নীড় পাতা » খাগড়াছড়ি » দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতায় আওয়ামীলীগ সম্পাদকের পরিবার !

দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতায় আওয়ামীলীগ সম্পাদকের পরিবার !

Untitled-1খাগড়াছড়ি পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শানে আলম বিরোধিতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাহেদ পরিবার।আওয়ামীলীগ প্রার্থী শানে আলমের বিরোধিতা করে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়ায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহেদুল আলমকে নিয়ে খোদ দলের মধ্যেই সমালোচনা উঠেছে। বিষয়টি জাহেদুল আলমের জন্যে আত্মঘাতী হতে পারে বলেও অনেক নেতাকর্মী জানিয়েছেন। এদিকে তাকে দলে নবাগত অভিহিত করে গুটিকয়েক নেতার অপপ্রচারে কান না দিয়ে শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে সকলকে কাজ করার জন্য জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা আহবান জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম পুনরায় নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। রফিকুল আলম জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহেদুল আলমের ছোট ভাই হওয়ায় তাঁর ‘বিরোধিতা’ প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শানে আলমও জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি জাহেদুল আলমের আপন জেঠাতো ভাই।

খাগড়াছড়ি আওয়ামীলীগে বিশেষ প্রভাব জাহেদ পরিবারের। জাহেদুল আলমের ছোট ভাই দিদারুল আলম জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক। বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত নন। অপর দুই ভাইও সরাসরি কোন দল করেন না।

কেবল জাহেদুল আলমই নন; বর্তমান ক্ষতাসীন দলের আরেক প্রভাবশালী নেতা তাঁরই ছোট জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক দিদারুল আলমও স্বতন্ত্র প্রার্থী বড় ভাই রফিকুল আলমের পক্ষে নির্বাচনী কাজের সমন্বয় করছেন। জানা গেছে, মূলত: দিদারুল আলমের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রফিকুল আলমের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। ফলে আওয়ামী পরিবারে কিছুটা হলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের বহু নেতাকর্মী সরাসরি মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেন না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলছেন, জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারির ভাই হবার কারনেই খাগড়াছড়ি পৌরসভায় সরকার ও দাতাগোষ্ঠিসমূহের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ আনা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়; খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাসমূহের সব টেন্ডার ভাগাভাগি করেন জাহেদুল আলম পরিবারের সদস্যরা। প্রভাব খাটিয়ে জেলার কোটি টাকার অধিকাংশ উন্নয়ন কাজ হাতিয়ে নিয়েছেন পৌরসভা মেয়র রফিকুল অথবা দিদারুল আলম। সুবিধার সব কিছুতেই প্রভাব জাহেদ পরিবারের।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, ‘তৃনমূলের মতামত ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচন করায় সংকট তৈরী হয়েছে। তবে আ.লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো কী করবোনা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি।’

খাগড়াছড়ি পৌরসভার আওয়ামীলীগের প্রার্থী শানে আলম জানিয়েছেন, প্রকাশ্য প্রচার প্রচারণায় এখনো তিনি মাঠে নামেননি। তিনি বলেন, ‘যেহেতু নেত্রীর মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছি; নিশ্চয়ই জেলা আওয়ামীলীগ, তৃনমূলের সকল নেতাকর্মী এবং দলমত নির্বিশেষে সাধারন মানুষ আমার পাশে থাকবেন।’ প্রতীক সাথে নিয়ে প্রচারনায় নামলে গণজোয়ার তৈরী হবে বলেও আশাবাদ জানিয়েছেন তিনি। জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি জাহেদুল আলমের বিরোধিতা প্রসঙ্গে বলেন, ‘তাঁর ছোট ভাই রফিকুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও যেহেতু আমি দলের (আ.লীগ) প্রার্থী হয়েছি, আমাকেও ছোট ভাইয়ের মত কাছে টানবেন; এমন আশা ছাড়িনি।’

এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহেদুল আলম নবাগত প্রার্থী হিসেবে শানে আলমের পক্ষে কাজ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি আবারও বলেছেন, কোনমতেই আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। নিজের অবস্থান হতে এখনো সরে আসেননি বলেও পুনরায় অভিমত ব্যক্ত করেন। অবশ্য গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শানে আলমের পক্ষেই কাজ করেছিলেন তিনি।

জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেছেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়’ এমন পরিস্থিতিতে জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি জাহেদুল আলম ভিন্ন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাছাড়া আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থীর বাইরে কাজ করার সুযোগ কারো নেই। জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীও একই অভিমত ব্যক্ত করে বলেছেন, শেষ পর্যন্ত দলের সবাই কাজ করে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জেলা পর্যায়ের নেতা অতীতের নানা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয়া জেলা সেক্রেটারি জাহেদুল আলমের জন্যে আত্মঘাতী হতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহেদুল আলম আওয়ামীলীগ প্রার্থী যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার পক্ষে কাজ না করে উল্টো স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। তখন তিনি আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে ‘লালকার্ড’ দেখানোর ঘোষনা দিয়েছিলেন। এ কারনে তিনি বহিস্কার হন। অবশ্য নানা প্রেক্ষাপটে তাকে পুনরায় দলে ইন করানো হয়। এরপর বিগত পৌরসভা নির্বাচনে জাহেদুল আলমের ছোট ভাই রফিকুল আলম মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে পুনরায় সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় জাহেদুল আলম আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে জোরালোভাবে অংশ গ্রহন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী নুরুন্নবী চৌধুরী পরাজিত হন। বিজয়ী হন জাহেদুল আলমের ভাই রফিকুল আলম।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে এক দিনেই ১১ জনের করোনা শনাক্ত

শীতের আবহে হঠাৎ করেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি জেলায় করোনা সংক্রমণে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েকদিনের …

Leave a Reply