙামাটিতে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা, তৃনমূল পর্যায় থেকে ক্ষুদে ফুটবল খেলোয়াড় খুঁজে …

Leave a Reply