নীড় পাতা » পাহাড়ের সংবাদ » আওয়ামীলীগে পাড়ি জমাচ্ছে লংগদু বিএনপির ২ হাজার নেতাকর্মী !

আওয়ামীলীগে পাড়ি জমাচ্ছে লংগদু বিএনপির ২ হাজার নেতাকর্মী !

BNP-Flag-COver-pic-02রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাচনের পর রাঙামাটি বিএনপিতে সৃষ্ট ‘সন্দেহ’ ‘ অবিশ্বাস’ ‘ভুলবোঝাবুঝি’র ঢেউ আঁছড়ে পড়েছে বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লংগদু উপজেলাতেও। উপজেলা নির্বাচনকে সেখানেও বিএনপিতে সৃষ্ট তিক্ত বিরোধ,বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী ফয়েজুল আজিমকে বহিষ্কার করা,এবং নির্বাচনে ‘জামাত’র সাথে বিশেষ নেগোশিয়েশন-এ বিএনপি প্রার্থী সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও উপজেলা বিএনপিতে সৃষ্ট ‘অস্বস্তি’ এবার বেশ ভোগাতে শুরু করেছে।

উপজেলা নির্বাচনের পর সৃষ্ট নানা বাস্তবতায় হাজী ফয়েজুল আজিম,উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক বগাচত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াসেক আলী আকন্দ,কালাপাকুজ্যা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহমান সহ বিএনপির একটি বিশাল কর্মী বাহিনী আওয়ামীলীগের যোগ দিচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের বেশকিছু দায়িত্বশীল সূত্র।

এনিয়ে ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাচনের পর দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে। সর্বশেষ গত রোববার রাতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজেও ‘বিশেষ ভোজ’-এ যোগদানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল সূত্রটি।

সূত্রটির দাবি,আগামী ১০ এপ্রিল উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত একটি বিশাল শোডাউন শেষে প্রায় দুইহাজার নেতাকর্মীসহ আওয়ামীলীগে যোগ দিবেন বিএনপির তোফাজ্জল বিরোধী ও ফয়েজপন্থী হিসেবে পরিচিত নেতাকর্মীরা। উক্ত যোগদান অনুষ্ঠান লংগদুতেই হবে এবং সেখানে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতাও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

কঠোর গোপনীয়তার মধ্যেই চলছে যোগদানের পুরো প্রক্রিয়া। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য হাজী ফয়েজকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ প্রায় সবগুলো সূত্রই নিশ্চিত করেছেন,যোগদানের বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
অন্যদিকে লংগদু উপজেলা ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের চারজন দায়িত্বশীল নেতা যোগদানের প্রক্রিয়া চলছে বলে স্বীকার করলেও এখনই কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক যোগদানের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তবে সম্ভাব্য যোগদানকারিদের কয়েকজন এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,লংগদু উপজেলা একসময় বিএনপির ঘাঁটি ছিলো,কিন্তু দলে ‘সমঅধিকার’ নেতা হিসেবেই বেশি পরিচিত তোফাজ্জল এর কারণে ত্যাগি ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা দলে অবহেলিত হতে শুরু করে,এমনকি সমঅধিকার এর সমর্থনে চেয়ারম্যান হয়ে সেই ‘সমঅধিকার’র সাথেই বেঈমানি করে সংগঠনটি ত্যাগ করেন তোফাজ্জল। তার ব্যক্তিগত ঈর্ষা ও জিঘাংসার কারণে দলের অনেক নেতাকর্মী দলছাড়া ও নিষ্ক্রিয় হতে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি তাদের।

এই বিষয়ে যোগাযোগ করেও তোফাজ্জল হোসেন এর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচনে পরাজিত পক্ষটি এখন নানা টালবাহানা করছে জাতে উঠার জন্য। কিন্তু এতেও তারা হালে পানি পাবেনা।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো: মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, লংগদুতে বিএনপির কয়েকহাজার নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে যোগ দিবে,আগামী ১০ এপ্রিল এই যোগদান অনুষ্ঠানটি হবে লংগদুতেই। তারা কেনো বিএনপি ছাড়ছে এটা তাদের ব্যাপার,তবে তারা আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শের শ্রদ্ধাশীল থাকবে,সেটা আমাদের প্রত্যাশা।

অন্যদিকে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: শাহ আলম বলেন,হাজী ফয়েজ’র নেতৃত্ব বেশ কিছু বিএনপি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদিচ্ছেন বলে জেনেছি,কিন্তু তারা ঠিক কতজন তা এখনো জানিনা। যদ্দুর জেনেছি,দলছাড়াদের মধ্যে ফয়েজ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় ক্ষুদ্ধ এবং বাকীরা তোফাজ্জলের উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে দল ত্যাগ করছে,আমরা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছি,সবার সাথে কথা বলছি।

প্রসঙ্গত,লংগদু উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৯ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হোন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী ফয়েজুল আজিম,তার প্রাপ্ত ভোট ৮ হাজার ৮০৮। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকার পেয়েছেন ৮ হাজার ৩২৪ ভোট।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

বান্দরবানের লামা উপজেলার রুপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাচিং প্রু মারমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা …

Leave a Reply