আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠানে হেফাজত নেতার মোনাজাত পরিচালনা !

জেলার দীঘিনালা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মোনাজাত পরিচালনা করেছেন হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা। এমনকি জাতীয় শোক দিবসে দলীয় শোকসভায়ও কোরআন তেলোয়াত করানো হয় তাঁকে দিয়ে। এ ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে। হেফাজতে ইসলামের ওই নেতার নাম মাওলানা জামালুল আহসান। তিনি দীঘিনালা উপজেলা সদর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম।

জামালুল আহসানকে আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে কে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তা দলের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। শোকসভার উপস্থাপক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম রাজু বলেন, ‘ওই হুজুরকে কে দাওয়াত দিয়েছেন আমি জানি না। আর তিনি হেফাজত করেন কি না তাও ঠিক বলতে পারছি না। তবে হেফাজতকে সমর্থন করে থাকতেও পারেন।’

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম বলেন, ‘আমি দেরিতে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় এ সম্পর্কে কিছুই জানি না। তবে হেফাজত নেতা ও বিতর্কিত ওই মাওলানা কীভাবে আওয়ামী লীগের শোকসভায় আসলেন এবং কোরআন তেলোয়াত করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহুল আলোচিত ২০১৩ সালের ৫ মে লোকজন নিয়ে ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন মাওলানা জামালুল আহসান। এর আগে হেফাজতের ডাকে হরতাল কর্মসূচিতে দীঘিনালায় রাজপথে বেশি সক্রিয় ছিলেন তিনি। তিনি ওই এলাকার হেফাজতে ইসলামের সমন্বয়কারী।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে দীঘিনালায় গড়ে ওঠা গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙ্চুর, কথিত নাস্তিক ইস্যু তুলে দীঘিনালায় লাঠিমিছিল বের করার নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। কালের কণ্ঠে ওই সময় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। সর্বশেষ গত শবে বরাতের রাতে ‘কবর জেয়ারত হারাম’ অভিহিত করে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই হেফাজত নেতার নেতৃত্বে তাঁর মতাদর্শবিরোধী মুসল্লিদের ওপর দীঘিনালা কবরস্থানে হামলা চালানো হয়। এছাড়া প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় ‘মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক বক্তব্য’ দিয়ে থাকেন তিনি। এমন কি দীঘিনালা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রায়ই হেফাজতের গোপন বৈঠক হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক মুসল্লি কালের কণ্ঠকে জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় গণজাগরণ মঞ্চের একজন সংগঠক বলেন, ‘মাওলানা জামালুল আহসান হেফাজতের স্থানীয় সমন্বয়কারী। তাঁর নেতৃত্বে ওই সংগঠনের সব কাজ সংঘটিত হয় এখানে।’

নাম প্রকাশ করা যাবে না শর্তে গণজাগরণ মঞ্চের আরেক কর্মী বলেন, ‘ওই মাওলানার নেতৃত্বে গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুর হলেও উল্টো পুলিশি নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে আমাদের কর্মীদের। পুলিশ সব কিছু জানলেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

দীঘিনালা গাউছুল আজম জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জানি জীবনের ওপর হুমকি আছে। তবু বলি, মাওলানা জামালুল হলেন দীঘিনালা, মারিশ্যা, লংগদুসহ আশপাশ এলাকার হেফাজতের প্রধান নেতা। তাঁর কথায় চলে সব কিছু। এখানে হেফাজতের সাংগঠনিক তৎপরতা তাঁকে ঘিরেই পরিচালিত হয়।’

একই মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সারওয়ার বলেন, ‘গত শবে বরাতের রাতে জামালুল আহসানের নেতৃত্বে ও উস্কানিতে কবর জেয়ারতকালে হামলার ব্যাপারে থানায় মামলা করার পরও প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বিষয়টি দেখার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমও পুলিশকে তাগাদা দিয়েছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুলিশ নীরব রয়েছে।’

ওই হামলার ঘটনায় গত ৭ জুন দীঘিনালা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। অথচ দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন টিটু মামলাটির কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে  বলেন, ‘এ ধরনের মামলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।’

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার দীঘিনালায় ওই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শোকসভাটি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এক পর্যায়ে শোক সমাবেশে পরিণত হয়। এতে দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির নেতা মোহাম্মদ ইসলাম বাচাসহ পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কাশেমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য শতরূপা চাকমা প্রমুখ। এর আগে একটি শোকযাত্রা দীঘিনালা বাজার প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সবশেষে কাঙালি ভোজে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

কারাতে ফেডারেশনের ব্ল্যাক বেল্ট প্রাপ্তদের সংবর্ধনা

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশন হতে ২০২১ সালে ব্ল্যাক বেল্ট বিজয়ী রাঙামাটির কারাতে খেলোয়াড়দের সংবধর্না দিয়েছে রাঙামাটি …

Leave a Reply