নীড় পাতা » পাহাড়ের রাজনীতি » আঁধার কেটে আসুক আলো

আঁধার কেটে আসুক আলো

candle-picউদ্বেগ, উৎকন্ঠা, আতংক থেকে মুক্তি পাচ্ছে না পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ। পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের কথা বলে চলা আঞ্চলিক রাজনীতি ব্যস্ত এখন ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতসহ নানা সহিংস ঘটনায়। একের পর এক সহিংস ঘটনার কারণে এক প্রকার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পাহাড়ের মানুষ।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বাসবাসরত পাহাড়ী জনগনের অধিকার আদায় রাজনৈতিক দলগুলোর মূল লক্ষ্য। কিন্তু দিনে দিনে তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার, চাদাঁবাজি, গোলাগুলি, অপহরণের মত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে। আর এসব কারণে দলগুলো জড়িয়ে পরছে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে।

ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত দৃশ্যমান হলেও জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা) তা মানতে রাজি নয়। তারা বলছে, আদর্শগত সংগ্রাম চললেও তারা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছেননা; চুক্তির বিরোধীতা ও পূর্ন স্বায়ত্বশাসনের নামে মূলত: ইউপিডিএফ মানুষ হত্যা আর চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে। অন্যদিকে ইউপিডিএফ বরাবরের মতই বলেছে তারা ‘ভ্রাতৃঘাতি সমস্যার’ সমাধান চায় বলেই সন্তু লারমার প্রতি বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দিয়েছে। এমএন লারমার আদর্শবাহী জনসংহতি সমিতির অপর অংশও ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের নিরসন চায়।

চুক্তির পর থেকে এই আজ অবদি ভ্রাত্রিঘাতি সংঘাতে প্রাণ গেছে ৬শ অধিক মানুষ। এছাড়া পঙ্গুত্ব বরণ, অপহরণ, গুমের ঘটনায় আরো অসংখ্য পাহাড়ী ভ্রাত্রিঘাতি সংঘাতের স্বীকার হন। জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা অভিযোগ করেছেন, চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ তাদের ৯৩ জন সক্রিয় সদস্যসহ তিন শতাধিক সমর্থক শুভাকাংখীকে হত্যা করেছে।

সহস্রাধিক নেতাকর্মী, সদস্য ও সমর্থককে অপহরন করা হয়েছে। ইউপিডিএফ‘র মিডিয়া প্রধান নিরন চাকমা দাবী করেন, বিগত ১৭ বছরে পাহাড়ে তাদের ২শ ৭৬ জন নেতাকর্মী খুন বা গুম হয়েছেন প্রতিপক্ষ সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির হামলায়। অন্যদিকে জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) গ্রুপের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তাদের ৩০ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস এর হাতে। তবে এখন ভ্রাত্রিঘাতি সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খাগড়াছড়ির উন্নয়ন কর্মী মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, দিন যতই যাচ্ছে পাহাড়ে রক্তক্ষয়ি সংঘাত ততই বাড়ছে। পাহাড়ীদের জন্য এই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত অনেক বড় ক্ষতি। আমরা আর কোন মেধা হারাতে চাইনা। মা যেন না হারায় তাঁর সন্তান। নতুন বছরটি হোক ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের বছর।

নারী নেত্রী নমিতা চাকমা ও বাঁশরী মারমা জানান, ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাতে কোন সমাধান আসবেনা। আঞ্চলিক দলগুলো রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে গনতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলুক।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের জেলা সাধারন সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পাহাড়ী সংগঠনগুলোর অনৈক্য আর বিবাদের কারনে মূলত: পাহাড়ীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো নেতৃত্বস্থানীয়রা ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে পাহাড়ে অদূর ভবিষ্যতে শান্তি আসবে। আর এগিয়ে আসাটি এখন থেকে শুরু হোক।

এদিকে একই কথা জানালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা)র সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা। তিনি বলেন, ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জুম্ম জাতির ক্ষতির কারণ। ভ্রাত্রিঘাতি সংঘাতে যারা লিপ্ত তারাও বুঝেন কিন্তু মুষ্টিময় কিছু নেতার কারণ তা বন্ধ হচ্ছে। তিনি রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইউপিডিএফ‘র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, ভ্রাতৃঘাতি নয়; বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে সন্তু লারমার প্রতি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। জেএসএস‘র পক্ষ হতে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা। সন্তু লারমাই সংঘাত জিইয়ে রেখেছেন। সন্তু লারমার একগুয়েমির নেতিবাচক শিকার হচ্ছেন সাধারন পাহাড়ীরা। আমরা এখনো ঐক্যের স্বার্থে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, জেএসএস চুক্তির পর হতেই গনতান্ত্রিক আন্দোলন করছে। এটাকে ভ্রাতৃঘাতি বলতে রাজি নন তিনি। তার দাবি, এটা হলো আদর্শগত সংগ্রাম। উল্টো ইউপিডিএফ চুক্তি বিরোধীতার নামে জেএসএস সদস্য ও সমর্থক সাধারন মানুষকে হত্যা করছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়ন হয়ে গেলে এসব সংঘাত এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, নানা মত পথের লোক থাকবে; থাকবে রাজনীতিও। কিন্তু সংঘাত বন্ধ হলে সবার জন্যই মঙ্গল হবে। শান্তি আসবে পাহাড়ে…।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

লকডাউনে ফাঁকা খাগড়াছড়ি, বাড়ছে শনাক্ত

সারা দেশের মতো দ্বিতীয় দফায় সরকারের ঘোষিত লকডাউন চলছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে। প্রথম দফার লকডাউন …

Leave a Reply