নীড় পাতা » ফিচার » পর্বতকন্যা » অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের মাধ্যমে ট্যুরিজমকে জনপ্রিয় করা সম্ভব: পার্বত্য মন্ত্রী

পাঁচ দিনের বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসব সমাপনী

অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের মাধ্যমে ট্যুরিজমকে জনপ্রিয় করা সম্ভব: পার্বত্য মন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্প্রীতি অঞ্চল অভিহিত করে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং এমপি বলেছেন, খেলাধূলার মাধ্যমে একে-অন্যের সাথে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সম্ভব হয়। অ্যাডভেঞ্চার উৎসব এই এলাকার ট্যুরিজমকে জনপ্রিয় করা এবং তরুণ সমাজকে উদ্যমী, চ্যালেঞ্জপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। হিংসা-বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনও কিছু অর্জন হয় না, মৈত্রীভাবের মাধ্যমে সকল বাধা দূর করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরx বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিন পার্বত্য জেলায় ৪০ হাজার পরিবারকে বিনামূল্যে সোলার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ২২০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামও পিছিয়ে নেই, সব সমস্যা সমাধান করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

বীর বাহাদুর শুক্রবার বিকেলে পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজিত বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রাঙামাটি চিং হ্লা মং চৌধুরী মারী স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে গত ১১ জানুয়ারি থেকে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু অ্যাডভেঞ্চার উৎসব। সমাপনী দিনে উৎসবে অংশ নেয়া ১০০ প্রতিযোগী ফুরোমন পাহাড় আরোহণের মাধ্যমে তাদের ইভেন্ট সম্পন্ন করে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এতে আরো উপস্থিত ছিলেন তথ্য কমিশনের সচিব সুদত্ত চাকমা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, অ্যাডভেঞ্চার ফেস্টিভলের মাধ্যমে দেশের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন সম্পদের সম্ভাবনা প্রসারিত ও বিকশিত হবে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উপস্থাপন করা, রোমাঞ্চপ্রিয় তরুণ-তরুণীদের উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে জনপ্রিয় করে তোলা। আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এই উৎসব শুরু করেছি, অংশগ্রহণকারীদের স্পিরিট দেখে মনে হচ্ছে আমরা সেটা সফল হয়েছি। হান না মানা ও অদম্য সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই মন্ত্রটা আমরা দেখেছি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।

পাঁচদিনের এই উৎসবে পর্বতারোহণ, নৌবিহার, কায়াকিং, হাইকিং ও ট্রেইল রান, টিম বিল্ডিং, ট্রেজার হান্ট, ট্রেকিং, ক্যানিওনিং, ট্রি ট্রেইল, রোপ কোর্স, মাউন্টেইন বাইক, জিপলাইন, রেপলিং, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন ও কেভ ডিসকভারি ইভেন্টসমূহ অনুষ্ঠিত হয়।

এই আয়োজনের সহযোগিতায় রয়েছে পার্বত্য জেলা পরিষদ, বাংলাদেশ অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা স্কাউট, রোভার, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, বিভাগ ও দপ্তর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

স্বাস্থ্য বিভাগকে সুরক্ষা সামগ্রী দিলো রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটির ১২টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্য …

Leave a Reply