নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র ৮ কোটি টাকার ‘টেন্ডার সমঝোতা’ !

আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র ৮ কোটি টাকার ‘টেন্ডার সমঝোতা’ !

porihahon strick  2nd day-01 001একপক্ষের অনঢ় অবস্থান ‘সর্বদলীয় সরকার’ আর অন্যপক্ষের ‘নির্দলীয় সরকার’র অধীনে নির্বাচনের দাবি,এনিয়ে টালমাটাল দেশের রাজনীতি,হরতাল অবরোধ,সহিংসতা,প্রাণহানি নিত্যদিনের ঘটনা। সরগরম সারাদেশের রাজনীতির মাঠ। পার্বত্য শহর খাগড়াছড়িও ব্যতিক্রম নয়। এখানেও বিএনপি‘র দুটি অংশই তৎপর সরকার বিরোধী আন্দোলনে। কিন্তু ঠিকাদারী কাজ পেতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আর আর বিএনপির নেতারা ঠিকই বিরল সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছেন এই জেলায় । স্বাভাবিক রাজনৈতিক সুসম্পর্ক না থাকলেও কাজ বাগিয়ে নিতে ঠিকই বাঘেমহিষে একঘাটে জল খেয়েছেন তারা।

টেন্ডার সমঝোতায় উভয়দলের নেতারা শুধু যে একাট্টা হয়েছেন,তাই নয়, টেন্ডার ড্রপিং এর আগেই সমঝোতার ভিত্তিতে জেলার কয়েকটি সরকারী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ সমান ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পিছিয়ে নেই এখানকার ‘পাহাড়ী’ ও ‘বাঙ্গালী’ তকমা লাগানো শহরের পৃথক দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানও। তবে বোল পাল্টে ঠিকই সবকিছু অস্বীকার করে বলছেন,ঠিকাদারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা বসেছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ বৈঠক করেননি !

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগের প্রায় পোনে ৮ কোটি টাকার ৭৫টি উন্নয়ন কাজের দরপত্র ড্রপিং হবার আগেই দলীয় নেতবৃন্দ ও ঠিকাদার সিন্ডিকেট বৈঠক করে এসব ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এছাড়াও বাজার ফান্ডের আরো একটি কোটি টাকার কাজও এই ভাগ প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে চলতি অর্থ বছরের প্রথম টেন্ডারের ১১টি কাজ, পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রথম ও দ্বিতীয় টেন্ডারের উনষাটটি কাজ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অন্তত ৫টি কাজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। এরমধ্যে উন্নয়ন বোর্ডের কাজগুলোর ড্রপিং ২৫ নভেম্বর, পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রথম টেন্ডার ২৬ নভেম্বর ও দ্বিতীয় টেন্ডার ২৭ নভেম্বর ড্রপিং হবার কথা।

এদিকে প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র যৌথ এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ঠিকাদারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে অজ্ঞাত কারনেই কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। টেন্ডার সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া উভয়দলের নেতাদের মধ্যে এনিয়ে নানা গুঞ্জন উঠেছে।

বুধবার পৌরসভা ভবনে খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি‘র প্রভাবশালী অংশের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে পৃথক বৈঠক করেন খাগড়াছড়ির পাহাড়ী ও বাঙ্গালীদের দুটি ঠিকাদার সমিতির নেতৃবৃন্দ। গুঞ্জন উঠেছে, মাঠে বৈরি রাজনৈতিক সংগঠন দুটির নেতারা মূলত: ঠিকাদারী কাজের বিষয় আশয় নিয়েই সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন।

নাম প্রকাশে অন্চ্ছিুক বেশ ক‘জন ঠিকাদার অভিযোগ করেছেন, খাগড়াছড়ির উন্নয়ন কাজগুলোর ভাগবাটোয়ারার উদ্দেশ্যে বুধবার সকালের বৈঠকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব জাহেদুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রণ বিক্রম ত্রিপুরা, এস এম শফি, নির্মলেন্দু চৌধুরী, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম, খাগড়াছড়ি ঠিকাদার সমিতির সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী, সেক্রেটারী দিদারুল আলম, রনজিত কুমার দে, উপজাতীয় ঠিকাদার সমিতির সদস্য সচিব দীপায়ন চাকমাসহ আরো ক‘জন বিশিষ্ট ঠিকাদার ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে একই দিন বিকালে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়ার কাছের লোক হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি অনিমেষ দেওয়ান নন্দিত, বেলায়েত হোসেন, আইয়ুব মিয়া, তাজুল ইসলাম বাদলদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন জেলার দুটি ঠিকাদার সমিতির নেতারা।

এসব বৈঠকের সূত্রগুলো জানিয়েছে, টেন্ডার আগাম ভাগাভাগিতে প্রাধান্য পেয়েছে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আর ঠিকাদার সমিতি। ক্ষমতাসীন দল হওয়া সত্বেও কাজের ২০ ভাগ আওয়ামীলীগ, ২০ ভাগ বিএনপি পাচ্ছে। কাজের বাকী ৬০ ভাগ পাবে দুটি পাহাড়ী ও বাঙ্গালী ঠিকাদার সমিতি সমান ভাগ নিশ্চিত করে নিয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারী জাহেদুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি বিএনপি নেতাদের সাথে বসেননি,ঠিকাদারদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঠিকাদারদের নিয়েই বসেছিলেন।
জেলা আওয়ামীলীগ নেতা নির্মলেন্দু চৌধুরী দাবী করেন, ঠিকাদারী কাজের ভাগাভাগি নিয়ে তারা বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠক করেননি। ঠিকাদারদের সাথে বসেছেন।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সম্পাদক তাজুল ইসলাম বাদল বৈঠকটিকে ‘সামাজিক’ বলে দাবী করেছেন।

তবে সেদিন বিশেষ বৈঠকে অংশ নেয়া আওয়ামীলীগ ও বিএনপি‘র অধিকাংশ নেতাই মন্তব্য করতে রাজি হননি। কেউ কেউ আবার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, তারা এ ধরনের কিছুই জানেন না।
সমঝোতা বৈঠকে অংশ নেয়া খাগড়াছড়ি ঠিকাদার সমিতির যুগ্ন আহবায়ক রনজিত কুমার দে জানিয়েছেন, ‘সব রাজনৈতিক দল ও ঠিকাদারদের উন্নয়ন কাজের অংশিদার করতেই আমরা বৈঠক করেছি।’ দুইজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেনলন, এই প্রক্রিয়ার ফলে সকলেই লাভবান হবেন। সাধারন ঠিকাদাররাও সুবিধার বাইরে থাকছেন না। তারা যুক্তি হিসেবে দেখাচ্ছেন, এমন না হলে ক্ষমতাসীনরাই টেন্ডারগুলো ভাগ করে নেয়ার আশংকা থাকতো।
এ ব্যাপারে পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন রোয়াজা জানান, ‘বাইরে কে বা কারা বসেছে, তা আমার জানার কথা নয়। তবে সন্তোষজনক সিডিউল বিক্রি হয়নি।’

এদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে নেতৃত্ব দেয়া ঠিকাদাররা সোমবার বিকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বিভাগের ৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের ভাগাভাগি নিয়েই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। বিকালে কাজের অংশিদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পৌরসভা ভবনে বৈঠক করেছেন তারা। তবে সংশ্লিষ্টরা পুরোদমেই বিষয়টি অস্বীকার করছেন। তবে পুরো শহর জুড়েই সরব আলোচনা প্রধান দুইদলের ‘সমঝোতা’ আর ‘পাহাড়ী’ আর ‘বাঙালি’ নামের দুই ঠিকাদার সমিতির ‘মধ্যস্থতা’ নিয়েই।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

খাগড়াছড়িতে ইয়াবাসহ আটক ২

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের গামারিঢালা থেকে ১ হাজার ৪৮০ পিস ইয়াবাসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশের …

Leave a Reply