নীড় পাতা » বান্দরবান » ‘আওয়ামীলীগ রক্তপাতহীন ভাবেই সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে’

‘আওয়ামীলীগ রক্তপাতহীন ভাবেই সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে’

DSC_2215বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা দুর্গম পাহাড়ি কুরুকপাতায় বসেছে ¤্রােদের মিলন মেলা। এই মিলন মেলার মাধ্যমে বিপদগামী ৭৮ ¤্রাে যুবক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ হল। যারা ¤্রাে জাতির উন্নয়নে ¤্রাে ন্যাশনাল পার্টি (এমএনপি) গঠন করেছিল; শেষ পর্যন্ত সংগঠনের নীতি আদর্শ থেকে বিচ্ছুতি ঘটে তাদের। সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে। বিপদগামী ¤্রাে যুবকরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কারনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষগুলো। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাতে আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা সরকারি-বেসরকারি সুযোগ সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন।

জেলা পরিষদ সদস্য সিংইয়ং ¤্রাে জানান, বুধবার দুই গ্রুপের ৭৮ জন এমএনডিপি সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের কাছে এক ও দুই নলা বন্দুক ২৩টি, কাটা বন্দুক ৩২টি, গুলি ৯৯টি ও পোশাক ৭৬ সেট জমা দেন। এমএনডিপি দুই গ্রুপের একটি লোহব গ্রুপের ১৪জন ও মেনরুম গ্রুপের ৬৪ জন মোট ৭৮জন সদস্য আত্ব সমর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, চট্টগ্রামের সেনাবাহিনীর জিওসি শফিকুর রহমান, বান্দরবানের ব্রিগেড কমান্ডার নকিব আহমেদ চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসনের এডিসি (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক) আবু জাফরসহ ¤্রাে সোশাল কাউন্সিলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। ওই সময়ে কোনো ধরণের রক্তপাত ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে, বোঝা পড়ার মাধ্যমে ও রক্তপাতহীন উপায়ে আওয়ামী লীগ সরকার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে । অনুষ্ঠানের দিন আত্মসমর্পণকারী প্রতিজন সদস্যকে নগদ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জিওসি শফিকুর রহমান বক্তব্যে বলেন, সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির জন্য সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় যে বিচ্ছিন্ন গ্রুপের সৃষ্টি হয় তাও সুন্দরভাবে সমাধানে সেনাবাহিনী আপনাদের পাশে থেকে কাজ করে যাবে। তিনি আত্মসমর্পণকারী এমএনডিপি সদস্যদের উদ্দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে যোগ্যতা অনুসারে পাঁচজন সদস্যকে চট্টগ্রামের সেনাবাহিনীতে চাকুরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্যদেরকেও চাকুরীসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

আত্মসমর্পণকারী ¤্রাে সদস্যদের পক্ষ থেকে অতিথিদের কাছে উপস্থাপিত ১২টি দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- এমএনডিপির বিভিন্ন কর্মকা-ের জন্য যে সমস্ত মামলা মোকদ্দমা রুজু হয়েছে, সে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করা। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এমএনডিপি সকল সদস্যদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, ¤্রাে জনগণের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা, যে সকল ভূমি বা জমির ওপর ¤্রাে জনগণের দখল স্বত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত-সে সকল জমির ওপর অ-স্থানীয় ব্যক্তিদের আগ্রাসন ও জোরপূর্বক দখল বন্ধকরণ।

জানা গেছে, ¤্রাে ন্যাশনাল পার্টি (এমএনপি) সংগঠনটি ২০০৯ সালে গঠিত হয়। থানচি উপজেলা থেকে পূর্ব দিকে ৭০ কিলোমিটার দূরে গহীন অরণ্যে একটি ¤্রাে গ্রামে বা পাড়ায় সংগঠনটি গঠিত হয়। সংগঠনটি গঠন করা হলেও প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ ঘটেনি। সংগঠনটি গঠনের এক বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটির সভাপতি বা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মেনরুম ¤্রাে। সংগঠন পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহে সদস্যরা অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ২০১১ সালে একজন হেডম্যান (মৌজা প্রধান), একজন কার্বারি (পাড়া প্রধান) ও একজন স্থানীয়কে অপহরণের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। একই বছরে বাঙালি ব্যবসায়ীসহ এমএনপি দলের সদস্যরা পাঁচজনকে অপহরণ করে। মুক্তিপণ নিয়ে অপহৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জাল আলীকদম, থানচি, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে কঠোর প্রশাসন

নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে প্রতিদিনের ন্যায় বুধবারও রাঙামাটিতে …

Leave a Reply